প্রশাসনের বাঁধা না মেনেই সিঙ্গুর থেকে নবান্নের পথে বাম যুব সংগঠন

0
18

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ায়  সিঙ্গুর থেকে নবান্ন পর্যন্ত পায়ে হেঁটে কর্ম ও শিক্ষার দাবিতে যে মিছিলের উদ্যোগ বাম যুব সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তাতে অনুমোদন দেয় নি রাজ্য প্রশাসন।  বুধবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডিওয়াইএফের রাজ্য সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় জানান,তাঁরা বার বার রাজ্য প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে মিছিলের অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু তার কোন উত্তর প্রশাসনের তরফে মেলেনি।এমনকী তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীরকাছে দেখা করার অনুমতি চেয়েও চিঠি দিযেছিলেন তারও কোন উত্তর পাওয়া য়ায় নি।তবে বুধবার মিনাক্ষীদেবী পরিষ্কার জানিয়ে দেন,তাঁরা তাদের ঘোষণা মত বৃহস্পতিবার সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযান করবেন প্রশাসন বাঁধা দিলে তার মোকাবিলা করা হবে বলেও জানিয়ে দেন ডিওয়াইএফের রাজ্য সভানেত্রী।

গত প্রায় একমাসেরও বেশী সময় ধরে ১২টি বাম যুব সংগঠন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বেকারদের চাকরীর সংস্থান,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারের আর বড় ভূমিকা নেওয়ার দাবিতে মানুষকে প্রতিবাদের রাস্তায় নামার আহ্বান করে আসছে।সিঙ্গুরে যেখানে একসময় বাম সরকার টাটার ন্যানো কারখানা গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সেই জায়গা থেকেই এ রাজ্যের শিল্প-মন্দার বিরুদ্ধে মানুষকে শিল্প ও কর্মস্ংস্থানের পক্ষে আওয়াজ তুলতে আদ্বান করে বাম যুব সংগঠনগুলি ১২-১৩ তারিখ পর্যন্ত রাস্তায় হাঁটার কর্মসূচি নিয়েছে।প্রশাসন না চাইলেও এই মহামিছিল হবে বলে জানিয়েছেন ডিওয়াইএফের রাজ্য সম্পাদক সায়নদীপ মিত্রও।বামদের রাস্তায় নামার এই উদ্যোগকে ঘিরে বাম কর্মীরা লাগাতার একমাস ধরে নানা প্রস্তুতিও শুরু করেছিল।প্রতীকি চাকরীর আবেদন পত্র গ্রহণ করা হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে।বাম যুব নেতা কর্মীরা সেই আবেদন পত্র বস্তায় করে নবান্নে নিয়ে যাবারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে বাম শক্তি যে ভাবে একেবারে তলানিতে এসে পৌঁচেছে তাতে যুব সংগঠনগুলিকে পথে নামিয়ে সিপিএম আবার নতুন উদ্যমে শক্তি সঞ্চয় করতে পথে নামার প্রস্তুতি নিতে চাইছে বলেই অনেকে মনে করছেন।ডিওয়াইএফের রাজ্য সভানেত্রী অবশ্য এ বিষয়ে অকপটেই জানালেন,’কোন সন্দেহ নেই গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে বামদের শক্তি অনেকটাই কমেছে,তবে আমরা মনে করি গোটা দেশে যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা মোকাবিলা করতে একমাত্র বামদের উপস্থিতিই দরকার,দেশের যে গভীর উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে বাম ছাত্র-যুবরা ছাড়া তার মোকাবিলা করার সাদ্য অন্য কোন দলের নেই,মানুষ সেটা তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই বুঝতে পারছেন,তাই আমাদের কথা মানুষ শুনছেন,আমাদের সঙ্গে আসছেন,আমরা বিশ্বাস করি মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আবার আমরা এ রাজ্যে বাম শক্তিকে বড় জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো।১২-১৩ তারিখের মহামিছিল তারই প্রমাণ দেবে।’