বাম ছাত্রযুবদের নবান্ন অভিযানে পুলিসের বেধড়ক লাঠিচার্জ। হামলার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধেও

0
16

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ায়  সিঙ্গুর থেকে নবান্ন পর্যন্ত বাম ছাত্র যুবদের এর মিছিল ঘিরে হাওড়ার মল্লিক ফটক এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শুক্রবার। পুলিসের ব্যারিকেড ভেঙে নবান্নের উদ্দেশে যেতে গেলে পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় বাম  ছাত্র যুব কর্মীদের। মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে বেধড়ক  লাঠি চালায় পুলিস। অাহত হন  DYFI  এর রাজ্য সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সহ বেশ অন্তত ৬০জন ছাত্র যুব। DYFI  এর রাজ্য সম্পাদক সাতদিন.in জানিয়েছেন পুলিসের সঙ্গে হামলা চালিয়েছে তৃণমূল গুন্ডারাও। তাঁর অভিযোগ এলাকার বাড়ির ছাদ থেকে বোমাও ছোড়ে তৃণমূল অাশ্রিত দুষ্কৃতীরাও। ডিজি অবশ্য দাবি করেছেন শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে মিছিল।

পায়ে হেঁটে কর্ম ও শিক্ষার দাবিতে যে মিছিলের উদ্যোগ বাম যুব সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে তাতে অনুমোদন দেয় নি রাজ্য প্রশাসন।  বুধবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডিওয়াইএফের রাজ্য সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় জানান,তাঁরা বার বার রাজ্য প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে মিছিলের অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু তার কোন উত্তর প্রশাসনের তরফে মেলেনি।এমনকী তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীরকাছে দেখা করার অনুমতি চেয়েও চিঠি দিযেছিলেন তারও কোন উত্তর পাওয়া য়ায় নি।তবে বুধবার মিনাক্ষীদেবী পরিষ্কার জানিয়ে দেন,তাঁরা তাদের ঘোষণা মত বৃহস্পতিবার সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযান করবেন প্রশাসন বাঁধা দিলে তার মোকাবিলা করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন ডিওয়াইএফের রাজ্য সভানেত্রী।

গত প্রায় একমাসেরও বেশী সময় ধরে ১২টি বাম যুব সংগঠন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বেকারদের চাকরীর সংস্থান,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারের আর বড় ভূমিকা নেওয়ার দাবিতে মানুষকে প্রতিবাদের রাস্তায় নামার আহ্বান করে আসছে।সিঙ্গুরে যেখানে একসময় বাম সরকার টাটার ন্যানো কারখানা গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সেই জায়গা থেকেই এ রাজ্যের শিল্প-মন্দার বিরুদ্ধে মানুষকে শিল্প ও কর্মস্ংস্থানের পক্ষে আওয়াজ তুলতে আদ্বান করে বাম যুব সংগঠনগুলি ১২-১৩ তারিখ পর্যন্ত রাস্তায় হাঁটার কর্মসূচি নেয় তারা।প্রশাসন না চাইলেও এই মহামিছিল হবে বলে জানান ডিওয়াইএফের রাজ্য সম্পাদক সায়নদীপ মিত্রও। এই উদ্যোগকে ঘিরে বাম কর্মীরা লাগাতার কর্মসূচীও গ্রহণ করেছিলে। প্রতীকি চাকরীর আবেদন পত্র গ্রহণ করা হয়  রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে। বাম যুব নেতা কর্মীরা সেই আবেদন পত্র বস্তায় করে নবান্নে নিয়ে রওনাও দেন । তবে পৌঁছে দেওয়া অার গেল না।

গত কয়েক বছরে এ রাজ্যে বাম শক্তি যে ভাবে একেবারে তলানিতে এসে পৌঁচেছে তাতে যুব সংগঠনগুলিকে পথে নামিয়ে সিপিএম আবার নতুন উদ্যমে শক্তি সঞ্চয় করতে পথে নামার প্রস্তুতি নিতে চাইছে বলেই অনেকে মনে করছেন। তৃণমূল  নেতা তাপস রায় অবশ্য মনে করেন  রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি ফের জাহির করার জন্যই পুলিস ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছে বাম ছাত্র যুবরা।