মহালয়ায় শুরু রাজনীতির তর্পণ

0
13

এবার এ রাজ্য মহালয়ায় এক আজব তর্পণ দেখল।যে তর্পণকে নির্দ্ধিধায় বলা যায় রাজনীতির তর্পণ।বিজেপি এবার বাগবাজার গঙ্গাঘাটে তৃণমূলের সন্ত্রাসে নিহত তাদের কর্মীসমর্থকদের অস্থিি গঙ্গায় ভাসিয়ে তাঁদের উদ্দেশে তর্পণ করল।যে কেউই বুঝবেন এর পশ্চাতে মৃতকর্মী সমর্থকদের প্রতি প্রেম ভালবাসা যতটা না সক্রিয় তার চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার তাগিদ।মৃত দেহ নিয়ে রাজনীতির সাক্ষী বার বার হয়েছে এ রাজ্য।এ রাজ্যের শাসক দল বিরোধী থাকাকালীন মৃতদেহ নিয়ে মিছিল-প্রতিবাদ করার উদ্যোগ বার বার নিয়েছে।মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ সব রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই করা যায়।এ রাজ্যে বিজেপিও মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করতে পিছপা হয় নি।তবে মহালয়ার দিন আত্মা নিয়ে রাজনীতি এই প্রথম দেখল এ রাজ্য।মহালয়ার আচার সম্পর্কে প্রচলিত রীতি হল,এইদিন মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তাঁদের উত্তরসূরিরা গঙ্গাবক্ষে তর্পণ করেন।পবিত্র জল নিক্ষেপ করেন পূর্বসূরির আত্মার তেষ্টা মেটাতে।ধর্মীয় বিশ্বাস এতে তৃপ্ত হয় মৃত আত্মা।সাধারণত মনে করা হয় আত্মীয়তার বন্ধনে বাঁধা থাকা উত্তরসূরিদের দেওয়া জল এদিন পান করেন তাঁদের মৃত পূর্বপুরুষগণ।

বিজেপি দেখাল রাজনৈতিক বন্ধনে বাঁধা মৃত পূর্বসুরির আত্মাও তর্পণের জলে চেষ্টা মেটাতে পারে।এমনিতে মৃত রাজনৈতিক সহযোগীকে সম্মান দেখান,তাঁর স্মৃতীকে স্মরন করার মধ্যে অন্যায় কিছু নেই,কিন্তু যে কোন বিষয় ধর্মকে ব্যবহার করার যে সস্তা নাটক শুরু হয়েছে তারই উদাহরণ হয়ে থাকবে বিজেপির এই তর্পণ কান্ড।এ রাজ্যের মানুষ মাত্রই জানেন গ্রাম গঞ্জ জুড়ে যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয় তার বলি হন গরীব মানুষ।রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছুতে দাবার বোড়ে করে সাধারণ গরীব মানুষগুলোকে।আর তাতেই মারা যান গ্রামগঞ্জের গরীব মানুষ।

বিজেপির যে কর্মীরা মারা গেছেন তারাও সেরকমই গরীব সাধারণ মানুষ।তাদের পরিবারের হয়তো হাড়ি চড়ে না প্রতিদিন।তাই সেই সব মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে তাদের দারিদ্র, না খেতে পাওয়াকে প্রতিরোধ না করে এই তর্পণ নাটক আসলে এক নির্মম রসিকতা।ধর্মের প্রতি মানুষের ষে স্বাভাবিক দূর্বলতা তাকে প্রতিদিন নানা ভাবে খুঁচিয়ে দিয়ে দৈনন্দিন জীবনের আসল সমস্যাগুলো ভুলিয়ে রাখার যে প্রয়াস এ দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলো করে বিজেপির এই রাজনৈতিক তর্পণ সেই কৌশলেরই একটা অংশমাত্র।এ রাজ্যে মহালয়ায় রাজনৈতিক তর্পণের পথ প্রদর্শক হিসেবে বিজেপির নামই লেখা থাকবে।এরপর অন্য দলগুলোও হয়তো এই পথ অবলম্বন করবে।