যাদপবুর বিতর্কে রাজ্যের শাসক দল এত নীরব কেন?

0
36

কিছুদিন আগেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মী সমর্থকরা তাঁকে গোটা দেশে বিজেপি বিরোধিতার প্রধান মুখ বলে প্রচার করে গলা ফাটাতেন।রাস্তার মোড়ে মোড়ে কত রঙবাহারি হোর্ডিং চোখে পড়ত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করতে মমতার হাত শক্ত করুন।তা সেই কট্টর বিজেপি বিরোধী তৃণমূল যাদবপুর নিয়ে এতটা নীরব কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সব স্তরে।যদি তর্কের খাতিয়ে মেনে নেওয়াই যায় যে যাদবপুরের ছাত্ররা বাড়াবড়ি করায় রাজ্য প্রশাসনের অস্বস্তি হয়েছে,তার পরেও তো  অারএসএস -এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।কেন রাজ্য প্রশাসন জানাচ্ছে না যে সেদিন কে বা করা ক্যাম্পাসে ঢুকে আগুন লাগিয়েছিল,মেয়েদের মারধোর করেছিল তা খুঁজে বার করা হবে। যে ভঙ্গিতে বাবুল সুপ্রিয় উপাচার্যকে অপমান করেছেন তার নিন্দাই বা রাজ্য সরকার করছে না কেন?

উপাচার্য ক্যাম্পাসে কেন পুলিশ ডাকলেন না তা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জী।অনেকেই বলছেন পুলিশ ও রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের ঐতিহ্যকে ভাঙার অভ্যেস সুব্রতবাবু সেই জরুরি অবস্থাকালীন সময় থেকেই রপ্ত করেছেন তাই তাঁর কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারনা প্রত্যাশা করাটাই বাতুলতা।কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তিনি এতটা নীরবতা অবলম্বন করছেন কেন?কেন বলতে পারছেন না যদি বাবুলের উপর চড়াও হওয়া ছাত্রদের ঠিকুজি-কুষ্টি বার করার চেষ্টা দিলীপ বাবুরা করেন তাহলে রাজ্য প্রশাসনও সেদিন ক্যাম্পাসে ঢুকে মস্তানি করা সকলের ঠিকুজি-কুষ্টি খুঁজে বার করবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বার বার অভিযোগ করেন বাম রাম একজোট হয়েছে,তা সেই বাম ছাত্র সংগঠন তো অন্তত যাদবপুরে গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে।তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন কোথায় গেল সে প্রশ্ন তো কেউ কেউ করছে।যাদবপুরের ঘটনার পর কেউ কেউ আশঙ্কা করছে পদ্ম আর ঘাসফুল একই হাওয়ায় দোলা খাচ্ছে না তো!!

আর একটা চর্চাও শোনা যাচ্ছে যেহেতু এ রাজ্যের শাসক দলও অনেক চেষ্টা করেও যাদবপুরকে বাগে আনতে পারে নি,তাাই এবার ভাবছে পদ্ম বনে হাওয়া দিয়ে যদি ‘বেয়াদপ’যাদবপুরকে সবক শেখান যায়।তবে এটা করতে গিয়ে যে তারা কাল কেটে কুমির আনতে চলেছে সে পরামর্শ দেওয়ার মত লোক তৃণমুলে এই মুহূর্তে কেউ নেই বলেই অনেকের ধারনা।তবে সকলেই একটা বিষয় খেয়াল করছেন দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রবিরোধী ঝাঁঝ কেমন যেন কমে গেছে।কে জানে যাদবপুর নিয়ে তাঁর নীরবতাও সেই কমতি ঝাঁঝের প্রতিফলন কীনা!