সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ কেন?

0
93

আবার আক্রান্ত সংবাদ মাধ্যম।আবার এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ঘাড় ধাক্কা দিতে দেখা গেল পুলিশকে।প্রশ্ন কেন বার বার সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিক আক্রান্ত হবেন?কেন সাংবাদিকদের এই অপমানে সম্মিলিত প্রতিবাদে গর্জে উঠবে না সমস্ত সংবাদকূল?রবিবার থেকে ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকার মধ্যে বিজেপি ও তৃণমূলের যে সংঘর্ষের সূচনা তাতে সাংবাদিকদের খবর করতে বাঁধা দেওয়া হয়েছে বার বার,শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে একাধিক সাংবাদিককে।রবিবারের পর সোমবারেও দেখা গেল এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গলা ধাক্কা দিচ্ছেন কালো গেঞ্জি পড়া একজন,জানা যাচ্ছে তিনি  একজনপুলিশ আধিকারিক। কেমন পুলিশ তিনি যে সাংবাদিককে গলা ঘাক্কা দিতে কুন্ঠিত হন না।যিনি সাংবাদিকের স্বাধীন কাজে বাঁধা দেন তাকে কোন যুক্তিতে প্রশাশনের দায়িত্বে রাখা যায়!কেন রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোন দুঃখ প্রকাশ করার প্রয়োজন বোধ করল না?তবে কি সাংবাদিক পেটানোকে অভ্যেসে রপ্ত করে ফেলেছে সরকার?আর কলকাতার সমস্ত হাউসের অফিসে বসে থাকা সংবাদ কুলের দাদারা মুখে কুলুপ এঁটে এখনও বুঝি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে জায়গা পাওয়ার অংক কষে চলেছেন?বটেই তো জেলার রিপোর্টাররা ইনসিডেন্ট কভার করতে গিয়ে মার খেলে,রক্তাক্ত হলে তাদের কী? তারা তো সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রীর গুড বুকে থাকতে পারলেই হল,তাহলেই মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে বিদেশে যাওয়া যাবে,মাস খানেক ফুর্তি করা যাবে।বিদেশের হোটেল থেকে রুপোর চামচ চুরি করেও দিব্যি সাধু সাজা যাবে,তাই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা,সাংবাদিকদের অসম্মান নিয়ে কে আর মাথা ঘামায়।ওটা তো স্রেফ জেলার রিপোর্টারদের বিষয় ওরাই বুঝে নিক,এই বোধের চাদরে নিজেদের ঢেকে রেখেছেন কলকাতার সমস্ত সাংবাদিককূল।

অবশ্য শুধু জেলা নয় কলকাতার সিটি রিপোর্টাররাও পুলিশের মার দিব্যি হজম করে নেয় সে দৃশ্যও আমরা দেখেছি।আমাদের সবারই মনে আছে বছর কয়েক আগে বামেদের নবান্ন অভিযান কভার করতে গিয়ে পুলিশের কাছে বেদম মার খান সাংবাদিকরা,কেউ কেউ সেই মারে আহত হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হন,কিন্তু তাতেও জোরদার প্রতিবাদ ধ্বণিত হতে শোনা যায় নি,সবাই মেনে নেন,মানিয়েও নেন।আর তাই এরই কয়েকদিন পর বিজেপির লালবাজার অভিযান কভার করতে পুলিশ সাংবাদিক চিহ্নিত করতে একরকম জ্যাকেট উপহার দেয় সাংবাদিকদের,নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্বোধ ও দুকানকাটা বেহায়া সাংবাদিক সেই জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে সঙ সেজে কভারেজে চলে যান।পরিচয় প্রাকাশ্যে এনে সাংবাদিকদের তাদের কাজ করতে হলে যে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও গোপনীয়তা হরণ করা হয় সেই বোধটুকুও কলকাতার অধিকাংশ সাংবাদিকদের মধ্যে নেই।তাই এদের কাছে জেলার সাংবাদিকদের অসম্মান ও হেনস্থা নিয়ে প্রতিবাদী অবস্থান প্রত্যাশা করা মুর্খতারই সামিল।

  প্রতিবাদ তাই উঠে আসুক একেবারে মাটি থেকে।সমস্ত শাসক দলের উদ্দেশেই বলা হোক সাংবাদিকতা কোন ফরমায়সি পেশা নয়,সাংবাদিকতা একটা অন্যরকম পেশা,সততা ও নৈতিকতার ধর্মকে বাদ দিয়ে এই পেশার কোন মূল্য নেই।সরকারি গুনভজনা নয় সত্যের উন্মোচনই সাংবাদিকতার প্রাণভোমরা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে যারা চান সাংবাদিকতা ও সাংবাদিক আক্রান্ত হলে তাঁরাই থাকুন প্রতিবাদের প্রথমসারিতে।হোক প্রতিবাদী মিছিল,হোক সাংবাদিক লাঞ্ছনার প্রতিরোধ।এখনও যে মুষ্টিমেয়জন সাংবাদিকতার সততায় ভরসা করেন,যারা বিশ্বাস করেন সাংবাদিকদের সবাই বিকিয়ে যায়নি,আজও যারা সাংবাদিকতার শিড় দাড়াঁ টানটান করে রেখে  এই পেশার মহত্বকে তুলে ধরতে একলব্য দক্ষিণা দিতে নিজেদের প্রস্তুত রেখেছেন তাঁরাই করবেন সাংবাদিকদের অপমান ও অপদস্থের প্রতিকার।এঁদের কন্ঠেই সোচ্চারে উচ্চারিত হোক গৌরী লঙ্কেশের মত সাংবাদিকদের হত্যাকে যারা মদত দেয়,তারা যেমন সাংবাদিকদের শত্রু তেমনি গৌরী লঙ্কেশের মৃত্যুর প্রতিবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিছিলে হেঁটেও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুলিশকে সাংবাদিক নিগ্রহে ব্যবহার করেন তিনিও সাংবাদিকদের বন্ধু হওয়ার যোগ্য নয় কোনভাবেই।শাসক তা সে যে রঙেরই হোক না কেন সত্যকে সবসময় ভয় পায়,তাই সত্য নিষ্ট সাংবাদিক কখনও কোন শাসকের কাছের লোক হতে পারেন না,হওয়া সম্ভবই নয়।সাংবাদিকের সততা নির্ধারণের এটা একটা মাপকাঠিও বটে।