১ জানুয়ারি থেকে লাগু নতুন পে কমিশনের বেতন কাঠামো,বকেয়া ডিএ লোপাট?, হতাশ কর্মীরা

0
1414

২০২০ সালের ১  জানুয়ারি থেকে লাগু হতে চলেছে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ। মুখ্যমন্ত্রী অাগেই ঘোষণা করেছিলেন এবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অানুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। । অমিত মিত্র জানিয়েছেন  বেসিক ১০০টাকার সঙ্গে ১২৫ টাকা ডিএ যুক্ত করে বর্ধিত ডিএ এর ১৪.২২  শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ২০১৬-১৯ এই ৩ বছর বকেয়া ডিএর পরিবর্তে নোশ্যানাল ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশ হারে যোগ করা হচ্ছে। তাতে বেতন দাঁড়াচ্ছে ২৮০ টাকা ৯০ পয়সা। রাজ্য সরকারি কর্মীদের দাবি ছিল ২০১৬ সাল থেকে বেতন কমিশন কার্যকর করা। সেই দাবি মানেনি রাজ্য সরকার বা কমিশন। সেই সঙ্গে  বকেয়া ডিএ দেওয়ার যে নির্দেশ স্যাট দিয়েছিল তাও মানেনি বলে মনে করছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের অনেকেই । গ্র্যাচুইটির সর্বােচ্চ সীমা ৬ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ লক্ষটাকা করা হয়েছে। চিকিত্সা ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০০ টাকা।

বকেয়া ডিএ না দেওয়া ও বাড়ি ভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করায়  হতাশ সরকারি কর্মীদের একটা  বড় অংশ।   কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা বিপুল রায় জানিয়েছেন বকেয়া ডিএ না দিয়ে ও বাড়ি ভাড়া ভাতা( শতাংশের বিচারে) কমিয়ে দিয়ে বেতন সংকোচন করা হল। এটা নক্কারজনক। এর অাগে বামজমানায় ২৭ মাসের বকেয়া  না দিয়ে যখন বেতন কমিশন লাগু করা হয়েছিল সেই সময় বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে নিজে সেই পথেই হাঁটলেন। রাজ্য সরকারি কর্মীদের কনফেডারেশনের নেতা মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়টা স্যাটের নির্দেশ ছিল। মনে হচ্ছে রাজ্য সরকার তা দিতে চাইছে না। স্যাটের নির্ধারিত ৬ মাসের সময়সীমা এখনও পার হয়নি। তবুও  অাদলতে এই বিষয় অাগামীকালই নালিশ ঠুকে রাখবেন তারা। নবপর্যায়ের নেতা সন্দীপ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন  বকেয়া ডিএ কোন দয়ার দান নয়। না দিলে অাদায়ের জন্য তারা অান্দোলনে নামবেন।অন্যদিকে কোঅর্ডিনেশনের নেতা বিজয় সিংহ জানিয়েছেন বলা হয়েছিল অনেক বাস্তবে কিছুই কর্মচারীরা পেলন না কিছুই।

ফিরে দেখাঃ ২৬ জুলাই স্যাটের রায় ঠিক কী বলা হয়েছিল

কেন্দ্রীয় হারেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ দিতে হবে বলে রায় দেয় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল বা স্যাট। ষষ্ঠ বেতন কমিশন লাগু হওয়া বা ১ বছরের মধ্যে ( যেটা অাগে) এখনকার বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ স্যাটের। স্যাটে মামলকারী কর্মী ইউনিয়নের যুক্তি ছিল দিল্লি ও চেন্নাইতে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা যদি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পায় তাহলে এরাজ্যের সরকারি কর্মীরা তা পাবেন না কেন।

এর অাগে স্যাটের রায় দিয়েছিল ডিএ সরকারি কর্মীদের কোন অধিকার নয়, দয়ার দান সরকার ইচ্ছে হলে দেবে নতুূবা নয়। সেই রায়কে খারিজ করে ২০১৮ সালের অগস্ট মাসে DA রাজ্য সরকারি কর্মীদের অধিকার  বলে জানিয়ে দিয়েছিল হাইকোর্ট। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যনাল বা স্যাট জানিয়েছিল মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ  দয়ার দান সরকার ইচ্ছে হলে দেবে নতুবা নয়। স্যাটের এই রায়ের পর  বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের  সংগঠন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। অাগামী ২ মাসের মধ্যে এই দুটি বিষয় রায় দিতে বলা হয়েছিল স্যাটকে। ২ মাস নয় রায় এলো বেশ কয়েক মাস পর। তবে এবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। রাজ্য   সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে কেন্দ্রের ডিএ এর ফারাক অনেকেটাই। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব সরকারি কর্মীরা।  বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা প্রসঙ্গে একসময়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন । এবার সেই বকেয়া ডিএ চিরতরে লোপাট হয়ে গেল বলে ক্ষোভ রাজ্য সরকারি কর্মীদের অনেকের।