অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল প্রাপ্তি ও বাঙালি অাবেগ

0
119

অভিজিত্ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলো ও মাইকেল ক্রেমার এবছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন। তার মধ্যে অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাচক্রে বাঙালি হওয়ায় মিডিয়া এখন অাপ্লুত। তাঁর পোস্ত খাওয়া থেকে শুরু করে হাতের লেখা খারাপ সব খবর এতক্ষণ পাঠকের জানা হয়ে গিয়েছে।তবে তিনি দারিদ্র দূরীকরণে ঠিক কী গবেষণা করেছেন তা অামাদের অনেকেরই অজানা। তাঁর গবেষণা নিয়ে কিছু বলার মত না অাছে অামাদের জ্ঞান না অছে ধৃষ্টতা। তবে বাঙালির নোবেল প্রাপ্তির এই উচ্ছ্বাস অাবহে   দুচারটে প্রশ্ন না করেও পারা যাচ্ছে না।

চারদিকে ঘেঁটে যেটুকু বোঝা যাচ্ছে তা হল অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা দারিদ্র দূরীকরণেক কমিউনিটি বা মাইক্রোর উপর জোর দিতে বলছেন। সেখান থেকেই উঠে অাসে সবথেকে ভাল সমাধান। দরিদ্রের হাতে অারো বেশি টাকার জোগান দিতে সরকারকে বলছেন। অার তাই গত নির্বাচনে কংগ্রেসের সামাজিক ন্যায় প্রকল্পে মাসে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম অায় নিশ্চিত করর কথা বলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে চাহিদা তৈরি করাই এর লক্ষ। তাতে গরীব দুবেলা খেতা পাবে হয়তো ঠিকই কিন্তু গরীব গরীবই থাকবে। সামাজিক অায় বৈষম্য কি এতে ঘুচবে?

বলা হচ্ছে দারিদ্রদূরীকরণে অভিজিতদের গবেষণা যুগান্তকারী। দুনিয়াজুড়ে এর প্রয়োগে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কি সত্যি কমেছে। ভূলে গেলে চলবে না অারেক নোবেল জয়ী বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাঙ্কের জন মহম্মদ ইউনুসের মাইক্রোফিন্যান্সের তত্ত্ব যতটা না গরীবদের সহজে ঋণ দিয়ে উপকৃত করা তার থেকে অনেক বেশি সেই ঋণেরে চড়া সুদ ও তা অাদায় অন্যদের বাধ্য করা। খবরে প্রকাশে এরাজ্যে মাইক্রো ফিনান্সের অন্যতম পথিকৃত বন্ধন ব্যাঙ্কের  নানা প্রকল্পে নাকি জড়িত ছিলেন অভিজিতবাবু। যদি সেটা সত্যি হয় তাহলে এখানেও প্রশ্ন থাকছে।

অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মসূত্রে বাঙালি ঠিকই। কিন্তু অাজ তিনি মার্কিন নাগরিক। অথচ ডেভলপমেন্ট অর্থনীতির অারেকজন অর্থনীতিবিদদের নাম জ্যাঁ দ্রেঁজ। যিনি জন্মসূত্রে বেলজিয়ামের নাগরিক , বর্তমানে ভারতীয়। যিনি জম্মু কাশ্মীরে গণতন্ত্র অবরুদ্ধে হলে লুকিয়ে তথ্য অনুসন্ধানে যান, যিনি অর্থনীতির বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার সাহস করেন। যিনি সারাটা জীবন মাঠে ময়দানে মানুষের সঙ্গে অর্থনীতিকে মিশিয়ে ঝুলাওয়ালা অর্থনীতিবিদ হিসাবে নিজেকে পরিচিত করেছেন। কোথায় তাঁকে পুলিস অাটক করলে এত হইচই তো অামরা লক্ষ করি না। তাছাড়া অারেক MIT স্নাতক সুধা ভরদ্বাজ যিনি নিজের মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে এদেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য  কথা বলার ‘অপরাধে’ ১ বছর ধরে জেলে থাকলেও শিক্ষিত সমাজের খুব একটা হেলদোল অাছে বলে মনে হয় না। তাই নোবেল পুরস্কারের একটা রাজনীতি অাছে। সেটা শুধু অাবেগ দিয়ে বিচার করা যায় না।