আট মাসের মাইনে বাকি রেখে একমাসের মাইনে দেওয়া হল বিএসএমএল কর্মীদের সঙ্গে দেওয়া হল কর্মী সংকোচনের শর্ত

0
62

গত নয় মাস ধরে মাইনে বন্ধ ছিল কলকাতা বিএসএনএলের কয়েক হাজার ঠিকা কর্মীর।লাগাতার ২২ দিন অনশন করেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়াতে পারেন নি এঁরা।শেষপর্ষন্ত এবার অক্টোবরের ৩ তারিখে আট মাসের মাইনে না দিয়ে মাত্র একমাসের মাইনে দেওয়া হল তাঁদের।তাও আবার বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ কঠিন শর্ত জারি করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।যে বিজ্ঞপ্তি কার্যত কলকাতার এইসব অস্থায়ী কর্মীদের চাকরির ভবিষ্যতকে একেবারেই অনিশ্চিত করে দিল বলেই মনে করছেন বিএসএনএলের ঠিকা কর্মীরা।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,কর্মীদের এবার থেকে ১৫দিনের বেশী কাজ দেওয়া যাবে না।ফোন লাইন ক্লিন করার কাজে যাঁরা যুক্ত ছিলেন তাদের আর কাজে রাখা যাবে না।১৫ দিন যাদের কাজ দেওয়া হবে তাদেরও কাজের সময় কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।এই বিজ্ঞপ্তি যে এখানকার টেলিফোনের সঙ্গে যুক্ত সকল ঠিকা কর্মীদের কার্যত ছেঁটে ফেলার সামিল তা বুঝতে পেরে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে ঠিকা কর্মীদের সবকটি ইউনিয়ন একযোগে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে।আগামি ১৬ তারিখেই সব ইউনিয়ন কলকাতা টেলিফোন ভবনের সামনে আবার প্রতিবাদী আন্দোলনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিন সাতদিনডটইনের প্রতিনিধিকে কলকাতা বিএসএনএলের ঠিকাকর্মীদের ছাঁটাই বিরোধী ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক অরূপ সরকার জানান,যেভাবে আটমাসের মাইনে বাকি রেখে কর্তৃপক্ষ মাত্র একমাসের মাইনে দেওয়ার জন্য এরকম কঠিন শর্ত একতরফা চাপিয়ে দিতে চাইছে তাতে পরিষ্কার তারা ঠিকা কর্মীদের জীবন ও জীবিকা নিয়ে একটুও ভাবিত নয়।এমতবস্থায় তারা জোরদার আন্দোলনের পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।কোনভাবেই যে তারা বিএসএনএলের একতরফা শর্ত মানবেন না তা জানিয়ে অরূপবাবু বলেন,২৫ বছরের বেশী সময় ধরে কাজ করে আসার পর এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া তাঁদের পক্ষে আত্মহত্যার সামিল।তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।এ বিষয়ে কলকাতা বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোন উত্তর মেলেনি।প্রসঙ্গত দীর্ঘদিন মাইনে না পেয়ে এইসব কর্মীদের বেশ কয়েকজন পারিবারিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

কলকাতা বিএসএনএলের এই সব ঠিকা কর্মীদের আরও অভিযোগ এ রাজ্যের বড় বড় মিডিয়া তাঁদের প্রতি হওয়া এতবড় বঞ্চনা নিয়ে একেবারেই নীরব।কোথাও কোন সংবাদ হচ্ছে না।মাস খানেক আগে এই কর্মীরা টেলিফোন ভবনের সামনে বসে লাগাতার অনশন করেছেন তখনও কোন মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে  খবর প্রচারিত হয় নি।এমনকী একের পর এক ঠিকা কর্মীর আত্মহত্যার খবরও সেভাবে গুরুত্ব পায় নি।এখন যখন মিডিয়া কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত পুজো প্যান্ডেল আর দূর্গাপুজোর হুল্লোর আর উন্মত্তার বাইরে কোন খবরকে গুরুত্ব দিতে নারাজ,তখন বিএসএনএলের আচমকা বিজ্ঞপ্তি কলকাতা টেলিফোনের কয়েক হাজার ঠিকা কর্মীর জীবনে চরম অন্ধকারের বার্তা নিয়ে এল।এর আগে আটমাস মাইনে না পেয়ে এই ঠিকা কর্মীদের অনশন ও সরকারি উদাসীনতার খবর আমরাই প্রথমে সামনে নিয়ে আসি।আবারও বড় মিডিয়ায় চোখ রেখে যারা ভাবছেন পুজোর ঠাকুর দেখা,নতুন জামাকাপড় পড়া,আর দেদার খাওয়াদাওয়ার বাইরে আর কোন খবর নেই,তারা জেনে রাখুন বিএসএনএল এরই মধ্যে কলকাতার সমস্ত ঠিকা কর্মীদের ছেঁটে ফেলার নোটিশ জারি করেছে।গা জোয়ারি সিদ্ধান্তে নমাসের মাইনে বাকি রেখে একমাসের মাইনে নিতে বাধ্য করছে সমস্ত ঠিকাকর্মীদের।