আনন্দোলনে নামায় ৪৮হাজার পরিবহন কর্মীকে বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তেলেঙ্গানা সরকারের

0
14

নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দেলনে নেমেছিলেন তেলেঙ্গা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের ৪৯ হাজারেরও বেশী কর্মী।গত শনিবার সকাল থেকে তাঁরা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘটে সামিল হয়।দাবি ছিল অন্যান্য রাজ্য গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসোয়ারা দিতে হবে।বকেয়া মাইনে মিটিয়ে দিতে হবে,৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে।তেলেঙ্গানাতেও পরিবহন কর্মীদের সরকারি কর্মীর স্টেটাস দিতে হবে।এইসব দাবিতে আন্দোলনে নামা কর্মীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন।তাঁদের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিন সরকার তাঁদের এইসব দাবি নিয়ে কোন উচ্চবাক্য করে নি।ধর্মঘটে সামিল হয়ে পরিবহন কর্মীদের যৌথ ইউনিয়ন বা জয়েন্ট আ্যকশান কমিটি(জেএসি)সরকারকে চাপ দিতে চেষ্টা করেছিল।কিন্তু কর্মীদের এই কর্মবিরতিকে একেবারেই ভাল চোখে দেখে নি তেলেঙ্গানার কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সরকার।আন্দোলনকারী কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া ৪৮হাজার কর্মীকে আর কাজে ফেরানো হবে না,তাদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে সরকার।

রবিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী পরিবহন দপ্তরের উচ্চপদস্থ একদল আধিকারিকের সঙ্গে এক জরুরি মিটিং এ বসেন এবং তারপরেই জানিয়ে দেওয়া হয় কয়েকঘন্টার মধ্যে যারা কাজে যোগ না দেবেন তাদের সরকার আর কাজে ফিরিয়ে নেবে না।এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই মুহূর্তে তেলেঙ্গানায় প্রায় ৪৮ হাজার পরিবহন কর্মীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।সরকার কড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছে ৪৮ হাজার কর্মীর পরিবর্তে তারা নতুন কর্মী নিয়োগ করতে শুরু করবে।সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে তেলেঙ্গানা রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের যৌথ ইউনিয়ন।জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোন ভাবেই সরকারের এই স্বৈরাচারি সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন না।এদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে কোন অবস্থাতেই কোন ব্লাকমেইল করাকে সরকার গ্রাহ্য করবে না।ডিসিপ্লিন ভেঙে কোন আন্দোলন সরকার বরদাস্ত করবে না বলেও জানানো হয়েছে।অবিলম্বে ছাটাই হওয়া পরিবহন কর্মীদের জায়গায় নতুন নিয়োগ শুরু করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন কর্মীদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই অঙ্গ,সেখানে কোন সরকার এভাবে কোন আলোচনা না করে এককথায় এতদিনের কর্মীদের বসিয়ে দিতে পারেন কি ভাবে?গোটা দেশজুড়েই তেলেঙ্গানা সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।সরকারের এই স্বৈরাচারি সিদ্ধান্ত এখনই প্রতিরোধ করতে না পরলে এই প্রয়াস আসলে যে কোন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকে ধ্বংস করে দেবে বলে বলে করছেন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও।তেলেঙ্গানার আগে একবার কর্মীদের ছাঁটাইয়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাও,এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও জুনিয়র জাক্তারদের কর্মবিরতি তুলে নিতে প্রথমদিকে হুমকি দিয়ে সময় বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন কাজে যোগ না দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অনেকেই তাই বলতে শুরু করেছেন এ দেশে গণতান্ত্রিক সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের লক্ষণটা সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।