কে নাটক করছেন দেবাঞ্জন না বাবুল সুপ্রিয়?

0
673

যাদবপুর কান্ডে বাবুল সুপ্রিয়কে ‘হেনস্থা’করার অভিযোগ উঠেছিল যার বিরুদ্ধে সেই দেবাঞ্জন বল্লব ও তাঁর বন্ধু প্রজ্ঞা রায়চৌধুরিকে বুধবার সন্ধ্যের সময় পূর্ব বর্ধমানে বিজেপি কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বুধবার পূর্ব বর্ধমানের আলিশা বাসস্টপে দেবাঞ্জন ও প্রজ্ঞা বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।অভিযোগ সেই সময় আচমকাই তাঁদের উপর চড়াও হয় কিছু বিজেপি কর্মী সমর্থক।নির্বিচারে তাঁদের উপর চড় ও ঘুষি চালাতে শুরু করে উন্মত্ত বিজেপি কর্মীরা এমনটাই অভিযোগ।আক্রান্ত দেবাঞ্জনদের বাঁচাতে ছুটে আসেন স্থানীয় মানুষজনেরাই তাঁরাই দুজনকে কোনক্রমে মারমুখি বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাত থেকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি বাসে তুলে দেয়।কিন্তু বাসেও উঠে পড়ে বিজেপির কিছু কর্মী।বাস কিছুদূর যেতেই বাস থামাতে বাধ্য করে আবার নামিয়ে আনা হয় দেবাঞ্জনদের আবার শুরু হয় মার।সেই সময় স্থানীয় পুলিশ এসে বাঁধা দেয়।কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের পক্ষেও প্রথমে বিজেপির মারমুখি কর্মীদের সামলানো সম্ভব হচ্ছিল না।শেষ পর্যন্ত তাঁরা থানায় খবর দেয়।আর বেশী পুলিশ থানা থেকে এসে উদ্ধার করে দেবাঞ্জন ও প্রজ্ঞাকে।

পুলিশি নিরাপত্তায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় দেবাঞ্জনদের।ততক্ষণে দেবাঞ্জনদের শরীর ক্ষতবিক্ষত,জামাকাপড় ছিঁড়ে কুটিকুটি।দেবাঞ্জনদের পরবিরার আতঙ্কে রয়েছে কারণ যে কোন সময় আবার তাদের উপর আক্রমণ হতে পারে এই আশঙ্কায়।দেবাঞ্জনের অনুস্থ মায়ের আর্তি বাবুল সুপ্রিয় তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁর ছেলের কোন ক্ষতি হবে না সেই প্রতিশ্রুতির কথা তিনি যেন ভুলে না যান।কিন্তু বুধবার দেবাঞ্জনদের উপর আক্রমণের খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তাতে পরিষ্কার তাঁর ‘উদারতার নাটকে’টোল পড়তে শুরু করেছে।তিনি জানিয়েছেন দেবাঞ্জনরা আক্রান্ত হওয়ার নাটক করছেন।শরীরে আঘাতের চিহ্ন,আর জামাকাপড় ছিঁড়ে যাওয়াটা যদি ‘নাটক’হয় তবে তো বলতেই হয় এ নাটকের চেয়ে বাবুলের ‘নাটক’ আর জমাটি।প্রথমে নিজেদের অনুগত লোক পাঠিয়ে দেবাঞ্জনের মায়ের ছেলের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনার ভিডিয়ো বানানো।দেবাঞ্জনের বাবাকে ভয় দেখানো।অসুস্থ এক মায়ের তাঁর সন্তানের জন্য যে স্বাভাবিক আশঙ্কা তাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা।আর তার পর নিজের ট্যুইটে দেবাঞ্জনকে ক্ষমা করে দেওয়ার বার্তা দিয়ে,সেই ট্যুইট বার্তা অনুগত-চাটুকার বড় বড় মিডিয়া দ্বারা ঢালাও প্রচার করে উদারতার ভাবমূর্তি তৈরি করা।দেবাঞ্জনের নামে ফেক ফেসবুক একাউন্ট তৈরি করিয়ে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের দিয়ে নিজের কৃতকর্মের জন্য তিনি দুঃখিত বলে প্রচার চালানো।

এত কিছুর পরেও যখন দেবাঞ্জনের তারুণ্যের সাহস ও দীপ্তিকে আটকানো গেল না।দেবাঞ্জন যখন প্রকাশ্যে এসে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিলেন,তাঁর বিরুদ্ধে বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্থা করার মিথ্যে প্রাচার করছে মিডিয়া।তিনি সেদিন আত্মরক্ষা ও বন্ধুদের উপর হওয়া আক্রমণ প্রতিহত করতেই বাবুলের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।দেবাঞ্জন তাঁর কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত নয় জানাতেই সরকার চাটুকার মিডিয়া একেবারে রে রে করে ওঠে।এক তরুণের স্বতন্ত্র ভাবনার পরিসরকে  মর্যাদা দেওয়ার বোধ যে মিডিয়া ও রাজনীতিকরা দেখাতে পরেন না তারাই আবার নৈতিকতার মান নির্ধারণের জ্যাঠামশাই সাজার ভান করেন।আর বাবুলবাবু সব উদাররতার ফানুস চুপসে গেছে তাঁর। বলছেন নাটক করছে দেবাঞ্জনরা।গোটা ঘটনাটা পর্য়ালোচনা করলে বুঝতে কারোর অসুবিধা হবে না ‘নাটকে’বাবুল এগিয়ে।কেউ কেউ বলছেন বাবুলতো শুধু রাজনীতিক নন উনি আবার অভিনেতাও তাই গান্ধীগিরির ভূমিকায় অভিনয় করতে গিয়েছিলেন।তবে একটু মোটা দাগের অভিনয় করে ফেলেছেন।দেবাঞ্জনের এক সহকর্মীর কথায় গান্ধীজির জন্মদিনের আবহের মধ্যই বাবুল সুপ্রিয়র গান্ধীগিরির মুখোশ খশে গেল।