জিয়াগঞ্জের ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতায় বিস্ময় প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল

0
13

জিয়াগঞ্জের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের নীরবতায় বিস্মিত রাজ্যপাল জগদীশ ধানকর।বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন যে বর্বরতার সঙ্গে একজন সন্তান সম্ভবা মহিলা,একজন শিশু সমেত এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে তাতে প্রশাসন এতটা সময় কিভাবে চুপ করে বসে থাকতে পারে ভেবে আশ্চর্য বোধ করছেন তিনি।প্রশাসনের নীরবতা অনেককিছু বলে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রাজ্যপাল।এদিন রাজ্যপাল সরাসরি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে প্রশাসনকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার রিপোর্টও চেয়েছেন বলে জানান।রাজ্যপাল পরিষ্কার বলেন রাজনৈতিক মতামত দ্বারা চালিত হওয়া প্রশাসনের কাজ নয়।তদন্ত যেন কোনভাবেই প্রভাবিত না হয় সেই পরামর্শও দিয়েছেন রাজ্যপাল।

রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান যে ভঙ্গিতে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের খুনের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তা যে রাজ্যের শাসক দলকে অস্বস্তিতে ফেলবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।কোন রাকঢাক না করেই রাজ্যপাল রাজ্য প্রশাসনকে অমানবিক ও বিবেকশূণ্য বলেও অভিহিত করেন।তাঁর মতে এতবড় একটা ঘটনার পরেও রাজ্যের কোন প্রতিক্রিয়া নেই।কেন অনেকটা সময় চলে যাওয়ার পরেও রাজ্য প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নি তা নিয়েও রাজ্যপাল ক্ষোভ প্রকাশ করেন।রাজ্যের আইন-শৃঙ্ঘলার প্রশ্নে তিনি যে খুশি নন তাও বুঝিয়ে দেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।এদিন রাজ্যপাল বলেন মানবিকতা মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়ে প্রশাসন চলে না,রাজনীতি চলে না,সরকার চলে না।যে ঘটনা ঘটেছে তা মানবিকতা মনুষ্যত্বের উপর আঘাত সেই আঘাত প্রতিহত করতে প্রশাসন যদি এগিয়ে না আসে সেই প্রশাসনের উপর কেউই আস্থা রাখতে পারবেন না।রাজ্যপালের এই বক্তব্য রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলেছে।

প্রসঙ্গত এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় মতামত জানিয়ে রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের বিরাগভাজন হয়েছেন।তাঁর সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের একটা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন।তবে এদিন রাজ্যপাল যে ভঙ্গিতে জিয়াগঞ্জের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের দিকে আঙ্গুল তুললেন তাতে যে যুক্তির ধার আছে তা মেনে নিচ্ছেন অনেকেই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন রাজ্যপাল খুব সঙ্গতভাবেই রাজ্য প্রশাসনের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন।এতবড় একটা ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীরই উচিত ছিল ঘটনার তদন্ত করে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া। তা না করে যেভবে রাজ্য প্রশাসন ঘটনাটা নিয়ে নীরবতা পালন করেছে তা একেবারেই কাম্য ছিল না।এক্ষেত্রে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপাল যা বলেছেন তা একেবারে যুক্তিযুক্ত।রাজ্যপালের এই সঠিক অবস্থান রাজ্যের শাসক দলকে চাপে রাখবে এবং বিজেপি এই ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে বলেই রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমান।