কার্নিভালে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী জিয়াগঞ্জ নিয়ে চুপ কেন?

0
61

মূর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে একই পরিবারের তিন তিনজন মানুষকে যে বর্বরতায় ও নৃশংসতার সঙ্গে খুন করা হয়েছে তাতে যে কোন বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষই আঁতকে উঠতে বাধ্য। মৃত প্রাথমিক শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা এক্ষেত্রে সে প্রশ্ন একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক।প্রাসঙ্গিক বিষয়টা হল এই যে এ রাজ্যে একজন সাধারণ নাগরিক তাঁর পরিবার নিয়ে নিজের বাড়িতেও নিরাপদ নয়।বন্ধুপ্রকাশ পালের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন,তাঁর ছয় বছরের ছেলেটির কোন নারকীয় জিঘাংসার শিকার হওয়ার কথা ছিল না।তবু যেভাবে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে তাতে সভ্য দুনিয়া কেঁপে উঠতে বাধ্য।কিন্তু কেঁপে ওঠে নি আমাদের প্রশাসন,কেঁপে ওঠে নি আমাদের স্বঘোষিত মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর বুক।যে মুখ্যমন্ত্রী যে কোন বিষয় মতামত দিয়ে ট্যুইট করেন,তিনি তাঁর নিজের রাজ্যে এতবড় একটা নারকীয় ঘটনা ঘটে যাবার পরেও পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বার করার কড়া নির্দেশ জারিরও প্রয়োজন বোধ করেন নি।বরং এই ঘটনাটি নিয়ে এ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর দল রাজনৈতিক কাজিয়া শুরু করতে সময় খরচ করেনি।

রাজ্যপাল জানিয়েছেন জিয়াগঞ্জের ভয়াবহ ঘটনার পরেও রাজ্য প্রশাসনের নীরবতায় তিনি বিস্মিত।রাজ্যপালের এই প্রতিক্রিয়ায় কোন রাজনৈতিক অভিসন্ধী আছে কিনা তা খোঁজার চেয়েও এই প্রতিক্রিয়ার যৌক্তিকতা নির্ধারনের গুরুত্ব অনেক বেশী বলেই আমাদের মনে হয়।কেন ঘটনার এতটা সময় কেটে যাওয়ার পরেও পুলিশি সক্রিয়তা সেভাবে চোখে পড়ছে না?কেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী থাকা সত্ত্বেও কেউ গ্রেপ্তার হল না?আমাদের মুখ্যমন্ত্রী জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে বেড়ান,দাবি করেন প্রশাসনকে আর সক্রিয় ও সতেজ রাখতেই তিনি জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করেন।বড় বড় মিডিয়ায় সব খবর বাদ দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সেসব বৈঠকের লাইভ সম্প্রচার হয়।প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এমনভাবেই  মিডিয়া মুখ্যমন্ত্রীর ইমেজ তৈরিতে ব্যস্ত থাকে।এর ফলে বড় বড় মিডিয়ায় সরকারি বিজ্ঞাপন ঢুকতে থাকে অবাধে।আর বাস্তবে অবাধে অস্ত্র হাতে সাধারণ গৃহস্থের ঘরে ঢুকে পড়ে হিংস্র খুনি।নির্মম নির্দয়তায় খুন হন এক সন্তান সম্ভবা মহিলা,ছবছরের নিঃষ্পাপ শিশু আর এক স্কুল শিক্ষক।ঘটনার ভয়াবহতা,সামাজিক মূল্যবোধের অধঃপতনের খবরকে এড়িয়ে বড় মিডিয়া ব্যস্ত থাকে শুধু রাজনৈতিক কাজিয়া উসকে দিতে।

জিয়াগঞ্জে এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে হিমশীতল নীরবতা পালন করা মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসন শুক্রবার শহরে দূর্গা পুজোর ভাসান কার্নিভালের মত্ততায় সবাইকে মাতিয়ে দেবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।খবরের কাগজের পাতায় ও খবরের চ্যানেলগুলোতে মুখ্যমন্ত্রীর হাস্য মুখরিত ছবি দিয়ে কার্নিভালে সবাইকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে।মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে একটাই অনুরোধ, কল্পিত অসুর বধের উদযাপনের আগে বাস্তবের অসুরদের নিয়ন্ত্রে রাখার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিন।দূর্গার পায়ের কাছে থাকা অসুরদের চেয়ে আমাদের চারপাশে রাজনৈতিক মদত ও প্রভাবে বলিয়ান অসুরের দল আর বিপজ্জনক ও ভয়ঙ্কর।আর একটা অনুরোধ কার্নিভালের মত্ততা আর যাবতীয় রাজনৈতিক কৌশল তৈরির পরে যদি সময় পান একবার নিজের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করবেন,কেন বন্ধুপ্রকাশ পালের ছবছরের ছেলেটার আর কোন দিন পুজো দেখা হবে না?কেন বিউটি পালের গর্ভে বেড়ে ওঠা প্রাণ কোনদিন আর দিনের আলো দেখতে পেল না?এ রাজ্যের প্রধান প্রশাসক হিসেবে এই ঘটনার পর আপনার কাজ থেকে একটু উদ্বেগ-একটু উত্কন্ঠা কি প্রত্যাশিত ছিল না!!কী জানি সফল রাজনীতিক হতে হলে হয়তো বিবেক-মনুষ্যত্ব এরকম নির্দয়তার সঙ্গেই ছেঁটে ফেলতে হয় বোধহয়!!!