তেলেঙ্গানা সরকারের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ও স্বৈরতন্ত্রের পরিচয় মত বিশিষ্ট অাইনজীবীদের একাংশের

0
66

যেভাবে নিজেদের দাবি আদায়ের আন্দোলন করার জন্য তেলেঙ্গানা সরকার ৪৮ হাজার পরিবহন কর্মীকে রাতারাতি বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার তীব্র বিরোধিতা করলেন দুই বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও অরুণাভ ঘোষ। এ বিষয়ে সাতদিনডটইনকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন,’সম্পূর্ণ একটা অসাংবিধানিক ও স্বৈরাচারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেলেঙ্গানার সরকার।সংবিধান অনুসারে সরকার যদি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে তবে যে কোন কর্মীর প্রতিবাদ করার অধিকার আছে এক্ষেত্রে সেই অধিকার হরণ করা হয়েছে।বর্বরোচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চন্দ্রশেখর রাও।’বিকাশবাবু পরিষ্কার অভিযোগ করেন তেলেঙ্গানার চন্দ্রশেখর একেবারে বিজেপি সরকারের নীতি অনুসরন করে চলছে।কোথাও কোন প্রতিবাদী স্বরকে এঁরা থাকতে দেবে না।সেই লক্ষ্যেই এঁরা জোট বাঁধতে চাইছে।তবে কর্মীদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবশ্যই রাস্তার লড়াইয়ের পাশাপাশি আইনি লড়াইও লড়া উচিত।বিকাশবাবু মনে করেন সুপ্রিমকোর্টে সরকারের এই সিদ্ধান্ত খারিজ হয়ে যাবে বলেই মত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের।তবে একই সঙ্গে এই উদাহরণ খুবই বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করে বিকাশবাবু বলেন সমস্ত শ্রমিক সংগঠনগুলির উচিত এখনই এর বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় তেলেঙ্গানা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অরুণাভ ঘোষ বলেন,’এখন দেশের সব জায়গাতেই সরকারের মাথায় যাঁরা বসে থাকেন তাঁরা অশিক্ষিত-আকাট তা না হলে এঁরা জানত এর আগে বার বার সরকারের কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কোর্টে খারিজ হয়ে গেছে।এভাবে এতগুলো মানুষকে বেরোজগেরে করে দেওয়া যায় না।সরকার ও পরিবহন দপ্তরে যে সব আধিকারিকরা বলে আছেন তাঁরা দেশের আইন কানুন ও বিচারবিভাগের বিভিন্ন সময়ের রায় বিষয়ে কোন খবর রাখেন না,এঁরা সব অশিক্ষিত।ফলে এই সিদ্ধান্তের জন্য তেলেঙ্গানা সরকারকে কোর্টে গিয়ে গালে থাপ্পর খেতে হবে।’তবে একই সঙ্গে অরুণাভ ঘোষ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন এখন যেভাবে কোর্টকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে,বিচারকদের কেনার চেষ্টা হচ্ছে তাতে যদি এই সিদ্ধান্ত কোর্ট গ্রাহ্য করে তাহলে কিছু বলার নেই।অরুণাভ ঘোষের মতে এখন রাষ্ট্রই সব বিষয়ে শেষ কথা বলছে তাই সাধারণ আইন কানুন গ্রাহ্য হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই।তিনি যে বিচার ব্যবস্থার উপর আশা রাখতে পারছেন না তা পরিষ্কার জানিয়ে দেন এই জাদরেল আইনজীবী।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও অরুণাভ ঘোষ এঁরা দুজনই মনে করেন এ দেশে এখন যে গণতন্ত্র বিরোধী একটা আবহ তৈরি হয়েছে তাতে তেলেঙ্গানা সরকারের এই সিদ্ধান্ত সেই আবহকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই গৃহীত হয়েছে।বিকাশবাবুর অভিযোগ এই চন্দ্রশেখর রাও ভোটের আগে এ রাজ্যে এসে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে একান্ত বৈঠক করেছিলেন এবং বিজেপিকে বিরোধী সামগ্রীক জোটকে বাদ দিয়ে আলাদা জোট করার পরামর্শও দিয়েছিলেন।তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল এঁরা আসলে বিজেপিরর ছায়ায় লালিত পালিত হতে চায়।এ রাজ্যে মমতা যেমন সরকারি কর্মীদের প্রতিবাদ আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে দমন করতে চান তেমনি তেলেঙ্গানায় চন্দ্রশেখরও তাই করতে চাইছেন।এঁরা কোনভাবেই বিজেপির থেকে আলাদা নয়,এঁরা কেউই গণতন্ত্রের পরিসরকে বৃদ্ধি করতে রাজি নন।এদের জন্যই বিজেপি গোটা দেশে দাপিয়ে বেড়াতে পারছে,নীতিগত ফারাক না থাকায় এদের কারোরই বিজেপিকে প্রতিহত করার ক্ষমতা নেই।বাম ও গণতন্ত্র প্রিয় শক্তিগুলোকেই এর বিরুদ্ধে একত্রিত হতে বলে মত বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য়ের।অরুণাভ ঘোষের আশঙ্কা বিচারকরা যদি লোভ আর লালসা ত্যাগ করতে না পারেন তবে এদেশের গণতন্ত্রের ঐতিহ্য ভেঙে পড়বেই।