পাশ ফেল প্রথা ফেরানোর থেকেও জরুরি প্রাথমিকে শিক্ষার মান উন্নয়নে জোর দেওয়া

0
72
রাজ্যে সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলে ফিরছে পাশ ফেল। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় মিডিয়াকে জানিয়েছেন পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ফিরছে পাশ ফেল। যদিও রাজ্য সরকার চেয়েছিল ৫ম থেকেই চালু করা হোক পাশ ফেল। কিন্তু কেন্দ্রীয় অাইনে রাজ্য সরকারের হাত পা বাঁধা। তাই কেন্দ্রের অাইন মেনেই অাপাতত ওই দুটি ক্লাসে পাশ ফেল চালু হচ্ছে রাজ্যে।
এতে মধ্যবিত্ততো বটেই বামপন্থী রাজনৈতিকদলের( এসইউসি) একটা অংশও একে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে পঞ্চম ও অষ্টমে পাশ ফেল প্রথা ফিরলেই কি সরকার ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে শিক্ষার মানের উন্নতি ঘটবে?সারা বছর স্কুলের পঠন পাঠনের মান উন্নতি না হলে পাশ ফেল প্রথা চালু হলে পড়ুয়াদের উন্নতি কী করে সম্ভব ? পাশ ফেল প্রথা চালু হলে কিছু পড়ুয়াকে ক্লাসরুম থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে  যার জেরে ড্রপ অাউটের সংখ্যা বাড়তে পারে। কিন্তু এতে পড়ুয়াদের পড়ার অাগ্রহ বাড়বে কি? সারা বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন মূল্যায়নের মাধ্যমেই পড়ুয়াদের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব, বাদ দিয়ে তাঁকে স্কুলছুট করে সমাজের লাভ হবে কি?
পাশ ফেল চালু করে এরাজ্যের শিক্ষার বেহাল অবস্থাকে অাড়াল করা যাবে না। কেন পড়ুয়াদের একটা অংশ অষ্টম শ্রেণিতেও ভাল করে রিডিং পড়তে পারে না? এর দায় মূলত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিতে হবে। কেন স্কুলের পঠনপাঠনের পরিবর্তে এরাজ্যে টিউশন নির্ভর শিক্ষা চালু হয়েছে কয়েক দশক ধরে? কেন এরাজ্যে অধিকাংশ  স্কুলের পরিকাঠামো দুর্বল এমনকি পরিচ্ছন্ন শৌচলয়ের অভাব?কেন এরাজ্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের নামে যা চলছে তাকি শিক্ষক শিক্ষিকাদের মান বাড়াতে সাহায্য করছে। এরাজ্যে শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও নিরবিচ্ছিন্ন মূূল্যায়নের কি দরকরা নেই?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে  মধবিত্ত ভোটের দিকে নজর রেখে পাশ ফেল প্রথা ফিরিয়ে অানা হচ্ছে সরকার। এর সঙ্গে শিক্ষার মানের কোন সম্পর্ক অাছে এর কোন প্রমাণ নেই। উচিত রাজ্যে শিক্ষার পরিকাঠামো ও মান উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া। শাসকদলের খবরদারির যে কালচার বাম জমানা থেকে শুরু হয়েছিল তা অাজ অারো বেড়েছে। তাই স্কুল পরিচালনায় দুর্নীতি স্বজনপোষণ বন্ধ হওয়া অত্যন্ত জকরি। যেদেশে একবেলা দুটো খেতে পাবে বলে পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ স্কুলে অাসে সেখানে বাদ দেওয়ার যে কোন চেষ্টাই সমর্থন করা উচিত কি?