মির্জা ও শোভনের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুললেন ম্যাথু

0
11

নারদাকান্ডের তদন্তে সহায়তা করতে সিবিআইয়ের ডাকে সোমবারই শহরে এসেছেন নারদা স্ট্রিং অপারেশনের প্রধান হোতা ম্যাথু স্যামুয়েলস।আর কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়ে দিলেন মকুল রায় সরাসরি তাঁর কাছ থেকে কোন টাকা না নিলেও পুলিশ অফিসার মির্জা ও তখনকার কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় তাঁর কাছ থেকে সরাসরি ঘুষের টাকা নিয়েছিলেন।ম্যাথু এদিন জানান মঙ্গলবার অথবা বুধবার তিনি এখানকার সিবিআইয়ের দপ্তরে যাবেন।তিনি গোটা বিষয়টার নিষ্পত্তি হোক চান জানিয়ে বলেন,নেতাদের দুর্নীতি ধরতেই তিনি লাগাতার লেগে থেকে নারদা অপারেশনটা করেছিলেন।তিনি চান দুর্নীতি গ্রস্ত নেতারা সাজা পান।তবে তদন্তের দীর্ঘ সূত্রীতা নিয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন নারদা কান্ডের প্রধান হোতা।

নারদা কান্ডে তিনি কোন রাজনৈতিক দলের ব্রিফ নেন নি বলে দাবি করে ম্যাথু বলেন সাংবাদিকতায় এই ধরনের প্রয়াস সাহসী প্রয়াস হিসেবেই স্বীকৃত হয়ে আসছে।জনপ্রতিনিধি বা পাবলিক সার্ভেন্টদের কাজের সততা পরীক্ষা করতে এই ধরনের প্রয়াস একটা স্বীকৃত রীতি।এতে সমাজের উপর তলায় কোন দুর্নীতি বাসা বেঁধে থাকলে তা সর্বসমক্ষে চলে আসে।সাধারণ মানষ এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে,সচেতন হতে পারে।সরকার বা প্রশাসনেরও এতে দুর্নীতি গ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।ম্যাথু স্যামুয়েলের দাবি তিনি সাংবাদিকতার এক নৈতিকতার জায়গা থেকে ও সাহসী সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত তৈরির তাগিদ থেকেই নারদা স্ট্রিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।তাঁর কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা বিদ্বেষ ছিল না।তবে ঘটনাক্রমে তিনি রাজনৈতিক বিতর্কের আবহের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন তা মেনে নিয়ে ম্যাথু এটাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মত দেন।

তবে নারদা কান্ডে যে ভাবে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা হয়েছে এ রাজ্যের সরকারের পক্ষ থেকে তাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখানকার সরকার কতটা আন্তরিক তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন ম্যাথু স্যামুয়েলস।তিনি নিজে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নারদা স্ট্রিং অপারেশন না করলেও সেই ইস্যুকে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দল রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করছে কিনা সে  প্রশ্ন করলে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা এড়িয়ে যান ম্যাথু স্যামুয়েলস। এমনকী এই অপারেশনে তাঁকে কে অর্থ জোগান দিয়েছিলেন সে প্রশ্নেও কোন উত্তর না দিয়ে  এড়িয়ে যান ম্যাথু।সব মিলিয়ে লারদা তদন্ত নিয়ে যে সিবিআই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং আবারও যে কিছু রাজনৈতিক হেভিওয়েট সিবিআইয়ের নজরে চলে আসতে চলেছেন তা পরিষ্কার হতে শুরু করেছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন এ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আবারও বদলাতে পারে এই নারদা তদন্তের সূত্র ধরেই।