জিয়াগঞ্জে খুন, ভাসান কার্নিভাল ও রাজ্যপালের অপমান

0
34

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।মঙ্গলবার সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন,রাজ্যসরকারের আয়োজনে ভাসান কার্নিভালে গিয়ে তিনি যথেষ্ট অপমানিত হয়েছেন।রাজ্যের সাংবাধিনিক প্রধান হিসেবে রাজ্য সরাকরের তরফে কেউ তাঁর সঙ্গে সেভাবে কথা বলেন নি,তাঁকে সমাদরও করেননি।রীতি অনুযায়ী যে ব্যবহার তাঁর সঙ্গে করার কথা রাজ্য সরকারের তরফে কেউই তা করেন নি।বিষয়টা তাঁকে যখেষ্ট আহত করেছে বলে মন্তব্য করেন রাজ্যপাল জগদীপ খানকড়।এদিন তিনি সংবাদমাধ্যমেরও সমালোচনা করে বলেন এ রাজ্যে সংবাদ মাধ্যম সবসময় যেন ভয়-ভীতি নিয়ে কাজ করছে।গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধানস্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের ভয় ত্যাগ করে সত্য তুলে ধরা কর্তব্য বলেও মনে করিয়ে দেন রাজ্যপাল।প্রসঙ্গক্রমে রাজ্যপাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাণী উল্লেখ করে বলেন ভয়কে জয় করতে না পারলে সত্যকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে কিছুদিন থেকেই রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে একটা দ্বন্দ্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।যাদবপুরের ঘটনায় যেমন রাজ্যপালের জড়িয়ে পড়া রাজ্য সরকার ভালভাবে নেয় নি তেমনি মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে একই পরিবারের তিনজন ব্যক্তি খুন হয়ে যাবার পর রাজ্য প্রশাসনের নীরবতাকে তীব্রভাবেই আক্রমণ করেছিলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।রাজ্যপালের সেই প্রতিক্রিয়ার জবাবে এ রাজ্যের শাসক দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় পাল্টা বলেছিলেন রাজভবনে বসে রাজ্যপাল রাজনীতি করে সংবিধানের অবমাননা করছেন।এদিন রাজ্যপালের প্রতিক্রিয়ার পর দ্বন্দ্বের মাত্রা যে বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে রাজ্যপাল জিয়াগঞ্জের ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছিলেন ষে এক পরিবারের তিনজনের খুন হয়ে যাওয়া নিয়ে যে প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই সেই প্রশাসন কোন যুক্তিতে ভাসান কার্নিভাল নিয়ে মেতে থাকতে পারে!এরকম উক্তির পর রাজ্যপালের উচিত ছিল রাজ্য সরাকরের আয়োজনে ভাসান কার্নিভালে না যাওয়া।তাহলে রাজ্য প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ত ও রাজ্যপালের সংবেদনশীলতার আন্তরিকতাও প্রকাশ পেত।তা না করে যে আয়োজনের সমালোচনা করলেন সেই আয়োজনেই চলে গিয়ে রাজ্যপাল এখন যেভবে আবার অপমানের প্রসঙ্গ তুলছেন তাতে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ যুক্তি গ্রাহ্য হতে পারে অনেকের কাছে।