রাফাল মিললো, উত্তর মিললো না এখনও

0
24

গত মঙ্গলবার ফ্রান্সে প্রথম রাফাল যুদ্ধ বিমানটি ভারতের হাতে অপর্ণ করে দ্যসল্ট। সেখানেই শস্ত্রপুজোও করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।কিন্তু যে রাফাল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে গত লোকসভা ভোটের অাগে উত্তাল হয়েছিল কংগ্রেস। তার এখন অার সেরকম সরব নয়। রাফাল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশনের মামলার রায় হতে পারে কিছু দিনের মধ্যে। তাতে  দুর্নীতির অভিযোগের সব উত্তর মিলবে এমন অাশা করছেন না অনেকেই।

 

রাফাল নিয়ে অভিযোগগুলি কী কী?

 বোফর্সের থেকেও বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে রাফাল চুক্তিতে। এতে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি প্রায় ৩৫০০০ হাজার কোটি টাকা। গত বছর  নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে  বিজেপির ২ প্রাক্তনমন্ত্রী অরুণ শৌরি ও যশবন্ত সিনহার সঙ্গে  এই অভিযোগ করেছিলেন প্রশান্তভূষণ। অরুণ শৌরির  অভিযোগ কংগ্রেস সরকারের সময় হওয়া চুক্তির থেকে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা বেশি দিয়ে কেনা হচ্ছে  প্রতিটি রাফাল  বিমান। শুধু তাই নয় গোপনীয়তার কারণে রাফালের দাম  প্রকাশ করা যাবে বলে যে কথা বর্তমান সরকার বলছে তাও সত্যি নয় বলে দাবি করেন অরুণ শৌরি। শৌরি জানিয়েছিলেন বর্তমান সরকারের এই ‘বোকারা’ ২০১৬ সালের নভেম্বরে লোকসভায় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলপ্রতিটি রাফাল বিমানের দাম ৬৭০ কোটি টাকা। সরকার এখন দাম প্রকাশ করতে না  চাইলেও সাংবাদিক বৈঠকে অরুণ শৌরির দাবি রাফাল নির্মাতা দ্যাঁসল্ট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে যে তথ্য জানিয়েছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি বিমান কেনা হচ্ছে অন্তত ১৬৬০ কোটি টাকায়।

 অভিজ্ঞতা না থাকায় সত্বেও সরকারের বন্ধ অনিল অাম্বানির কোম্পিনকে ২০ হাজার কোটি টাকার বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অার এই সব করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তত্কালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্করের সঙ্গে অালোচনা ছাড়াই। এর জন্য মোদির বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য পদের অপব্যবহারের মামলা হতে পারতো, অার তা যাতে না করা যায় কিছুদিন দিন অাগে অাইন সংশোধন করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ।

কংগ্রেস সরকারের  সময় ১২৬টি রাফাল কেনার যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাতিল করে ৩৬টি রাফাল কেনার বরতা দিয়েছে মোদি সরকার। অথচ নতুন করে টেন্ডার না করে। এটিও বেনিয়ম বলে অভিযোগ করেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ।

রাফাল কেনা নিয়ে ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দফতরের তরফে সমান্তরাল কথা চালানোর জন্য ভারতের দরকষাকষির অবস্থানকে দূর্বল করেছে । ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বরেরপ্রতিরক্ষামন্ত্রকের ফাইলের এই নোটিং দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর রাফাল ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যালোচনার দাবি ওঠে। বিরোধীরা অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের কাছে মিথ্যে কথা বলেছে সরকার।

 লোকসভা  ভোটে চলে গেছে। এখন অার রাফাল ইস্যু নয়। কংগ্রেস অনেকটাই ছন্নছাড়া। ফলে রাফাল নিয়ে যারা অাওয়াজ তুলেছিলেন তারা এখন নীরব। তা কোন দিন কি জানা যাবে রাফাল কেলেঙ্কারির সত্যিটা কী?