শোভনকে দিদির ফোঁটা-বিজেপির দুয়ারে পড়ল কাঁটা?

0
12

এ রাজ্যের মানুষমাত্রই জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ভাইফোঁটার আমন্ত্রনের সঙ্গে অনিবার্যভাবে জড়িয়ে থাকে রাজনীতির নানা সমীকরণ। সেই অনেকদিন আগে মমতা যখন এ রাজ্যের বিরোধী নেত্রী তখন থেকেই তাঁর এই ভাইফোঁটার আমন্ত্রনের সঙ্গে রাজনীতির নানা অংককে তিনি একাকার করে নিয়েছেন।তাঁর বাড়িতে ভাইফোঁটার ডাক পাওয়া ব্যক্তিমাত্রই তাঁর ঘনিষ্ট বৃত্তের লোক বলে চিহ্নিত হওয়া।উল্টোদিকে যে বা যারা আচমকাই এই আমন্ত্রন থেকে বাদ পড়ে যাবেন তারা যে মমতার ঘনিষ্ট বৃত্ত থেকে সরে গেছেন বুঝতে কারোর অসুবিধা হতনা এবং এখনও হয় না।এই যেমন গতবার মমতার একদা ঘনিষ্ট শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মমতার ভাইফোঁটার আমন্ত্রন না পাওয়াটা একপ্রকার অবধারিতই ছিল।তার আগে থেকেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভনের সম্পর্ক নিয়ে যে সব খবর ছড়াচ্ছিল তাতে বোঝাই যাচ্ছিল গতবার মমতার বাড়িতে শোভনের ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।বাস্তবে তাই ঘটেছিল।শোভন যে মমতার ঘনিষ্ট বলয় থেকে ছিঁটকে গেছেন তাতে শিলমোহর পড়ে যায় মমতা তাঁর ভাইফোঁটার তালিকা থেকে শোভনকে ছেটে ফেলায়।

মমতার ভাইফোঁটার আয়োজন আসলে যে এক রাজনৈতিক সমীকরণকে স্পষ্ট করে দেয় তা এবারও বোঝা গেল।এবার মমতার বাড়িতে শোভন ডাক পেয়েছিলেন ভাইফোঁটার।গত একবছরে শোভনের রাজনৈতিক জীবনে নানা টানাপোড়েন দেখা গেছে,তিনি এখন বিজেপির একজন নেতা।ঘটা করে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রকাশ্য সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন একনায়ক,তাঁর সঙ্গে কাজ করা যায় না।গণতন্ত্র বলে কোন কিছুর প্রতি কোন আনুগত্য নেই মমতার।সেই শোভনই আবার মমতার ডাকে তাঁর বাড়িতে ভাইফোঁটা নিতে উপস্থিত হয়ে বুঝিয়ে দিলেন এখন আবার অন্য রাজনীতির অংক কষছেন তিনি।মাত্র কয়েকমাস আগে যে নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর জনদরদী দেশনেতা মনে হয়েছিল এখনও তাঁকে তাই মনে হয় কিনা জিজ্ঞাসা করলে হয়তো অন্য উত্তর পাওয়া যাবে।বিজেপিতে কোণঠাসা শোভন আবার মমতার চরণে আশ্রয় নিলে অবাক হবার কিছু নেই।তারই প্রথমধাপের নাটক হয়তো হয়ে গেল মমতার এই ভাইফোঁটার অনু্ষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।

সাধারণ মানুষ সবই দেখছেন,সবই বুঝছেন কি!এই শোভনদের মত নেতারা যারা রাজনীতি করেন শুধু ব্যক্তিগত লাভলোকসানের হিসেব করতে,যাদের কাছে নীতি নৈতিকতা আদর্শের কোন মূল্য নেই।রাজনীতির এই সব কারবারিরা কবে মূল্যবোধ আর সততাকে সম্মান করতে শিখবেন আমরা জানি না।তবে আমরা মনে করি মানুষের চেতনা ও বোধই একমাত্র এই মূল্যবোধহীন রাজনীতির অবসান ঘটাতে পারে।আমরা মানুষের সেই বোধ ও চেতনার সেই বিকাশের জন্যই শব্দ ও বাক্যে শান দিয়ে যাবো অবিরাম।