সাংবাদিক সন্ময়ের হেনস্থায় সাংবাদিকরা এতটা নিস্পৃহ কেন?

0
37

গত কয়েকদিন ধরে সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর পুলিশি নিপীড়নের যে খবর সামনে আসছে তাতে বুঝতে অসুবিধা হয় না শুধুমাত্র বিরোধী স্বর রুদ্ধ করার জন্যই রাজ্য প্রশাসন এতটা আইন বিরুদ্ধ কাজ করেছে।জামিন পাবার পর সন্ময়বাবু তাঁর উপর চলা নির্যাতনের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা যদি সত্যি তাহলে মানতেই হবে রাজ্য প্রশাসন একেবারে স্বৈরাচারি অভ্যেসে রপ্ত হয়ে উঠেছে।একজনমানুষকে মাটিতে ফেলে তাঁর নিম্নাগ্নে ক্রমাগত লাথি কষানো প্রশাসনিক কাজ হতে পারে না।সেটা প্রতিহিংসা ও ইতরামিকেই প্রতিষ্ঠিত করে।একটা কথা ভেবে আশ্চর্য হতে হয় যে একজন মানুষ যিনি স্যোশাল মিডায়ায় সংবাদ লেখা ও বলার কারণে এভাবে প্রশাসনের অন্যায় জুলুমবাজির শিকার হলেন,তাঁর সম্পর্কে একেবারে নিস্পৃহ এ রাজ্যের সাংবাদিককূল।সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটা নিন্দা বাক্য উচ্চারণের সাহস দেখাতে পারলেন না এ রাজ্যের কোন সাংবাদিক।সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন তিনি একজন সাংবাদিকই এবং সাংবাদিকতার সূত্রেই তাঁকে সরকারি আক্রোশের মুখে পড়তে হয়েছে।

সন্ময়বাবুর বক্তব্য রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বমূলক বলে যে কারোর মনে হতেই পারে।তাঁর বিরুদ্ধে পান্টা বক্তব্যও রাখা যায়।যুক্তি দিয়ে সন্ময়বাবুর যুক্তিকে খন্ডন করতেও কেউ আপত্তি করেনি।তিনি যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কারোর মানহানি করে থাকেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতেও কেউ বারণ করেছেন না।কিন্তু যে ভাবে কাউকে কুছু না জানিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছে তা চরম বেআইনি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের চূড়ান্ত নিদর্শন।এর পরেও যেভাবে সংবাদ কর্মীরা চুপ করে রয়েছেন তাতে মনে হয় এ রাজ্যে সাংবাদিকদের অধিকাংশই বিবেক ও নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়েছেন।মনে হচ্ছে সাংবাদমাধ্যমের দায়বদ্ধাতার কথা তাঁরা ভুলে গেছেন।শাসকদলের পদলেহন করা সাংবাদিকতার শর্ত নয়,সাংবাদিকতার শর্ত শাসকের ভুল ধরিয়ে দেওয়া,সাধারণ জনস্বার্থের পক্ষে থাকা।

অবশ্য গোটা দেশ জুড়েই এই মূহুর্তে সাংবাদিকতার এক সংকট শুরু হয়েছে।কেন্দ্রে যেমন শাসক অনুগত মিডিয়া সাংবাদিকতার ধর্মকে ভুলে শাসক বন্দনা করে সংবাদ ব্যবসাকে বাড়াতে ব্যস্ত। এ রাজ্যেও তেমনি বিজ্ঞাপনের লোভ ও মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ট হওয়ার তাড়নায় একদল সাংবাদিক নামধারী ধান্দাবাজ সংবাদিকতার পেশাকে শাসকের দালালির নামাম্তর করে তুলতে ব্যস্ত।তাই বোধহয় গৌরী লঙ্কেশের খুনের প্রতিবাদে ও স্বাধীন সাংবাদিকতার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিছিলে হাঁটার পরেও এ রাজ্যে সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন নির্দয় নিপীড়নে নীরব থেকে এরা এক ভয়ঙ্কর দ্বিচারিতার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারেন।তবে আমরা পরিষ্কার বলছি এ রাজ্যে যিনি সাংবাদিকদের অপ্রিয় প্রশ্ন করতে দেন না,যিনি সন্ময় বন্দ্যাপাধ্যায়ের উপর এমন নির্দয় নিপীড়ন করেন,সেই মুখ্যমন্ত্রীর কোন নৈতিক অধিকার নেই সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বা গৌরী লঙ্কেশদের মত সাংবাদিকদের নিয়ে কোন কথা বলার।আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।