সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়াতেই কি গ্রেফতার কংগ্রেস মুখপাত্র সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়?

0
176

কংগ্রেস দলের রাজ্য মুখপাত্র ও সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে ভাবে একদল বহিরাগতের সাহায্যে ঘরের দরজা ভেঙে নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তাতে এ রাজ্যের শাসক দলের চূড়ান্ত স্বৈরাচারি মানসিকতা প্রকাশ পায় বলেই অভিযোগ সন্ময়ের পরিবারের।সন্ময়ের বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান গতকাল থেকেই তাঁর দাদাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন শাসক তৃণমূলের একদল লোক তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে।কোথায় ও কেন তুলে নিয়ে গেছে সে বিষযে তাঁরা প্রথমে সম্পুর্ণ অন্ধকারে ছিলেন।কয়েকদিন ধরেই স্যোশাল মিডিয়াতে শাসক দলের বিরোধিতা করে নানা খবর সম্প্রচার করার কারণে শাসকদের হুমকির মুখে পড়েন সন্ময়বাবু।সেই থেকেই তিনি নিজের বাড়িতে না থেকে অন্যত্র থাকা শুরু করেন বলে জানাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা।সেই জায়গার হদিশ পেয়েই তাঁকে গতকাল সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায় একদল শাসক আশ্রিত গুন্ডার দল।অন্তত এমনটাই অভিযোগ সন্ময়বাবুর পরিবারের সদস্যদের। দীর্ঘদনি ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া রাজ্যের শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করছিলেন তিনি। এর জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মনে করেন অধীর চৌধুরী। অধীর বাবু কংগ্রেস কর্মীদের রাস্তায় নেমে এই গ্রেফতারির প্রতিবাদ করতে অাহ্বনা জানিয়েছেন।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র অভিযোগ করেন এ রাজ্যে এখন গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে। যে বা যারা সরকারের সমালোচনা করবেন তাদেরই জেলে ভরে দেওয়া হবে।তাঁর মতে সন্ময় কোন ডাকাতি বা জোচ্চুরি করেননি,এমনকী তিনি কোন খুনখারাপির সঙ্গেও যুক্ত নন তবুও তাকে একেবারে গুন্ডা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।এটা স্বৈরাচার ছাড়া অন্য কিছু নয়।প্রদেশ কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।এই গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করে একে ধিক্কার জানিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন,’আমি বার বার বলে এসেছি তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।এই দুটো দলই গণতন্ত্রকে হত্যা করে নাগরিকের স্বাধীন মতকে অবরুদ্ধ করতে চায়।এই ঘটনায় আবার তা প্রমাণ হল।এই দুই স্বৈরাচারি সরকারকে প্রতিহত করতে একসঙ্গে সকলকে পথে নামতে হবে।’সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার অভিযোগ করেছে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন থানায় যাগাযোগ করা হলেও কোন থানাই প্রথমে স্বীকার করতে চায়নি,যে তাঁকে  গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অনেক চেষ্টার পর পরিবার শুক্রবার সকালে জানতে পারে যে পুরুলিয়াতে সন্ময়বাবুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।পরাবারের অভিযোগ কোন সভ্যদেশে পরিবারকে না জানিয়ে স্থানীয় গুন্ডাদের সাহায্যে পুলিশ কোন ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যেতে পারে?কেন তাদের এ্যরেস্ট মেমো দেখানো হল না,কেন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল না,পুলিশ ও শাসক দলের গুন্ডা কীভাবে একসঙ্গে মিশে যেতে পারে, সে প্রশ্নও করেন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার।সন্ময়বাবুর সহকর্মী যিনি স্যোশাল মিডায়াতে সন্ময়বাবুর সহকারি হিসেবে কাজ করতেন তাঁর অভিযোগ,দিন কয়েক আগে সন্ময়বাবু একসময় তাঁর সহপাঠি বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের তীব্র সমালোচনা করে একটি ভিডিয়ো ও লেখা পোস্ট করেন।তার জেরেই এই পুলিশি নিপীড়ন হয়েছে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।এই প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে তীব্র কটাক্ষ করে আইনজীবী অরুণাভ যোষ বলেন,’আলাপন সরকারি নীতি আদর্শকে উপেক্ষা করে সবসময় চাটুকারিতা করতেই অভ্যস্ত।ও বাম আমলে বুদ্ধদেববাবুর কাপড় কাঁচতো আর এখন মমতার সায়া পরিষ্কার করে।’

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এ রাজ্যের মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরও।এপিডিআরের পক্ষে সহ সম্পাদক রঞ্জিত শূর বলেন গণতন্ত্রের পক্ষে খুবই খারাপ নজির এই ঘটনা।এদেশের প্রতিটি শাসক দলই যে যেখানে ক্ষমতায় আছে তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।যে মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ করেন তাঁর প্রশাসনই আবার সুপ্রিম কোর্টের যাবতীয় নিয়মনীতি অগ্রাহ্য করে একজন ব্যক্তিকে বিনা ওয়ারেন্টে,পরিবারকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।রঞ্জিতবাবু আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন সত্তর দশকে এ রাজ্যের মানুষ দেখেছেন পুলিশ আর শাসক দলের গুন্ডা বাহিনী একসঙ্গে বাড়িতে হাানা দিত,এখন আবার এ রাজ্যে সেই নজির ফিরে আসছে।নাগরিক সমাজকে সমস্ত রাজনৈতিক মতবাদের উর্দ্ধে এর বিরুদ্ধে পথে নামাতে না পারলে সামনের দিন ভয়ঙ্কর বলে মন্তব্য করেন মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী রঞ্জিত শূর।শুক্রবার দুপুর থেকেই কংগ্রেস ও বামেরা একযোগে পুরুলিয়া ও খড়দহ এলাকায় সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যাের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করেছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সন্ময়বাবুর বিরুদ্ধে স্যোশাল মধ্যমে মিথ্যে অভিযোগ ছড়ানোর কারণে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে,আর কিছু অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে প্রশাসিন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।তবে তার জন্য কেন মাঝরাতে তাঁকে তুলে আনতে হল.কেন পরিবারকে কিছু জানানো হল না? কেন পুলিশের সঙ্গে শাসক দলের কোন ব্যক্তি ছিল কি না?কেন তাকে প্রথমেই মারধোর করা হল,কেন জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে? প্রশ্নের কোন উত্তর প্রশাসন সূত্রে মেলে নি।তৃণমূলের মহাসচিবক পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে বার বার বার ফোোন করা হলেও তিনি একবারও ফোন ধরেন নি।

ে ি