১৩দিন ধর্মঘট ও ২ কর্মীর অাত্মহত্যার পরও তেলেঙ্গানা সরকার বাস ধর্মঘট মেটাতে অালোচনায় বসতে নারাজ

0
92

তেলেঙ্গানায় সরকারি  পরবিহণ সংস্থার কর্মীদের ধর্মঘট বৃহষ্পতিবার ১৩দিন পড়লেও রাজ্য সরকারের অবস্থান নমনীয় হচ্ছে না। ধর্মঘটীদের সঙ্গে অালোচনা তো দূরের কথা তাদের কার্যত ছাঁটাই করার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেসিঅার। ইতিমধ্যেই ২জন কর্মী অাত্মহত্যা করেছেন বলে মিডিয়া রিপোর্ট।   অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে বাস চালানোর পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করতে চলেছে রাজ্য সরকার।  তেলেঙ্গানা সরকার জানিয়েছে ২১ অক্টোবরের মধ্যে বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দেলনে নেমেছিলেন তেলেঙ্গানা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের ৫০ হাজার কর্মী।গত শনিবার সকাল থেকে তাঁরা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘটে সামিল হয়।দাবি ছিল অন্যান্য রাজ্য গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসোয়ারা দিতে হবে।বকেয়া মাইনে মিটিয়ে দিতে হবে,৬০ বছর পর্যন্ত চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে।তেলেঙ্গানাতেও পরিবহন কর্মীদের সরকারি কর্মীর স্টেটাস দিতে হবে।এইসব দাবিতে আন্দোলনে নামা কর্মীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন।  এই কর্মবিরতিকে একেবারেই ভাল চোখে দেখে নি তেলেঙ্গানার কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সরকার।আন্দোলনকারী কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া ৪৮হাজার কর্মীকে আর কাজে ফেরানো হবে না,তাদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে সরকার। সরকার তাদের দাবি না মানায় কর্মীরাও অান্দোলন থেকে সরতে নারাজ। অাগামী ১৯ অক্টোবর রাজ্য বনধের ডাক দিয়েছে যুক্ত কমিটি।

অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন কর্মীদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই অঙ্গ,সেখানে কোন সরকার এভাবে কোন আলোচনা না করে এককথায় এতদিনের কর্মীদের বসিয়ে দিতে পারেন কি ভাবে?গোটা দেশজুড়েই তেলেঙ্গানা সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।সরকারের এই স্বৈরাচারি সিদ্ধান্ত এখনই প্রতিরোধ করতে না পরলে এই প্রয়াস আসলে যে কোন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকে ধ্বংস করে দেবে বলে বলে করছেন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও।তেলেঙ্গানার আগে একবার কর্মীদের ছাঁটাইয়ের কথা ঘোষণা করেছিলেন তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাও,এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও জুনিয়র জাক্তারদের কর্মবিরতি তুলে নিতে প্রথমদিকে হুমকি দিয়ে সময় বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন কাজে যোগ না দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অনেকেই তাই বলতে শুরু করেছেন এ দেশে ভোটে নির্বাচিত সরকারগুলির মধ্যে স্বৈরাচারের লক্ষণটা সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।