অনাহারে শিক্ষকদের দেখে আহারে বাংলা মেলায় ঢুকতে লজ্জা পেয়ে ফিরে গেলেন এক শিক্ষক

0
2865

অনুপম কাঞ্জিলালঃ   তিনিও স্কুল শিক্ষক,পার্শ্ব শিক্ষকরা তাঁদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন জানতেন  ।তবে এটা জানতেন না যে পার্শ্ব শিক্ষকদের অনশন ক্লিষ্ট চেহারাগুলো পেরিয়েই তাকে ঢুকতে হবে আহারে বাংলা নামের খাদ্য মেলায়। মঙ্গলবার ভর সন্ধ্যায় বিকাশ ভবন সংলগ্ন সেন্ট্রাল পার্কে খাদ্য মেলায় তাই ছেলেকে নিয়ে এসে বেজায় লজ্জার মধ্যে পড়লেন মানিকতলার তপন কুমার মজুমদার। তপনবাবু যখন সেন্ট্রাল গেট দিয়ে খাদ্য মেলায় ঢুকতে যাবেন,ঘটনা চক্রে ঠিক সেই সময়টাতেই সেই গেটের অদুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকশো পার্শ্ব শিক্ষক।তাঁদের হাতে প্লাকার্ড-‘আহারে বাংলা অনাহারে শিক্ষক’।চোখ আটকে যায় পেশায় শিক্ষক তপনবাবুর।এগিয়ে গিয়ে কথা বলতে শুরু করেন ওঁদের সঙ্গে।জানতে পারেন গত পাঁচদিন ধরে পার্শ্ব শিক্ষকদের একাংশ অনশন করছেন।বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে অসুস্থও হয়েছেন।হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের।এরপরেই বিবেকে ধাক্কা লাগে তপন কুমার মজুমদারের।তপনবাবুর বছরদশের ছেলেটা ততক্ষনে বাবাকে তাডা় দিতে শুরু করেছে মেলার ভেতরে যাবার জন্য।সেন্ট্রাল পার্কের ভেতর থেকে তখন ভেসে আসছে ফিস ফ্রাই চিকেন পকোড়ার মত মচমচে খাবারের গন্ধ।তপন কুমার মজুমদার তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বিবেকের ডাককেই প্রাধান্য দেবেন তিনি।অনাহার ক্নিষ্ট শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে,তাঁদের আ !হারে বাংলা  অনাহারে শিক্ষক স্লোগানকে উপেক্ষা করে ঢুকবেন না খাদ্য মেলায়।ছেলের বায়না সামাল দিতে তাকে অন্য জায়াগায় খাওয়াবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফিরে গেলেন তিনি।

   সাতদিনডটইনকে ঘটনার যাবতীয় প্রতিক্রিয়া দিয়ে মাঝবয়সী এই স্কুল শিক্ষক জানান,’এমনিতেই আমরা এখন যাবতীয় পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিষয়ে সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলছি।আমার মনে হয়েছে একজন শিক্ষক হিসেবে নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকাটা জরুরি তাই মেলায় না ঢুকে ফিরে এসেছি।’ তপনবাবু বলেল তার স্ত্রী বেশ কিছুদিন শহরের বাইরে গেছেন একটা বিশেষ প্রয়োজনে।তার ছেলেটা দাদু-দিদার কাছে থাকে।মঙ্গলবার তিনিই ছেলেকে বলেছিলেন বিকেলে তাকে নিয়ে বাইরে থেকে খাইয়ে আনবেন।তাই অা!হারে বাংলার প্রচার দেখে তাঁর মনে হয়েছিল সেন্ট্রাল পার্কে ঘোরাও হবে আর ওকে খাইয়ে আনাও যাবে।কিন্তু তপনবাবু ভাবতে পারেন নি এরকম একটা পরিস্থিতি দেখতে হবে।পরিষ্কার বললেন লজ্জা পেয়েছেন খুব লজ্জা পেয়েছেন।

   পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়ায় বললেন,কে ঠিক কে বেঠিক জানিনা,কিন্তু সরকারের অবশ্যই কথা বলা উচিত।একদল মানুষ দিনের পর দিন না খেয়ে অনশন করবেন আর সরকার উদাসীন থেকে যাবে এটা মানা যায় না।আর যেটা মানা যায় না তা হল একদল অনশনরত মানুষর নাকের ডগায় এই খাদ্য মেলার আয়োজন।বিবেক আর নৈতিকতার ডাকে সাড়া দিলেও সাবধনতা বা ভয়কে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করতে পারেন না এই শিক্ষক তাই প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন তাঁর ছবি,স্কুলের নাম ও বাড়ির নির্দিষ্ট ঠিকানা প্রকাশ করা যাবে না।এখন প্রশ্ন হচ্ছে তপনবাবু লজ্জা পেলেও লজ্জা পাচ্ছে কি মধ্যবিত্ত বাঙালির একটা বড় অংশ?উত্তর,অবশ্যই না।আর সেই কারণেই সোমবার থেকেই অসংখ্য ভোজন রসিক মানুষ ভিড় জমিয়েছেন সেন্ট্রাল পার্কের আহারে বাংলায়।পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সেন্ট্রাল পার্কে ঢুকতে কাউকে বাধা দেওয়া যাবে না,এমনকী সাধারন মানুষের আসা যাওয়ার পথে অবস্থান করাও যাবে না।বটেই তো নানাবিধ রসনা তৃপ্তিদায়ক খাবার খেয়ে বেড়িয়ে আসার পর অনাহার ক্লিষ্ট শিক্ষকদের অবস্থান বিক্ষোভ দেখে কোন খাবারের স্বাদ যেন বিস্বাদ না হয়ে ওঠে তার ব্যবস্থা তো প্রশাসনকেই করতে হয়।সরকার ও প্রশাসনের এই সুচারু আয়োজনের মধ্যে খুচরো কাঁটা হয়ে থেকে যান শুধু তপনবাবুদের মত কিছু মানুষ।তবে এঁরা নেহাতই ব্যতিক্রম বই তো নয়!!সরকারের তাই আহ্বান সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব পেরিয়ে,প্রথামিক শিক্ষক,পার্শ্ব শিক্ষক সহ সকলের সব  অভিযোগ অনাহারকে এড়িয়ে চলুন রসনা তৃপ্ত করতে খাদ্য মেলায় ভিড় জমাই!