কেন ফের রাস্তায় পার্শ্বশিক্ষকেরা?

0
240
এর আগে বিকাশভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের তাড়া খেয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন এ রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকদের সংগঠন পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের শিক্ষকরা।তারপর নৈহাটিতে সভা করতে গিয়েও রাতের অন্ধকারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এঁরা।অভিযোগ উঠেছিল সভামঞ্চের লাইট নিভিয়ে দিয়ে পুলিশ নির্বিচারে মহিলা শিক্ষকদের শ্লীলতাহানি করতেও দ্বিধা করে নি।রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকদের অভিযোগ এ রাজ্যে তারা কেন্দ্রীয় সরকারি রীতি অনুযায়ী বেতন পান না।পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন এ রাজ্যে অন্যান্য রাজ্য থেকে অনেকটাই কম বলে দাবি রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকদের।অন্য রাজ্যে যেখানে সহায়ক শিক্ষকরা প্রথমিক স্তরে ২৫ হাজার ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৩০ হাজার টাকা বেতন পান এ রাজ্যে সেখানে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন প্রথমিক স্তরে ১০ হাজার ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১৩ হাজার টাকা মাত্র।অথচ পার্শ্বশিক্ষকদের বেতনের বড় অংশই বরাদ্দ হয় কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে।কেন্দ্রীয় সরকার পার্শ্বশিক্ষকদের বেতনের ৬০ শতাংশ বহন করে আর রাজ্য সরকার বহন করে ৪০ শতাংশ।তবুও এ রাজ্যে কেন পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন এত কম তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব এ রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা।এর আগে বার বার তাদের পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করা হলেও সোমবার থেকে পার্শ্বশিক্ষকদের ঐক্যমঞ্চ হাইকোর্টের নির্দেশেই বিকাশভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছে।রবিবারই হাইকোর্টের বিচারক বিকাশভবন সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভকে গাজোয়ারি করে বন্ধ করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি করে।
এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পার্শ্বশিক্ষকরা উপস্থিত হন।সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয় তাদের দাবি না মানা হলে তারা আমরণ অনশনের পথে যাবেন।শিক্ষকদের উপর যেভাবে পুলিশি নির্যাতন চালানো হয়েছে তার প্রতিবাদ করে শিক্ষকদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ারও দাবি ওঠে।সংগঠনের পক্ষে আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ জানান,তারা সরকারের সঙ্গে সমস্ত রকম সহযোগিতা করতে তৈরি,তাদের শিক্ষকের মর্যাদা দিয়ে তাদের দাবি যৌক্তিকতা বিচার করতে হবে সরকারকে।তাদের ন্যূততম বেতন দীর্ঘদিন বাড়ান হচ্ছে না,কেন তাদের দাবি না মেনে তাদের বার বার পুলিশ দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে সে প্রশ্ন তোলেন ভগীরথবাবু।সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন,একমাত্র এ রাজ্যেই শিক্ষকদের অপরাধীর মত বিবেচনা করে তাদের পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করা হয়। যে শিক্ষকরা জাতি ও দেশের মেরুদন্ড বলে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য তাদের সঙ্গে এরকম আচরণের বিচার হওয়া উচিত।পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সিদ্ধান্ত তারা বিকাশভবনের সামনে আপাতাত হাইকোর্টের নির্দেশমত সাতদিন অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন,সরকার তাদের আলোচনায় না ডাকলে প্রয়োজনে তারা নবান্ন অভিযান ও আমরণ অনশনের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।পার্শ্বশিক্ষকদের তরফে রাজ্যপালকেও গোটা বিষয়টা জানানো হয়েছে।
এদিন পার্শ্বশিক্ষকদের বিক্ষোভ সমাবেশে ঘোষণা করা হয় তারা রাতেও বিক্ষোভ মঞ্চ ছেড়ে যাবেন না।পর্যায়ক্রমে জেলা থেকে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদী শিক্ষকরা এসে প্রতিবাদে সামিল হবেন।নৈহাটিতে যে শিক্ষক মহিলাদের উপর পুলিশি নিপীড়ন হয়েছিল তারাও উপস্থিত ছিলেন এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে।নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলে তাদের দাবি, কোন সভ্য সমাজে শিক্ষকদের উপর এরকম আক্রমণ হতে পারে ভাবা যায় না।রাতের অন্ধকারে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের সেই পুলিশ চরম অনৈতিক ও নির্লজ্জ ভাবে তাদের আব্রু হরণ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল।সেই থেকেই তারা আইনি লড়াই লড়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিনিয়ে আনার শপথ নিয়েছিলেন।রবিবার রাজ্যের হাইকোর্ট এই বিকাশভবন সংলগ্ন এলাকায় তাদের অবস্থান বিক্ষোভের অধিকার ফিয়িয়ে দেওয়ায় তারা মনে করছেন লড়াইয়ের প্রথমধাপে তারা জয়ী হয়েছেন শিক্ষকদের দাবি তারা বিপর্যস্ত হয়েই আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।সরকার যদি তাদের উপেক্ষা করে তবে জোরদার প্রতিবাদের রাস্তায় হেঁটেই তারা সরকারকে তাদের দাবি মানতে বাধ্য করবেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের পর এবার পার্শ্বশিক্ষকেরাও তাই রাস্তাকে বেছে নিলেন দাবি অাদায়ের জন্য। এখন দেখার কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।