পার্শ্বশিক্ষিকার মৃত্যু ও অারেক শিক্ষকের ব্রেন স্ট্রোকের পরও সরকারের ঘুম ভাঙবে কি?

0
74

অনুপম কাঞ্জিলালঃ  পার্শ্ব শিক্ষকদের অনশন বৃহষ্পতিবার ৭  দিনে পড়ল । অান্দোলনে অংশ নেওয়া পশ্চিম মেদিনীপুরের পার্শ্ব শিক্ষক রেবতী রাউতের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায় বৃহষ্পতিবার। তবে এই মৃত্যু নিয়ে শাসক বিরোধী কাজিয়া শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। একতরফে বলা হচ্ছে  রেবতী অনশনের জেরে অসুস্থ হয়ে পরে বাড়ি যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। অন্য তরফে দাবি করা হচ্ছে মোটরবাইক থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান ওই শিক্ষিকা। অার এরজন্য রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন অান্দোলনরত পার্শ্বশিক্ষকেরা। বুধবার অবস্থানে বসা শিক্ষক  তাপস বরের ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্শ্বশিক্ষক সংগঠনের নেতা ভগীরথ ঘোষ।   ৭জন অনশনকরারী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অান্দোলনকারীরা।  সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কেউ কথা বলেননি। বলার প্রয়োজন মনে করেন নি। তবে যেটা প্রয়োজন মনে করেছেন তাহল কিছু হুকুম জারি করা। মঞ্চের পাশে সেন্ট্রাল পার্কে চলা অাহারে বাংলার খাদ্য মেলার  সীমানার ধারে কাছে যাত অান্দোলনকারীদের না দেখা যায় সেই নির্দেশ জারি করেছে পুলিস।

রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকদের অভিযোগ এ রাজ্যে তারা কেন্দ্রীয় সরকারি রীতি অনুযায়ী বেতন পান না।পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন এ রাজ্যে অন্যান্য রাজ্য থেকে অনেকটাই কম বলে দাবি রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকদের।অন্য রাজ্যে যেখানে সহায়ক শিক্ষকরা প্রথমিক স্তরে ২৫ হাজার ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৩০ হাজার টাকা বেতন পান এ রাজ্যে সেখানে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন প্রথমিক স্তরে ১০ হাজার ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ১৩ হাজার টাকা মাত্র। অান্দোলনকারীদের দাবি  কেন্দ্রীয় সরকার পার্শ্বশিক্ষকদের বেতনের ৬০ শতাংশ বহন করে আর রাজ্য সরকার বহন করে ৪০ শতাংশ।তবুও এ রাজ্যে কেন পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন এত কম তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব এ রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা।এর আগে বার বার তাদের পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করা হলেও সোমবার থেকে পার্শ্বশিক্ষকদের ঐক্যমঞ্চ হাইকোর্টের নির্দেশেই বিকাশভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে। পরে শুরু হয় অনশন।

এর আগে বিকাশভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের তাড়া খেয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন এ রাজ্যের পার্শ্ব শিক্ষকদের সংগঠন পার্শ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের শিক্ষকরা।তারপর নৈহাটিতে সভা করতে গিয়েও রাতের অন্ধকারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এঁরা।অভিযোগ উঠেছিল সভামঞ্চের লাইট নিভিয়ে দিয়ে পুলিশ নির্বিচারে মহিলা শিক্ষকদের শ্লীলতাহানি করতেও দ্বিধা করে নি।

 সরকার পার্শ্বশিক্ষকদের সঙ্গে অালোচনা বসতে পারেনি এখনও। নিজেদের দাবি অাদায়ের জন্য বাধ্য হয়ে অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন তারা। অনশনরত শিক্ষকদের মঞ্চ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রাজ্য সরকার অায়োজিত  খাদ্য মেলা চলছে। যা  শুধু দৃষ্টিকটু  নয়, সরকারের সংবেদনহীনতারও পরিচয় বলে মনে করছেন অনেকেই।