কেন রাজ্যপালের দ্বারস্থ কর্মচারী সংগঠন?

0
154

আগামী জানুয়ারি থেকে চালু হতে চলেছে ষষ্ট বেতন কমিশনের নির্ধারিত বেতনক্রম।এখনও অবশ্য স্যাটের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট নয়।স্যাটের নির্দেশ অমান্য করা নিয়ে এখনও একটি মামলা চলছে।এরই মধ্যে শুক্রবার বকেয়া ডিএ ও সরকারি কর্মচারিদের অনৈতিক বদলির বিষয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে ডেপুটেশন দিল সরকারি কর্মচারি সংগঠন স্টিয়ারিং কমিটি।শুক্রবার এই সংগঠনের তরফে  পাঁচজনের এক প্রতিনিধি দল রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি পেশ করেন ও রাজ্য সরকারের অস্পষ্ট কর্মচারি নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের হস্তক্ষেপ প্রর্থনা করেন।

সরকারি কর্মচারি সংগঠন স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঙ্কেত চক্রবর্তী রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর জানান,তারা মূলত রাজ্যপালের কাছে তিনটি দাবি পেশ করেছেন প্রথমতঃডিএ বিষয়ে সরকার তার মত প্রকাশ করুক কারণ নতুন বেতনক্রমে সে বিষয়ে কিছু বলা নেই।দ্বিতীয়তঃ সরকার ঘোষণা করেছে বেতন ও সিনিয়ারিটি বজায় রেখে যে কোন সরকারি কর্মীকে যে কোন সময়ে যে কোন জায়গায় বদলি করা হবে।কিন্তু এই ঘোষণায় নেচার অব ওয়ার্ক বা কাজের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কোন প্রতিশ্রুতি নেই।সংকেতবাবুদের দাবি এর ফলে অনেক সময় যে কাজে যে কর্মচারি অভ্যস্ত নয় তাকে সেই কাজে পাঠিয়ে হেনস্থা করা হয়।অনেকের পক্ষেই সেটা ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এ বিষয়েও সরকার স্পষ্ট ঘোষণা করুক যে কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কর্মীদের বদলি করা হবে।তৃতীয়তঃ কর্মস্থলে সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।নানা স্থানে সরকার বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করলেই সরকারি কর্মীদের উপর যে আক্রমণ নেমে আসছে তা প্রতিহত করার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কথায় রাজ্যপালের কাছে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় ছিল না। কারণ এ বিষয়ে বার বার বলেও সরকারের অর্থবিভাগের কারোর কোন সাড়া পাওয়া যায় নি।তারা চিঠি দিয়েও কোন উত্তর পান নি বলে জানান সংকেতবাবু।বাধ্য হয়েই শেষ পর্যন্ত তারা রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের কাছে বিষয়টি জানিয়ে এসেছেন।রাজ্যপাল তাঁদের কথা শুনেছেন।তিনি সময় মত বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের অর্থ বিভাগের সঙ্গে কথা বলবেন বলেই প্রত্যাশা সরকারি কর্মচারি সংগঠন স্টিয়ারিং কমিটির।