বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের ইঙ্গিত কি এনসিপির সঙ্গে শিবসেনার হাত ধরার কৌশল?

0
9
মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে অচলাবস্থা এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই কেন্দ্রের সরকার থেকে শিবসেনার একমাত্র প্রতিনিধি অরবিন্দ সাওয়ান্ত সোমবার সকালে ইস্তফা দিয়েছেন। এর ফলে বিজেপির সঙ্গে শিবসেনার দূরত্ব অারো বাড়ল। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার অাগেই জানিয়েছেন শিবসেনাকে বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে হবে , তাহলে তাকে সমর্থনের বিষয় তারা ভাবনা চিন্তা করবেন। এনসিপি জানিয়েছে তারা শিবসেনাকে সমর্থন করবে। এখন বল কংগ্রেসের কোর্টে।
এবারের মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে  বিজেপি শিবসেনা জোট করে লড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও মুখ্যমন্ত্রীর অাসন ভাগাভাগি করার ৫০-৫০ ফর্মুলা নিয়ে গোলমাল শুরু হয়। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে এরকম কোন প্রতিশ্রুতি শিবসেনাকে কখনওই বিজেপি দেয়নি। পাল্টা শিবসেনা বলেছে তাদের মিথ্যে বলার অভ্যাস নেই।বিজেপি ১০৫ অাসন পেলেও সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ১৪৫ থেকে দূরে থাকায় তারা সরকার গড়বে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে শিবসেনা ৫৬টি অাসন পেলেও শরদ পাওয়ার দিকেই চেয়ে রয়েছে। এনসিপি ৫৪ ও কংগ্রেসে ৪৪ এর সমর্থন ছাড়া শিবসেনার পক্ষে সরকার গড়া সম্ভব নয়। কংগ্রেস অবশ্য প্রাথমিকভাবে শিবসেনাকে সমর্থনের বিষয়টিতে রাজি হয়নি বলে মিডিয়া রিপোর্ট।
মহারাষ্ট্রের ঘটনা বিজেপির পক্ষে একটা বড় ধাক্কা নিশ্চিত। কুর্সির জন্য অাদর্শগত বন্ধু যে শেষ পর্যন্ত  পিঠে নয় সরাসরি বুকে ছরি মারবে তা তারা বুঝে উঠতে পারেনি।লোকসভা ভোটের অাগে রোজ দিনই প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম মন্তব্য করে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলত শিবসেনা। তারপর লোকসভা ভোটের অাগে অমিত শাহের হাত ধরে সমঝোতা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসা নিয়ে অাপাতত বন্ধু বিচ্ছেদ।
এদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে নীতি অাদর্শ এখন মিউজিয়ামের বস্তু। অনেকেই বলবেন কোনদিনই সংসদীয় রাজনীতিতে অাদর্শের স্থান ছিল না এদেশে। সে বিতর্ক চলতে পারে। কিন্তু মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বিজেপির কুর্সির লড়াই অাবারো এদেশের ভোটের বাজারের অাসল চেহারাটা সামনে নিয়ে এলো। তবুও মানুষ এই নিয়ে মাতামাতি করেন। হয়তো করতে বাধ্য হন।