রাজ্যে ডেঙ্গিতে মৃত্যু অব্যাহত, সমস্যাকে অস্বীকার করতেই ব্যস্ত প্রশাসন

0
15
ডেঙ্গিতে শহর ও শহরতলীতে মানুষের  মৃত্যু অব্যাহত। সর্বশেষ ডেঙ্গির শিকার কলকাতা পুরসভার এক অাধিকারিক। রাজ্যে ডেঙ্গিতে এবছর অন্তত  ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দক্ষিণদমদম ও রাজারহাট বাগুইঅাটি অঞ্চলে ডেঙ্গি প্রবলভাবে ছড়ালেও মানতে নারাজ প্রশাসন। লেকটাউনের একটি অাবাসনে ২৫জনের ডেঙ্গি ধরা পড়েছে। তার পরও দক্ষিণ দমদম পুরসভা ডেঙ্গির প্রকোপ মানতে নারাজ।
বছরের পর বছর ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিলেও  রাজ্য জ্য সরকারের তরফে ডেঙ্গি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কোন নীতি বা পরিকল্পনা অাছে বলে লক্ষ করা যাচ্ছে না। যদি থাকতো তাহলে মশা তাড়াতে বিভিন্ন পুরসভায় ধোঁয়া দেওয়ার ব্যবস্থা এখনও থাকতো না। কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় বলা রয়েছে যে ধোঁয়া দিয়ে মশা মারা যায় না। বরং তারা অন্য এলাকায় চলে যায়।  বিধানসভায় একই অভিযোগ করেছিলেন শাসক দলের বিধায়ক উদয়ন গুহ। উদয়ন বাবু জানিয়েছিলেন ধোঁয়া ও ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোতে কোন কাজ হচ্ছে না। জেঙ্গি মোকাবিলায় সচেতনতার পাশাপাশি গাপ্পি মাছ চাষের বিষয়টিতে জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য নাকি ৫০০ কোটি টাকাও বরাদ্য করেছে সরকার। গাপ্পি মাছ চাষে ৫০০ কোটির বাজেট নিয়েও কাটমানির কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছেন অনেকে। তার পরও ডেঙ্গিতে অাক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তাহলে কি এসব শুধুই কথার কথা?
  ডেঙ্গি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা অাছে বলে মনে করছেন না অনেকেই। যদি থাকতো তাহলে প্রতিবছর ডেঙ্গির বাড়বাড়ি হওয়ার পর নানা পদক্ষেপের কথা ভাবতো না রাজ্য সরকার। ধোঁয়ার বিষয়টা অাগে থেকেই সব পুরসভাকে জানিয়ে দিত তারা। তা না করে ডেঙ্গিতে মৃত্যুকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ ডেঙ্গিতে মারা গেলেও চিকিত্সকদের মৃত্যুর কারণ অজানা জ্বর বলে উল্লেখ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগণার দেগঙ্গা, হাবড়া, ব্যারাকপুর , কলকাতার কিছু অঞ্চল অংশ সহ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এখন ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছে । গত বছর শুধুমাত্রা দেগঙ্গাতেই ডেঙ্গিতে মৃত্যু হয়েছিল শতাধিক মানুষের। তার পরও রাজ্য সরকারের তরফে অাগাম কোন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিছুদিন অাগে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা শাসক ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রায় এক কোটি টাকার অার্থিক সাহায্য রাজ্য সরকারের কাছে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩ মাসের জন্য ডেঙ্গি মোকাবেলায় বেশ কয়েকশ অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিষয়টিও রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বেশ কয়েকজন চিকিত্সককে জেলা ডেঙ্গির চিকিত্সার জন্য পাঠান হয়েছে। অাসলে ডেঙ্গির মত মারাত্মক বিষয়টিকে অস্থায়ী ভাবে মোকাবিলা করতে চাইছে সরকার। কোন সুনির্দিষ্ট নীতির অভাব স্পষ্ট।অাড়াল করলেই সমস্যা চাপা থাকে না। বরং বাড়ে। সেটা কবে বুঝবে রাজ্য সরকার?