রাফাল ইস্যুতে পুনর্বিবেচনার মামলা খারিজ সুপ্রিম কোর্টে, সিবিঅাই তদন্তের অবকাশ অাছে জানালেন বিচারপতি জোসেফ

0
25
সাতদিন ডেস্কঃ  ৩৬টি রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনার   চুক্তিতে কেন্দ্রকে অাগেই ক্লিনচিট দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।  সেই রায়ের পুনর্বিবেচনা করার অার্জি মামলা বৃহষ্পতিবার খারজি করে দিল সুপ্রিম কোর্টের ৩ সদস্যের বেঞ্চ।   সর্বোচ্চ অাদালত জানিয়েছে রাফাল কেনার বিষয় সিবিঅাই তদন্তের  কোন প্রয়োজন নেই।
৫৯ হাজার কোটি টাকায় ফরাসি সংস্থা দ্যঁসল্টের কাছ থেকে ৩৬টি রাফাল কেনার বিষয় দুর্নীতি হয়েছে বলে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস সহ অন্য বিরোধীরা। কাঠগড়ায় খোদ প্রধানমন্ত্রীকে তুলেছে কংগ্রেস। অভিযোগ অনিল অাম্বানিকে অন্যায়ভাবে ২০হাজার কোটি টাকা সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে  মোদি সরকার। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে সিবিঅাইয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রশান্ত ভূষণ, অরুণ শৌরি ও যশবন্ত সিনহা। এই  বিষয় সু্প্রিম কোর্ট অাগে  তার রায় স্পষ্ট করে দিয়েছিল। এদিন সেই রায়ই বহাল রাখল সর্বোচ্চ অাদালত। তবে ৩ বিচারপতির বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতি জোসেফ জানিয়েছেন সিবিঅাই মনে করলে তদন্ত করতে পারে। তবে  দুর্ননীতি  দমন অাইনে নতুন সংশোধনীর ফলে এর জন্য কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে অাগে।
ইতিমধ্যেই ফ্রান্সে প্রথম রাফাল যুদ্ধ বিমানটি ভারতের হাতে অপর্ণ করে দ্যসল্ট। সেখানেই শস্ত্রপুজোও করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
রাফাল নিয়ে অভিযোগগুলি কী কী ?
 বোফর্সের থেকেও বড় কেলেঙ্কারি হয়েছে রাফাল চুক্তিতে। এতে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি প্রায় ৩৫০০০ হাজার কোটি টাকা। গত বছর  নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে  বিজেপির ২ প্রাক্তনমন্ত্রী অরুণ শৌরি ও যশবন্ত সিনহার সঙ্গে  এই অভিযোগ করেছিলেন প্রশান্তভূষণ। অরুণ শৌরির  অভিযোগ কংগ্রেস সরকারের সময় হওয়া চুক্তির থেকে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা বেশি দিয়ে কেনা হচ্ছে  প্রতিটি রাফাল  বিমান। শুধু তাই নয় গোপনীয়তার কারণে রাফালের দাম  প্রকাশ করা যাবে বলে যে কথা বর্তমান সরকার বলছে তাও সত্যি নয় বলে দাবি করেন অরুণ শৌরি। শৌরি জানিয়েছিলেন বর্তমান সরকারের এই ‘বোকারা’ ২০১৬ সালের নভেম্বরে লোকসভায় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলপ্রতিটি রাফাল বিমানের দাম ৬৭০ কোটি টাকা। সরকার এখন দাম প্রকাশ করতে না  চাইলেও সাংবাদিক বৈঠকে অরুণ শৌরির দাবি রাফাল নির্মাতা দ্যাঁসল্ট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে যে তথ্য জানিয়েছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি বিমান কেনা হচ্ছে অন্তত ১৬৬০ কোটি টাকায়।
 অভিজ্ঞতা না থাকায় সত্বেও সরকারের বন্ধু অনিল অাম্বানির কোম্পিনকে ২০ হাজার কোটি টাকার বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অার এই সব করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তত্কালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্করের সঙ্গে অালোচনা ছাড়াই। এর জন্য মোদির বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য পদের অপব্যবহারের মামলা হতে পারতো, অার তা যাতে না করা যায় কিছুদিন দিন অাগে অাইন সংশোধন করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ। মারাত্মক অভিযোগ ! এদিন সু্প্রিম কোর্ট তাদের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেওয়ার প্রেক্ষিতে প্রশান্ত ভূষণ জানিয়েছেন রাফালে দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেই বিষয় অাদালতের হস্তক্ষেপ তারা চাননি। তাদের অার্জি ছিল তদন্তের জন্য তারা সিবিঅাই এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন।  সেই   অভিযোগে যাতে  সিবিঅাই এফঅাইঅার দাখিল করে সেই বিষয় অাদালত নির্দেশ দিক। প্রশান্তভূষণের দাবি সেই বিষয়টিতে  বিচারপতি  েজাসেফ সেরকম বললেও অন্যদুজন নীরব থেকেছেন।
কংগ্রেস সরকারের  সময় ১২৬টি রাফাল কেনার যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা বাতিল করে ৩৬টি রাফাল কেনার বরতা দিয়েছে মোদি সরকার। অথচ নতুন করে টেন্ডার না করে। এটিও বেনিয়ম বলে অভিযোগ করেছিলেন প্রশান্ত ভূষণ।
রাফাল কেনা নিয়ে ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দফতরের তরফে সমান্তরাল কথা চালানোর জন্য ভারতের দরকষাকষির অবস্থানকে দূর্বল করেছে । ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বরেরপ্রতিরক্ষামন্ত্রকের ফাইলের এই নোটিং দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর রাফাল ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যালোচনার দাবি ওঠে। বিরোধীরা অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের কাছে মিথ্যে কথা বলেছে সরকার।
 লোকসভা  ভোটে চলে গেছে। এখন অার রাফাল ইস্যু নয়। কংগ্রেস অনেকটাই ছন্নছাড়া। ফলে রাফাল নিয়ে যারা অাওয়াজ তুলেছিলেন তারা এখন নীরব। এদিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর   কি অার কোন দিন জানা যাবে রাফাল কেলেঙ্কারির সত্যিটা কী?