শিক্ষামন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিলেন কেন প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠনের নেত্রী?

0
47
সাতদিন ডেস্কঃ  আবারও আন্দোলনের রাস্তায় নামতে চলেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন উস্তি ইউনাইটেড টিচার্স ওয়েলফেয়ার এ্যসোসিয়েশন।গত কয়েকদিন ধরে এই সংগঠনের সম্পাদক পৃথা বিশ্বাস সহ একাধিক সদস্য বার বার শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানাচ্ছেন।এরপর তাঁরা বিকাশভবনে গিয়ে শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন।অবশেষে বিকাশভবন থেকে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকার আর এই শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে কোন আলোচনায় বসতে রাজি নয়।সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানার পর প্রাথমিক এই শিক্ষক সংগঠনের সম্পাদক পৃথা বিশ্বাস রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দ্যেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন।তাতে তিনি শিক্ষাদপ্তরের বিরুদ্ধে তাঁদের সঙ্গে চরম প্রবঞ্চনার অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন,মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যেমের কাছে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বলেছেন শিক্ষকদের কোন দাবি-দাওয়া থাকলে সঠিক জায়াগায় আলোচনার জন্য যেতে হয়,সেই সঠিক জায়গাটা কোথায়?পৃথার অভিযোগ গত ছ-সাতমাস ধরে হন্যে হয়ে ঘুরেও তাঁরা সেই ‘সঠিক’ জায়গার হদিশ খুঁজে পান নি।শিক্ষামন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা নাকি রাস্তা আটকে অরাজক অবস্থা তৈরি করতে চাইছেন।এ প্রসঙ্গে পৃথা বিশ্বাস তাঁর চিঠিতে উল্লেক করেছেন তাঁরা কোন দিন চক ডাস্টার আর কলম ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র ব্যবহার করতে শেখেনই নি অথচ সেই তাঁদের বিরুদ্ধেই রাজ্য পুলিশ জামিন অযোগ্য মামলা দায়ের করেছে।শিক্ষমন্ত্রী ক্রিমিনাল ও শিক্ষকদের ফারাক বুঝতে ব্যর্থ হলে সেটা তাঁর অক্ষমতা বলে দাবি করেন পৃথা।
খোলা চিঠিতে পৃথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন সরকার যদি তাদের প্রতি সব দায় ঝেড়ে ফেলতে চায় তবে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে প্রথমিক শিক্ষকদেরও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে তার দায়ও শেষ পর্যন্ত কিন্তু রাজ্যের শিক্ষাদপ্তরের উপরই বর্তাবে।এই প্রসঙ্গেই রবিবার সাতদিনডটইনের সঙ্গে কথা বলেন উস্তি ইউনাইটেড টিচার্স ওয়েলফয়ার এ্যসোসিযেশের সম্পাদক পৃথা বিশ্বাস।তিনি বলেন,প্রবঞ্চনা করেছে সরকার তাঁদের সঙ্গে।গত জুলাই মাসে তাঁরা যখন কেন্দ্রীয় বেতনক্রম অনুযায়ী বেতনের দাবিতে অনশন শুরু করেন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,পে ব্যান্ড ৪ না হলেও পে ব্যান্ড ৩ পর্যায় এ রাজ্যের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন নির্ধারিত হবে।পৃথার দাবি তাঁরা সে সময় রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা খরাপ বিবেচনা করে তা মেনে নিয়ে জানিয়েছিলেন,বেতন নির্ধারনের ক্ষেত্রে যেন সিনিয়ারিটি মান্যতা পায়।সরকার সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয় নি।বেতন বৃদ্ধির ক্ষে্ত্রে সিনিয়ারিটি কোন মান্যতা পায় নি।সিনিয়রটিকে মাপকাঠি ধরলে অধিকাংশের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে মাত্র তিন-চারশো টাকা।এটাকে চরম প্রতারণা ছাড়া আর কিছু ভাবতে রাজি নন পৃথা বিশ্বাস।
তাঁদের পরবর্তী করণীয় কী? পৃথা বিশ্বাস জানাচ্ছেন,এখনও তাঁদের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে আগামী ২১ তারিখ তার শুনানি আছে।সেটা মিটলে সবাই দেখতে পাবেন তাঁরা আবার একটা প্রতিবাদের ঢেউ তুলবেন এ শহর জুড়ে।মামলা কিংবা হামলা কোনটাতেই যে তারা দমে যেতে রাজি নন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শিক্ষক আন্দোলনের লডাকু মুখ পৃথা বিশ্বাস।পৃথা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের অধিকাংশই তাদের দাবিকে সমর্থন করছেন,ভয়ে হয়তো কেউ কেউ সামনে আসতে পারছেন না তবে দেড় লক্ষ প্রথমিক শিক্ষক তাঁদের সঙ্গে আছেন বলে দাবি প্রাথমিক শিক্ষক নেত্রী পৃথার।তবে সংথ্যার শক্তি নয় হক আদায়ের ন্যায্য লড়াইটাই তাঁদের মূল শক্তি বলে জানাতে ভুললেন না উস্তি ইউনাইটেঢ টিচার্স ওয়েলফেয়ার এ্যসোসিয়েসনের সম্পাদক পৃথা বিশ্বাশ।পৃথা বিশ্বাসরা যখন এই শহরকে আর একটা হক আদায়ের লড়াইয়ের গল্প শোনানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন,তখন কিছুই না শুনিয়ে নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ফোন বেজেই গেছে যথারীতি উত্তর মেলেনি।