সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় অাস্থা ভোটের অাগেই দেবেন্দ্র ফড়নবীশের ইস্তফা

0
49

সাতদিন ডেস্কঃ মঙ্গলবার বেলা ৩টে ৪৫ মিনিটে সাংবাদিক বৈঠকে  মুখ্যমন্ত্রীপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা  করলেনদেবেন্দ্র ফড়নবীশ।  এর অাগে  এদিন সকলা  বুধবারে   মহারাষ্ট্রে  বিধানসভায় দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করুতে  নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ অাদালত তার রায়ে জানিয়েছে ২৭ নভেম্বর বিকেল ৫টার অাগে সমস্ত বিধায়ককে শপথ নিতে হবে। এর জন্য রাজ্যপালকে অবিলম্বে অস্থায়ী স্পিকার ঠিক করতে বলেছে। অাদালত জানিয়েছে অাস্থা ভোটের পুরো বিষয়টি ভিডিও রেকর্ডিং করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে অাস্থা ভোট গোপন ব্যালটে হবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই উপ মুখ্যমন্ত্রীপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অজিত পাওয়ার। সংখ্যা গরিষ্ঠতা তাদের সঙ্গে নেই তা বুঝতে পেরে শেষমেষ মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশও।

ফড়নবীশের সরকারকে অবিলম্বে অাস্থা ভোট নেওয়া নিতে হবে এই অার্জিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস, শিবসেনা ও এনসিপি। শুনানির পর সোমবার সিদ্ধান্ত না জানিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা তা জানান হবে বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।

 গত শনিবার সকাল ৮টা নাগাদ ‘চোরের মত’ মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে  নেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। উপ মুখ্যমন্ত্রী হন এনসিপির অজিত পাওয়ার। এনসিপির তরফে দাবি করা হয় ধোকা দিয়ে এনসিপির বিধায়কদের সই করা কাগজ রাজ্যপালের কাছে সমর্থনপত্র হিসাবে পেশ করে সরকার গড়তে সাহায্য করেছেন অজিতপাওয়ার।  শিবসেনা প্রধান উদ্ধভ ঠাকরে একে ফারজিক্যাল( ধোকা) সরকার বলে কটাক্ষ করেছেন।  ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রমাণ করতে হবে ফড়নবীশকে। কংগ্রেস অবশ্য দাবি করেছেন দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবেন না। এনসিপির তরফে দাবি করা হয়েছে তাদের ৫৪ বিধায়কের মধ্যে ৫১জনই শরদ পাওয়ারের সঙ্গে অাছেন।

এবারের মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটে  বিজেপি শিবসেনা জোট করে লড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও মুখ্যমন্ত্রীর অাসন ভাগাভাগি করার ৫০-৫০ ফর্মুলা নিয়ে গোলমাল শুরু হয়। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে এরকম কোন প্রতিশ্রুতি শিবসেনাকে কখনওই বিজেপি দেয়নি। পাল্টা শিবসেনা বলেছে তাদের মিথ্যে বলার অভ্যাস নেই।বিজেপি ১০৫ অাসন পেলেও সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ১৪৫ থেকে দূরে থাকায় তারা সরকার গড়বে না বলে জানিয়ে দেয় বিজেপি। অন্যদিকে শিবসেনা ৫৬টি অাসনের সঙ্গে শরদ পাওয়ারের এনসিপি ৫৪ ও কংগ্রেসে ৪৪ এর সমর্থন ছাড়া শিবসেনার পক্ষে সরকার গড়ার দাবি পেশ করা সম্ভব ছিল না। সেই মত এগোচ্ছিল তারা। হঠাত্ই সব বদলে গেল।

এদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে নীতি অাদর্শ এখন মিউজিয়ামের বস্তু। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক অাচরণেও সর্বোচ্চ অাদালতের উপর ভরসা কমছে মানুষের।  মহা ঘোঁট বা  ঘোড়া কেনা বেচায় করে যেই সরকার গঠন করুক তাতে মানুষের   মতামতের যে কোন গুরুত্ব নেই তা অাবারো প্রমাণ হল। যে প্রশ্নের উত্তর এখন মিলছে না তা হল  কেন অজিত পাওয়ারকে দলে ফিরিয়ে নিতে এত উদগ্রীব কেন শরদ পাওয়ার ? কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতেই বা গিয়েছিলেন তিনি?