হেরে গিয়ে এনআরসিকেই দুষলেন কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী

0
32

তার হারের পেছনে যে এনআরসি ভীতিই প্রধান কারণ সে কথা সোচ্চারে জানিয়ে দিতে কোন কুন্ঠা করলেন না কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কমলচন্দ্র সরকার।এই কেন্দ্রে নিজের জয় নিয়ে একরকম নিশ্চিত ছিলেন তিনি।এই নিশ্চয়তার কারণ ছিল ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের ফল,সেই ফলের নিরিখে বিজেপি এই কেন্দ্রে ৫৭ হাজারের মত ভোটে এগিয়েছিল।গত লোকসভা ভোটের নিরিখে এই কেন্দ্রে তৃণমূল ছিল তৃতীয় স্থানে।সেখান থেকে বিজেপিকে হারিয়ে এই কেন্দ্রের আসন দখল করা তৃণমূলকে যে ২০২১ এর জন্য অনেকটা বাড়তি অক্সিজেন দেবে তা বলাই বাহল্য। কালিয়াগঞ্জের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী নিজেই  স্বীকার করে নিয়েছেন  এনআরসি ভীতি মানুষের মধ্যে এমনভাবে কাজ করছে যে তার মোকাবিলা করা বিজেপির পক্ষে সম্ভব হয় নি।এনআরসি নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতাদের যে আশ্বাস বাণী রাজ্যের মানুষ যে তাতে আস্থা রাখতে পারেন নি ভোটের ফলে তার পরিষ্কার ইঙ্গিত আছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কমলচন্দ্র সরকার।

অত্যন্ত হতাশ গলায় কমলচন্দ্রবাবু মিডিয়ার সামনে তাঁর প্রতিক্রিয়া দিয়ে বললেন,’বিরোধীরা এনআরসিকেই ভোট যুদ্ধে প্রধান অস্ত্র করেছিল।আমরা ভোটারদের বলেছিলাম এনআরসি কেন্দ্রীয় নীতির বিষয়,তবে সাধারণ মানুষের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেটা কেন্দ্রীয় নেতারা দেখবেন নিশ্চয়ই।এখন বুঝতে পারছি আমাদের উপর মানুষ আস্থা রাখতে পারেন নি।’এনআরসি নিয়ে মানুষের ভীতি দূর করতে না পারলে এ রাজ্যে বিজেপির সাজানো বাগান যে শুকিয়ে যেতে পারে সে আশঙ্কাকেও এক কথায় উড়িয়ে দিতে পারেন নি কালিয়াগঞ্জের পরাজিত বিজেপি প্রার্থী।৫৭ হাজারের লিড থেকে একেবারে আড়াই হাজার ভোটে হেরে যাওয়া যে আসলে পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়া তা পরিষ্কার ফুঁটে উঠছিল কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর অভিব্যক্তিতে।কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত যে তাদের লড়াইকে অনেকটা কঠিন করে দিয়েছে তা জানিয়ে এই পরাজিত বিজেপি প্রার্থী বললেন নতুন করে ভাবতে হবে,আবার নতুন করে এ অংক সাজাতে হবে।

অংকে যে বড় গড়মিল হয়ে গেছে তা টের পাচ্ছে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরাও।এনআরসি নামক দানবের তান্ডবে এ রাজ্যে যে তাদের সাধের বাগান লন্ডভন্ড হতে বসেছে তা টের পেয়ে এখন দিলীপ ঘোষরা সেই শাসকের ভোট না করতে দেওয়ার ভাঙা রেকর্ড বাজাতে শুরু করেছেন।দিলীপ ঘোষ যে বিধানসভা ছেড়ে সাংসদ হয়েছেন সেখানেও গো হারা হেরেছেন বিজেপি প্রার্থী।সব মিলিয়ে এ রাজ্যে গরু বিষেষজ্ঞ হওয়ার চেয়ে বাস্তব সমস্যা নিয়ে ভাবাটা যে বেশী দরকার উপনির্বাচনের ফল সেটা বুঝিয়ে দিল বলে  রাজনৈতিক  পর্যবেক্ষকদের মত।