সংসদে দাঁড়িয়ে যারা ধর্ষকদের ‘হত্যার’ দাবি তুলছেন তাঁদের শাস্তির দাবি জানালেন বিশিষ্ট আইনজীবীরা

0
99

সাতদিন ডেস্কঃ-স্মৃতি ইরাণি থেকে জয়া বচ্চন এদেশের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বিচার বিভাগকে এড়িয়ে ধর্ষকদের চরম শাস্তির দাবিতে সোচ্চার।এঁদের এই দাবিকে স্বীকৃতি দিতেই যেন হায়দরাবাদে ধর্ষণের অভিযোগে, বিচারাধীন ৪ বন্দিকে রাতের অন্ধকারে এনকাউন্টারে হত্যা করে দিল পুলিশ। জনমানসেও যখন এই হত্যা নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে সেই সময় এই হত্যা নিয়ে ভয়াবহ বিপদের কথা শোনালেন এ রাজ্যের কিছু বিশিষ্ট আইনজীবী।আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভাট্টাচার্য এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন,ভরতের আইনসভায় দাঁড়িয়ে যারা বিচারবিভাগকে উপেক্ষা করে পুলিশের খুনের পক্ষে ওকালতি করছেন তারা জানেন না এদেশের সংবিধানে কী লেখা আছে।এঁরা আইন ভাঙছেন এদের শাস্তি হওয়া উচিত।

#বিকাশবাবু বলেন,মূল অপরাধীদের আড়াল করতেই এই পুলিশি খুনের আয়োজন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।পুলিশকে এভাবে খুনের ছাড়পত্র দিলে যে কোন দিন,যে কোন সময় পুলিশ যে কোন মানুষকে হত্যা করতে পারে।তাই বিচার বিভাগকে যারা আইন সভার সদস্য হয়েও দূর্বল করে দিতে চাইছেন তাদের বিরুদ্ধে এখনই শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।বিশিষ্ট এই আইনজীবীর আশঙ্কা বিজেপি আরএসএস যে পুলিশরাষ্ট্র কায়েম করতে চায় তারই রাজনৈতিক ভিত তৈরি করতে এরকম খুনের নীলনক্সা তৈরি হচ্ছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল এই ঘটনার পর।সাধারণ মানুষের গভীর ভাবে ভেবে দেখার সময় এসেছে আপাত এই হিরোগিরির মধ্য দিয়ে পুলিশ মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে তাদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে চাইছে, বললেন বিকাশবাবু।খুনি পুলিশ অফিসারদের বিচার বিভাগের কাছে জবাবদিহি করার দাবি তুললেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

একই মত আইনজীবী অরুনাভ ঘোষেরও।তিনি বলেন,পুলিশজাতটাকে খুনি হয়ে ওঠার উত্সাহ দিলে যে কী ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হতে পারে এ রাজ্যে মানুষের সে অভিজ্ঞতা আছে।সেই অভিজ্ঞতা ভুলে মানুষ যদি এখন উল্টো দিতে যেতে চায় সেটা বিপদকে আর বাড়াবে।সংসদে বসে যারা বিচারবিভাগকে এড়িয়ে যাওয়ার কথা বলছেন তাদের শাস্তির দাবি তুললেন অরুণাভ ঘোষও।বিচার না করেই যারা খুনের পক্ষে পার্লামেন্টে ওকালতি করছেন তারা এদেশের সংবিধানটা একবার পড়েও দেখেন নি।যে সংবিধানের প্রতি আনুগত থাকার শপথবাক্য পাঠ করে এঁরা সাংসদ সেই শপথকেই তারা ভাঙছেন এসব কথা বলে।অবিলম্বে এদের সাংসদ পদ খারিজ করে এদের শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন অরুনাভ ঘোষ।