এনআরসির বিরোধিতা করে সন্তানকে ভাল কেরিয়ারের পরিবর্তে ভাল সমাজ দেওয়ার আহ্বান রাখলেন গোপীনাথন

0
258

অনুপম কাঞ্জিলালঃ কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন এ দেশের এক ডাকসাইটে আমলা।এখনও খাতায় কলমে তিনি ‘বেকার’  না হলেও তাঁর অার চাকরি নেই। নেই ঠিক নয়, তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সরকার অবশ্য তাঁকে শোকজ করেছে। হয়তো তাঁর অার্থিক পাওনাগণ্ডাও অাটকে দেওয়া হবে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রয়োগে সরকার যে অগণতান্ত্রিক মনোভাব দেখিয়েছে তার প্রতিবাদে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন অাইএএস কন্নন গোপিনাথন  । কান্নন, ২০১২র ব্যাচের এক প্রতিভাবান আইএএস।এরই মধ্যে দু’দুবার কলকাতায় নাগরিক সভা করে গেলেন তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের এনআরসি বিরোধিতায়। সোমবার রানি রাসমনি আ্যভিনিউতে এনআরসি বিরোধী নাগরিকপঞ্জির যুক্ত মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তুলে আনলেন ব্যক্তিগত প্রসঙ্গও।বললেন আমার স্ত্রী থেকে নিকট আত্মীয় স্বজন সকলেই আমার ভবিষ্যত নিয়ে উত্কন্ঠায় ভুগছেন।তাঁরা বলছেন ঝোঁকের বসে আমি আমার উজ্জ্বল কেরিয়ারকেই শুধু অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেনি একই সঙ্গে আমার সন্তানদের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত করে তুলেছি।আমার চুডান্ত সরকার বিরোধী মনোভাব আমার পরিবারকেও বিপদে ফেলতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।এরপরেই কান্নান বলেন,আমি আমার স্ত্রী সহ আত্মীয়দের যে কথা বলেছি সে কথা এখানেও সবাইকে বলতে চাই।আমি বলতে চাই আজ যে সময়ের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশ ও সমাজ চলেছে তাতে ভাল কেরিয়ার নয় দরকার ভাল মানুষের,যে সব মানুষ এই দেশ ও সমাজকে সুস্থ বুনিয়াদের উপর দাঁড় করাতে পারে।আমি আমার সন্তানকে ভাল কেরিয়ার নয় ভাল একটা সমাজ দিতে চাই,তার জন্য আইএএসের চাকরি ছাড়া নিয়ে তাঁর কোন আপশোস নেই বলে জানিয়ে দেন এই প্রাক্তন আমলা।কান্নান বলেন আমলা হিসেবে সমাজ ও দেশকে তিনি চিনতে পারেন নি এখন তিনি লাগাতার দেশ ও সমাজকে চেনার অনুশীলন করে চলেছেন।এই প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যাবেন বলে দাবি করেন গপীনাথন।
একই সঙ্গে এদেশের সাধারণ নাগরিকের প্রতি তাঁর আহ্বান শুধু নিজেকে নিয়ে বাঁচে যারা তারা সামাজিক মানুষ হওয়ার দাবি করতে পারেন না।এদেশে সফিংমল,মাল্টিপ্লেক্স,স্মার্ট ফোনের বাইরেও বিস্তির্ন দুনিয়া আছে তা নিয়েও সবাইকে ভাবতে হবে।ভবতে হবে প্রশ্ন করতে হবে,তবেই গণতন্ত্র শক্তভিতের উপর দাঁড়াতে পারবে।তাই কান্নানের আহ্বান নিজের সন্তানকে ভাল কেরিয়ার নয় ভাল সমাজ ও দেশ উপহার দেওয়ার কথা ভাবুন।তিনি বলেন আমাদের সমাজের সাফাই শুরু হওয়ার দরকার আছে তবে সে সাফাই প্রধানমন্ত্রীর ঐ তথাকথিত বিজ্ঞাপন প্রচারের সাফাই নয়,সাফাই করতে হবে সমাজের মন ও চেতনার।কান্নানের মতে যারা এনআরসি কে সমর্থন করছেন তাদের চেযেও বিপজ্জনক যারা এনআরসি সমর্থন না করলেও প্রতিবাদ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।অন্যায় বুঝেও যারা প্রতিবাদ করেন না তারাই এদেশের সবচেয়ে ক্ষতি করছেন বলে অভিমত এই প্রাক্তন আমলার।
গোপীনাথন কান্নন এখন সরকারি বাংলো ছেড়ে,ভাড়া বাড়িতে থাকছেন,সরকারি নিরাপত্তার যাবতীয় ঘেরাটোপ মুক্ত হয়ে সাইকেল চড়ে বাাজারে যাচ্ছেন।একটার পর একটা ফিক্সড ডিপোসিট ভাঙিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।এ দেশের প্রবল প্রতাপশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।আর তার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকে ভাষা দিতে,সাহস দিতে ছুটে যাচ্ছেন।তাঁর কথায় জীবন তো একটাই ভাল কিছু করে যেতে হবে।গোপীনাথনকে দেখলে বোঝা যায় এদেশটা শুধু ক্ষমতা লোভি,দলবদলু রাজনীতিকদের নয়।কিংবা সরকারের সুরে সুর মেলানো কতগুলো ‘হাঁ-হাঁ বলা সঙ’ মার্কা আমলাদেরও নয় দেশটা গোপীনাথন কান্ননদেরও।এই আকালেও যাঁদের দেখে ভরসা হয়,পাল্টে দেওয়ার ইচ্ছেটা বুকের মধ্যে আবার ধাক্কা দিতে থাকে।সেই জন্যই তো সোমবার গোপীনীথন-কানাইয়াকুমারদের ডাকে সাড়া দিয়ে সমবেত ভিড় সোচ্চারে জানান দিল,’হাম লড়কে লেঙ্গে আজাদি।’
ছবি ইজহার হাসানের সৌজন্যে