ছাড় না দিলে ভোডাফোনের ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি কুমারমঙ্গলম বিড়লার

0
49

সাতদিন ডেস্কঃ   সরকারের থেকে ছাড় না পাওয়া গেলে ভোডাফোন অাইডিয়া বন্ধ করে দিতে হবে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এরকমই কথা শুনিয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান কুমারমঙ্গলম বিড়লা। বিড়লা জানিয়েছেন সরকার তাঁর ‘অাবদার’ না মানলে তারা নতুন করে কোন অর্থ ভোডাফোন অাইডিয়াতে বিনিয়োগ করবেন না। বরং দেউলিয়া ঘোষণার পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।

এয়ারটেল ও ভোডাফোনের থেকে সরকারের পাওনা  ৪৫ হাজার কোটি  টাকা মেটাতে অারো ২ বছর সময় দেওয়ার কথা কিছুদিন অাগেই ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।  মূলত স্পেকট্রাম ও ও লাইসেন্স ফি বাবদ টেলকিম কোম্পানিগুলির থেকে সরকারের এই টাকা পাওনা। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় সরকারের কাছে  বকেয়া লাইসেন্স ফি বাবদ ৯২ হাজার  ৬৪১ কোটি টাকা টেলকম কোম্পানিগুলিকে মেটিয়ে দিতে হবে।কিন্তু এর মধ্যে অনেক কোম্পানিই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে এদেশ থেকে। অনিল অাম্বানির রিলায়েন্স নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। ফলে ঠিক কত টাকা এখন সরকার জীবিত কোম্পানিগুলির থেকে পেতে পারে তার কোন স্পষ্ট হিসাব সরকারের তরফে দেওয়া নি। তবে সরকারের বকেয়া মেটাতে যে  ভোডাফোন রাজি নয় তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিড়লা।
 গত জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করে সরকার জানায় এয়ারটেল, ভোডাফোন সহ একাধিক মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলির থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা  পাওনা রয়েছে। এয়ারটেলের কাছে পাওনা ২১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। ভোডাফোনকে দিতে হবে ১৯৮২৩ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে মামলার জেরে বকেয়া টাকার অঙ্ক বেড়ছে। যুক্ত হয়েছে   জরিমানা ও সুদ । যদিও ১৫টি বেসরকারি সংস্খা যাদের এই অর্থ দিতে হবে তাদের মধ্যে ভোডাফোন ও এয়ারটেল ছাড়া বর্তমানে এদেশে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে অনেকেই।
 সুপ্রিম কোর্টের এই রায় টেলিকম শিল্পে যুক্ত কোম্পানিগুলির উপর অাঘাত বলে মনে করছে টেলিকম অপারেটরদের সংস্থা। অাসলে এদেশে সরকারের অাশ্রয় ও প্রশ্রয় কারবার করা এদেশে করপোরেট কালচার হয়ে উঠেছে। কখনও কর ছাড়, কখনও ব্যাঙ্ক ঋণ হজম করে যাওয়াটাই করপোরেট শ্রীবৃদ্ধির রাস্তা। তাই কুমারমঙ্গলম বিড়লার এই অাবদারে চমকে উঠছেন না ওয়াকিবহাল মহল। এটা সত্যি ভোডাফোন বন্ধ হয়ে গেলে এক ধাক্কা প্রচুর মানুষ কর্মচু্ত হবেন। হয়তো এই দোহাই দিয়ে সরকার এয়ারটেল ও ভোডাফোনকে নতুন করে ছাড়ের কথা ঘোষণা করবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসএনএল প্রায় উঠে যাওয়ার জোগাড়। বাধ্য হয়েই এক ধাক্কায় ৯০ হাজারের বেশি কর্মী ভিঅারএস নেওয়ার জন্য অাবেদন করেছেন। দেব দিচ্ছি করে এখনও পর্যন্ত বিএসএনএলকে ৪জি লাইসেন্স দেয়নি সরকার।  মাত্র  কয়েক হাজার টাকার ঋণের চাপে  পড়ে অাত্মহত্যা করতে বাধ্য হওয়া কৃষকদের। সেই ঋণ মুকুবের টাকা নেই সরকারের কাছে।   বাজেট সামাল দিতে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলছে  সরকার। অার সেই সরকারের কাছে ভোডাফোনের মত সংস্থা হাত মুছড়ে ছাড় অাদায়ের ফিকির করছে অাবারো। সত্যি সবই সম্ভব।

সূত্র পিটিঅাই