তেলেঙ্গানায় ধর্ষণে অভিযুক্ত ৪জনকেই ‘সংঘর্ষে ‘ হত্যা, এভাবে কি ধর্ষণকে বন্ধ করা যায়?

0
70
সাতদিন ডেস্কঃ তেলেঙ্গানায় মহিলা চিকিত্সককে খর্ষণ করে খুনে অভিযুক্ত ৪জনকে সংঘর্ষে হত্যা করল পুলিস। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট পুলিসের দাবি অভিযুক্ত মহম্মদ অারিফ, জলু শিবা, জলু নবীন ও চিন্তাকুন্টাকে   শুক্রবার ভোর ৫টা ৪৫ নাগাদ নাগাদ তদন্তের জন্য ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য  ধর্ষণের স্থলে  নিয়ে যাওয়া হলে তারা পালাতে চেষ্টা করে।পুলিসের পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পুলিসকে অাক্রমণ করে। তখন পুলিস গুলি চালায, তাতেই নিহত হন ওই ৪ অভিযুক্ত। অন্তত এমনই গল্প  সাইবাবারাবাদ পুলিস প্রধান  ভিসি সাজ্জানরের।
সরকারিভাবে  পুলিসের তরফে সংঘর্ষের বিষয় এখনও কিছু জানায়নি। তবে নিরস্ত্র ৪ অভিযুক্তের সঙ্গে সংঘর্ষ ঠিক কীভাবে ঘটল তা পুলিসই ভাল বলতে পারবে। তবে ৪জন অভিযুক্তকে রাত ৩টের সময় ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হল কেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।ইতিমধ্যেই  মানবাধিকার সংগঠনগুলির তরফে একে ভুযো সংঘর্ষ বলে দোষী  পুলিসের শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
সংসদে দাঁড়িয়ে একের পর এক সাংসদ ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। অথচ এবারের সংসদে একাধিক ধর্ষণে অভিযুক্ত নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রেও কি এই রকম নিদান দিচ্ছেন ও্ই সাংসদেরা। বা যারা সমাজের নিম্ন অংশের ৪ অভিযুক্তকে গুলি করে হত্যার সমর্থন করছেন তারা কি ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দ বা ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সেনগারকে গুলি করে হত্যার পক্ষে সওয়াল করছেন? অাশা করি করছেন না। করলে সেটাও ভুল। অাসলে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষকে নানা অজুহাতে সহজেই নিকেষ করা সম্ভব। সুপ্রিম কোর্টের অাইনজীবী করুণা নন্দীর মতে ওই ৪ অভিযুক্তই যে প্রকৃত দোষী কিনা তা অার কোনদিনই জানা যাবে না। পুলিস নিজের কাজ দেখানোর জন্যও ওদের গ্রেফতার করে থাকতে পারে।
    সমাজের  অধিকাংশ মহিলা বা পুরুষ  হয়তো ৪ অভিযুক্তকে সংঘর্ষের নামে গুলি করে হত্যার পক্ষে। তা নাহলে কেউ পুলিসের উদ্দেশে ফুল বর্ষণ করে না।  তেলেঙ্গানা পুলিসের  এই চটজলদি সমাধানে স্বস্তিতে পেতে পারেন অনেকেই। কি তারা কি  এই প্রশ্ন করবেন না পুলিস অভিযোগ নিতে টালবাহানা না করলেও হয়তো ওই মহিলাকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হত।  তার দায়ে ঝেড়ে ফেলতে এই সহজ পথে হাঁটলো না তো পুলিস?  সত্যি কি ধর্ষকদের ফাঁসি হলে সমাজে ধর্ষণ কমে? অাইনজীবী ও সমাজকর্মীদের একটা বড় অংশ মনে করেন পরিসংখ্যান বলছে ধর্ষকদের ফাঁসির বিধান থাকলে ধর্ষণের শিকার মহিলার প্রাণনাশেরও অাশঙ্কা বাড়ে।   নাকি সমাজে মহিলাদের প্রতি মানসিকতা পরিবর্তনটা ধর্ষণ রুখতে সবথেকে গুরুত্বপূরণ পদক্ষেপ? ৯০ শতাংশের বেশি মহিলা ধর্ষিতা হন পরিচিতের দ্বারা। পরিবারে, সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন না হলে, নারীকে ভোগের বস্তু হিসাবে দেখা বন্ধ না হলে ধর্ষণ ঠেকান  সম্ভব কি? উত্তরটা না।