নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ নিয়ে কেন বিজেপি এতটা অাশাবাদী?

0
121

সাতদিন ডেস্কঃ  বুধবারই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।এর অাগে একবার লোকসভায় পাশ করান হয়েছিল এই বিল। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকায় সেবার রাজ্যসভায় বিল পাশ করাতে পারেনি মোদি সরকার। এবার তাদের অাশা রাজ্যসভাতেও এই বিল পাশ করার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন তারা  পাবে।

 এনডিএ ছাড়লেও শিবসেনা এই বিল সমর্থন করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। অবস্থান পরিবর্তন করে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে জেডিইউ।ওয়াইএসঅার কংগ্রেসও জানিয়েছে তারা এই বিলকে সমর্থন করবে।তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমে এই বিল নিয়ে সরব হলেও এখন তাদের অবস্থান ঠিক বোঝা যাচ্ছে না বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত। যদি ভোটদানে বিরতও থাকে তাহলেও বিল পাশ হয়ে যাবে। জাতীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্যসভায় ,বিজেপি সূত্রের  দাবি, এই বিল পাশ করাতে তাদের রয়েছে ১২২জন সাংসদের সমর্থন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করাতে বর্তমানে প্রয়োজন ১২০টি ভোট (রাজ্য সভার  বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২৩৮)

বিজেপির এক সাংসদ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত এই বিলের বিপক্ষেও ভোট দিলেও রাজনৈতিকদলগুলো প্রমান করে দিয়েছে মুখ্য ধর্মনিরপেক্ষকতার কথা বললেও শেষ বিচারে শুধুমাত্র সংখ্যাগুরু ভোটারের পক্ষেই তারা অবস্থান নেবে। (যেমন নাকি জম্মু কাশ্মীরের প্রেক্ষিতে ভোটদানের সময় হয়েছে।)  তা নাহলে এই বিলের বিপক্ষে বিরোধীদলগুলি জনমত গঠন করত। অাসলে তারা ভোটদান নিয়ে অঙ্ক কষছে। ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু কথার কথা। ভোটের অঙ্কই অাসল কথা। তা সংসদের ভিতরে হোক বা বাইরে ।  অন্যদিকে বিজেপির দুদিকেই লাভ। বিল পাশ হলে বলবে তারাই একমাত্র হিন্দুদের পক্ষে। না হলে বিরোধীদের জন্য এই বিল পাশ করান গেল না।

মানবাধিকার সংগঠন সহ ধর্মনিরপেক্ষ মানুষেরা নাগরিকত্ব সংশোধীন বিল সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার বিরুদ্ধে বলে একে বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। তাদের স্বরকে সরকার খুব পাত্তা দেয় বলে মনে হয় না।তা নাহলে দেশের একডজন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে ১ বছরের বেশি সময় ধরে জেলে পুরে রাখত না। অাসলে নাগরিকেরা যতক্ষণ না নিজেদের অধিকারের জন্য পথে নামবেন, ততদিন এই স্বেচ্ছাচারিতা চলতেই থাকবে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের। অার তাই মুখে এনঅারসির বিরোধিতা করলেও এরাজ্যে এনঅারসি বিরোধী যুক্তমঞ্চের একাধিক সভা বানচাল করে দিচ্ছে প্রশাসন। কার নির্দেশ বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা কি!