নাগরিক আইনের প্রতিবাদে শহর কলকাতা মুখরিত হল তারুণ্যের বিরুদ্ধস্বরে

0
202

অনুপম কাঞ্জিলালঃ  কে বলে এ শহর আর প্রতিবাদে মুখরিত হয় না।কে বলে আজকের যৌবন শুধু কেরিয়ারের ইঁদুর দৌড়েই নিজেদের ব্যস্ত রাখে।বহস্পতিবার এ শহর দেখিয়ে দিল,প্রতিবাদের আগুন ঝড়ানো যৌবন এখানে এখনও বেঁচে।এ শহরের তারুণ্য এখনও বিরুদ্ধস্বরে বেজে উঠতে জানে,জানে সব ব্যবধান মুছে শুধু মানবিকতা আর মনুষ্যত্বের মন্ত্র উচ্চারণ করতে।সেই জন্যই তো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুপর্ণা আর সেন্টজেভিয়ার্সের রুকসানা খাতুন একই সুরে বলে উঠতে পারে,’মোদী ও দিদি দুজনেই শুনে রাখুন আমরা শুধু পাশাপাশি থাকি না,কাছাকাছিও থাকি।নাম ও পোশাক যাই হোক,মানুষ পরিচয়ের বাইরে কোন পরিচয়তেই আমাদের বিশেষ আগ্রহ নেই।’কতইবা বয়স মধুপর্ণা-রুকসানাদের বড়জোর ২২-২৩,তাতেই সভ্যতার সার সত্যটা জানিয়ে দিতে কোন দ্বিধা করে নি এরা।শুধু এরাই নয় বৃহস্পতিবার নো এনআরসি মুভমেন্টের ডাকে মৌলালির রামলিলা ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত নতুন নাগরিক আইনের প্রতিবাদী মিছিলে যেন তারুণ্যের ঢল নামতে দেখা গেল।যাদবপুর,কলকাতা,প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়তো বটেই সেন্ট জেভিয়ার্স,লরেটো থেকেও দলে দলে পড়ুয়ারা যোগ দিয়েছিল এই প্রতিবাদী মিছিলে।
কোন  রাজনৈতিক দল নয়,কোন পরিচিত নাগরিক সংগঠনও নয় স্রেফ সময়ের উত্তাপে চুপ থাকতে না পারা কিছু মানুষ দিন কয়েক আগে একত্রিত হয়ে নো এনআরসি মুভমেন্ট নামে এক সংগঠন তৈরি করে মূলত ফেস বুকের মাধ্যমে সবার কাছে আহ্বান রেখেছিলেন পথে নামতে।আয়োজকরাও বুঝতে পারেন নি তাদের আহ্বানে এভাবে জনজোয়ার তৈরি হতে পারে।এই জোয়ার তৈরি করে দিল যারা তারা এ শহরের তারুণ্য।পোষাক আসাকে অত্যাধুনিক হলেও এখনও যে মানুষের বিপদে পথে নামতে নতুন মুখ পেছিয়ে থাকবে না এদিন তা বুঝিয়ে দিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।তারুণ্যের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনে মিছিল যেন এক অন্য মাত্রা পেল।রাস্তায় রাস্তায় শহরের তরুণ রেখে গেল তাদের প্রতিবাদের স্বাক্ষর,রাস্তায় বসে রাস্তার বুকেই এ শহরের তারুণ্য প্রতিবাদের স্লোগান লিখে দিল।কোথাও লেখা হল নয় জাত পেট চায় ভাত,খেতে দাও।কোথা বা আজাদীর আকাঙ্খা ঘোষিত হল রাস্তার বুকেই।কেউ কেউ নিজেদের শরীরেই এনআরসি ও ক্যাব বিরোধী স্লোগান লিখে নিজেদের শরীরকেই করে তুললো অভিনব পোস্টার।
মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে একই সুরে বেজেছে বিশ্বজিত নবীন আজাদ রুকসানা মধুপর্ণা মহম্মদ মহসিনরা।একই সুরে সুর মিলিয়ে এরা যখন সোচ্চারে বলে উঠলো,তুমি পুলিশ ডাকো আমি সরবো না,তুমি গুলি কর আমি নড়বো না,আমি নিয়েই ছাড়বো আজাদী।তখন বার বার মনে হচ্ছিল আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি শুনছেন? বুঝতে পারলেন কি পোষাক দিয়ে হামলাকারীদের চিহ্নিত করাটা কতটা মুশকিল।আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও কি বুঝলেন এনআরসি বিরোধিতায় যারা পথে নামছেন তারা কোন বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রাদায়ের মানুষ নন তারা সব ধর্মের উর্দ্ধে শুধু মানব সম্প্রদায়।আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কথায় কথায় বাংলার যৌবনের কথা বলেন,সত্যিকারের বাংলার যৌবনের উপস্থিতি বহস্পতিবার নাগরিক এই মিছিলে পাওয়া গেল।মুখ্যমন্ত্রী এই যৌবনের বার্তা অনুধাবনের চেষ্টা করুন।ওদের চোখে চোখ রেখে দেখুন হাতে হাত রেখে বেঁধে বেধে থাকার স্বপ্নটা কতটা পবিত্র-নির্মল হতে পারে।তারুণ্যই পারে সমাজকে ভালবাসতে,তাই বোধহয় সমাজের পক্ষে যা কিছু বিপজ্জনক,ক্ষতিকর তার বিরুদ্ধে ঘৃণার উদগীরণেও তারুণ্যই পারে এতটা মরিয়া হতে,বৃহস্পতিবার রুকসানা মধুপর্ণা বিশ্বজিত নবীন মহসিনদের প্রতিবাদী উত্তাপের পাশে হাঁটতে হাঁটতে সে কথাই বার বার মনে হচ্ছিল।