পোশাক দেখে সম্প্রদায়কে চিনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, আর বাস পুড়লে মুসলীমদের বদনাম হয় বলেন মুখ্যমন্ত্রী!

0
101
The Chief Minister of West Bengal, Ms. Mamata Banerjee calling on the Prime Minister, Shri Narendra Modi, in New Delhi on September 18, 2019.

CAB বা CAA বিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্নপ্রান্তের সঙ্গে এরাজ্যও উত্তাল। ইতিমধ্যেই  এর জেরে বিভিন্ন জায়গায় রেল বা বাস পোড়ানো হয়েছে। গেল গেল রবও উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঝাড়খণ্ডে প্রচার গিয়ে এই সব হিংসার সঙ্গে কারা যুক্ত তা তাদের পোশাক দিয়ে চেনা যাচ্ছে বলে কটাক্ষ করেছেন। অার এর পর পরই দিল্লিতে জামিয়া ও আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিস কিছু নির্দিষ্ট মন্তব্য সহকারে ছাত্র ছাত্রীদের  বেধড়ক পিটিয়েছে। গুলিও চালিয়েছে।

দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে এইভাবে চিহ্নিত করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এনআরসি ও সিএএ বিরোধী সভায় নিজের শাড়ি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন তাঁকে দেখে কী মনে হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ যুক্তিসঙ্গত। কারো পোশাক দেখে সম্প্রদায়কে টার্গেট করা সঠিক নয়। বটেই তো। অথচ এই মুখ্যমন্ত্রী ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে ঠাকুর বাড়ির সামনে এক সভায় বলেছিলেন কিছু লোক টাকা নিয়ে ট্রেন জ্বালিয়ে দিয়ে মুসলীমদের বদনাম করতে চাইছে। প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রী কী করে বুঝলেন যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ট্রেন বা বাস জ্বালিয়ে দিচ্ছে তারা সবাই মুসলীম। বহু হিন্দুওতো  নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। তাদের কেউ যে ওই হিংসায় জড়িত নন তা মুখ্যমন্ত্রী জানলেন কী করে?মুখ্যমন্ত্রী এই অান্দোলনকে মুসলীম সম্প্রদায়ের আন্দোলন বলে উল্লেখ করার মাধ্যমে তিনিও কি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে অন্যভাবে হলেও চিহ্নিত  করলেন না ?

এদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী যে ঢঙে কথা বলছেন তাতে তারা যে একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তা মনে করছেন অনেকেই।বিশেষ করে মুসলীম সম্প্রদায়ের মানুষেরা আজ আতঙ্কের মধ্যে বাস করছেন। কারণ তারা রাজরোষের সম্মুখীন। অার এই আতঙ্ককেই পুঁজি করে কেউ কেউ বলছেন তার মৃতদেহের উপর  এরাজ্য এনআরসি করতে হবে। কিন্তু দেশের নাগরিক যারা ভোট দিয়ে সরকার তৈরি করল তাদেরকে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে এটা যে অপমান যে সকথা বলছেন না তিনি। কারো দয়াতে এদেশের মুসলীমরা এদেশের নাগরিক নন, সেটা তাদের অধিকার। যেমনটা হিন্দু, খ্রিষ্টান সহ অন্যান্য ধর্মের মানুষদের অধিকার। নাগরিকত্ব কারো দয়ার দান নয়। এটা দেশের মানুষের অধিকার। যারা সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করে ভোট পেতে চাইছেন তারা যেমন বিপজ্জনক। তার থেকে কম বিপজ্জনক নয় যারা এই ভয়কে হাতিয়ার করে ভোটের বৈতরণী পার হতে চাইছে। এদের প্রত্যেকের কাছে মানুষের দাম শুধু ভোটের দিনটাতে, সেটাই উদ্বেগের।

পড়তে পারেনঃ

রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প হচ্ছে না জানাল স্বরাষ্ট্র দফতর । তা হলে মন্ত্রী কেন বলেছিলেন রাজ্য ২টি ডিটেনশন ক্যাম্পের কথা?