ফাঁসি ধর্ষণের সমাধান নয়ঃ সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি

0
25

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ তেলেঙ্গানায় এক পশু চিকিত্সকের ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার পর যখন গোটা দেশে আবার কেউ কেউ ধর্ষকের ফাঁসি ও চরম শাস্তির দাবিতে সোচ্চার,ষখন কেউ কেউ সংসদে দাঁড়িয়ে ধর্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারার নিদান দিচ্ছেন তখন এই দেশেরই সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের প্রাক্তন এক বিচারপতি চলতি হুজুকের বিপরীতে গিয়ে ধর্ষণকে আটকাতে ধর্ষককামী সংস্কৃতিকে প্রতিহত করার দাবি তুললেন।বৃহস্পতিবার নন্দন চত্ত্বরে সেভ ডেমোক্রেসির এক সভায় সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি জানান,যারা ধর্ষণকারীর মৃত্যুদন্ড বা তাদের চরম অমানবিক হত্যার দাবি তোলেন তরা হয়তো সাময়িক আক্রোশের বশে তা বলেন।প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণকারীকে নিকেশ করার মধ্য দিয়ে ধর্ষণ শেষ হয় না।নির্ভয়াকান্ডে ধর্ষকের ফাঁসির অর্ডার হয়েছে তাতে দেশে ধর্ষণ কমেনি।আর অনেক পরিসংখ্যান দেখিয়ে প্রমাণ করা সম্ভব যে ধর্ষণকারীর মৃত্যুুই ধর্ষণ সমস্যার সামাধান নয়।অশোকবাবুর মতে গোটা ব্যবস্থাপনার মদতে যে ধর্ষকামী সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তাকে প্রতিহত করাটাই ধর্ষণ প্রতিরোধের কার্যকরি পথ।মহিলাদের ভোগ্যপণ্য বলে চেনাতে শেখায় যে সমাজ সেই সমাজের গোড়ায় আঘাত করতে হবে সবার আগে।অশোক গাঙ্গুলি স্পষ্টতই আমাদের প্রচলিত রাজনীতি ও তাদের কারবারীদেরও অভিযোগের কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

এই সভাতেই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও বলেন ফাঁসি বা ধর্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার বার্তা দিচ্ছেন যারা তারা বোধহয় ধর্ষণকে নির্মূল করার কথা ভাবেন না।ধর্ষণকে প্রতিহত করতে যারা মহিলাদের সম্পর্কে খারাপ ধারনা পোষন করে,ধর্ষণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও যে বা যারা সংসদে ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে বসে আসেন তাদের বিরুদ্ধে আগে সোচ্চার হওয়া জরুরি।বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুমুল সমালোচনা করে বলেন তিনি তো ধর্ষণকে সর্দি কাশির মত একটা স্বাভাবিক ব্যপার বলে মনে করেন।এই সব মন্তব্য যারা করেন তাদের দিয়ে ধর্ষণ প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে মত আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের।

এই সভায় বক্তব্য রাখেন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান,বামপন্থীনেত্রী কণীনিকা ঘোষ,ভাঙর আন্দোলনের নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরি,এসএফআই এর সৃজন বসু সহ আর অনেকে।ছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনিক দত্ত।অনিকবাবু বলেন,ধর্ষণের ঘটনার পর আমরা মোমবাতি মিছিল করছি,আসলে আগুন নিয়ে হাঁটা নয় এখন তাঁর মতে আগুন লাগাবার সময়।তবে কোথায় কীভাবে আগুন দিতে হবে তা নিয়ে তাঁরও সংশয় আছে বলে জানান অনিক দত্ত।