বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ভুল শুধরে নিতে এনআরসি বিরোধী সভায় সামিল

0
891

অনুপম কাঞ্জিলালঃ  মাত্র কয়েক মাস আগেও ওরা বিশ্বাস করতেন বিজেপিকেই এ রাজ্যে দরকার।বামেরা চৌত্রিশ বছর সময় পেয়েছে,তৃণমূল এখন আছে এরপর বিজেপিকে আনতে হবে।মাত্র কয়েকমাস আগে হয়ে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনে তাই উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ এলাকায় ওরা দল বেঁধে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন।কিন্তু মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই ওদের ভাবনা বদলে গেছে।ওরা এখন মনে করছে এদেশের সব রাজনৈতিক দলই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে,মানুষকে বোকা বানায়।তবে বিজেপির মত মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়া করার পরিকল্পনা করে না কোন দলই।তাই এখন ওরা যে কোন মূল্যে বিজেপিকে আটকাতে চান।ওরা রাজু বড়াল,মদন সাহা,সৌভিক মন্ডল।এদের মধ্যে রাজুর বয়স ৪০,আর মদন সৌভিকের যথাক্রমে ৩২ ও ৩৫।রায়গঞ্জে কিছুদিন আগেও ওদের অনেকেই চিনতেন বিজেপির অন্ধ সমর্থক বলেই।কিন্তু এনআরসি নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা ওদের এখন এতটাই আতঙ্কিত করে তুলেছে যে বিজেপিকে ভোট দেয়ার ভুল শুধরে নেওয়ার শিক্ষা নিতে ওরা সুদূর উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় চলে এসেছেন এনআরসি বিরোধী যুক্তমঞ্চের আহ্বানে।সোমবার রানি রাসমনি রোডের এনআরআরসি বিরোধী সভার একেবারে প্রথমসারিতে বসে ওরা মন দিয়ে শুনলেন গোপীনাথন কান্নন,কানাইয়া কুমার,কবিতা কৃষ্নানদের এনআরসি বিরোধী বক্তব্য।এনআরসি বিরোধী নাগরিকমঞ্চের সদস্য পদ গ্রহন করে জানিয়ে দিলেন এনআরসি বিরোধী লড়াইকে তারা তাদের এলাকায় আর জোরদার করে তুলবেন।রাজু-মদনদের কথায় বিজেপিকে সমর্থন করে যে ভুল করেছি তা শুধরে নেওয়ার শিক্ষা নিতেই এখানে আসা।এবার তারা নিজেদের শিক্ষা নিজেদের এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে প্রয়াসি হবেন বলে দাবি করে গেলেন।
বিজেপি তো বলছে যে সিএবি করে এনআরসি করা হলে হিন্দুদের কোন ভয় নেই,তাহলে তারা এতটা ভয় কেন পাচ্ছেন?এ প্রশ্নের উত্তরে রাজু জানালেন নাগরিকতা নির্ধারনে এতদিন ধর্ম পরিচয় কোন মাপকাঠি হয় নি, এখন কেন তা হবে?তার চেয়েও বড় কথা আসামে যা হল তারপর কোনভাবেই আর বিজেপিকে ভরসা করা যায় না।রাজু বড়ালের ছেলে এবার মাধ্যমিক পাশ করেছে তাঁর মতে দেশের সরকার চাকরি,অর্থনীতির উন্নয়নের কথা না বলে যে ভাবে বার বার আমাদের মত সাধারণ নাগরিককে নানা বিষয় কাগজপত্র জোগাড় করতে ব্যস্ত রাখছে তাতে মনে হচ্ছে দেশের সমস্যা সামধানের কোন ইচ্ছাই ওদের নেই।মদন সৌভিক স্থানীয় দোকানে কাজ করেন।বললেন কোথায় কাগজ-পত্র পাবো বলুন তো।খাবার জোগার করতে দিন চলে যায়,আবার নাকি এখানকার নাগরিক হওয়ার ্প্রমাণ দিতে হবে।এদের কথায়,কোথায় ভাবলাম বিজেপি এখানে এলে ব্যবসা বানিজ্য চাঙ্গা হবে।কলকারখানা হবে কাজ পাবো তা না এখন দেখছি এরা আমাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করার ধান্দায় আছে।সৌভিক জানালেন তাদের এলাকায় এনআরসি আতঙ্ক ছড়িয়েছে মারাত্মকভাবে।এনআরসি বিরোধী সভায় লোকের ভিড় উপচে পড়ছে।তারাও একান্ত নিজেদের স্বইচ্ছাতেই এনআরসি বিরোধী মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন।
রাজু মদন সৌভিকরা জানেন এ রাজ্যের অনেক জায়গাতেই এনআরসি আতঙ্কে মানুষ আত্মহত্যা করছেন।এইসব মৃত্যুকে ওরা কোন ধর্ম পরিচয়ে বাঁধতে চায় না।বললেন মানুষের অস্তিস্ব কখোন বেআইনি হয় না,এনআরসি বিরোধী মঞ্চের এই স্লোগান তাদের খুব মনে ধরেছে।রাজু-মদনরা তাদের সহজ সরলতাতেই বুঝতে পারছেন যে বেআইনি মানুষ বলে কিছু হয় না।বিজেপি মানুষকেও বেআইনি তকমা দিতে চাইছে তাই তাদের কাছে বিজেপি এখন মানুষ বিরোধী দল।সেই দলকে তারা রুখে দিতে চায় নাগরিক পঞ্জি বিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়েই।সোমবার উত্তরঙ্গ থেকে এসে কলকাতার সভায় যে বার্তা দিয়ে গেলেন রাজু বড়াল মদন সাহা,সৌভিক মন্ডলরা,সেই বার্তা যদি উত্তরবঙ্গের মানুষের বার্তার প্রতিধ্বণি হয় তবে কিন্তু দিলীপ ঘোষ,মুকুল রায়দের কপালে চিন্তার বলি রেখা গভীর হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

ছবি  এনঅারসি বিরোধী যৌথ মঞ্চের  সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে

পড়তে পারেন অারেকটি  প্রতিবেদনঃ

এনআরসির বিরোধিতা করে সন্তানকে ভাল কেরিয়ারের পরিবর্তে ভাল সমাজ দেওয়ার আহ্বান রাখলেন গোপীনাথন