মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতেই বাম-কংগ্রেসের লংমার্চ

0
47

সাতদিন ডেস্কঃএকের পর এক নির্বাচনে তাদের ভোটের হার যতোই কমুক তবু মানুষের পাশে থাকতে হবে।মানুষের কাছে এই বার্তা নিয়ে যেতে হবে যে তারা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে।আর সেই লক্ষ্যেই লং মার্চ।শনিবার থেকে আসানসোলের চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা হয়ে যে দীর্ঘ মিছিল কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলি যার নাম তারা দিয়েছেন লংমার্চ।এই উদ্যোগের কারণ মানুষের পাশে থাকা,মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধকে ভাষা দেওয়া,জানাচ্ছেন লংমার্চের আয়োজকরা।বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা থেকে শুরু করে একাধিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে বেসরকারিকরণ করার উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে তাতে এদেশে বেকারি ও বেরোজগারি মাত্রাতিরিক্ত হবে।বেকার যুবক-যুবতীদের নিরাশায় ভুগতে হবে এই আশঙ্কা প্রতিরোধেই পথে নামার সিদ্ধান্ত বাম ও কংগ্রেসের।

সিটু নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তী জানালেন তাঁরা মনে করেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এদেশের যাবতীয় শ্রমনীতিকে পরিহার করে এক ভয়াবহ পুঁজিবাদী শ্রমনীতি এদেশে প্রয়োগ করতে চাইছে তার বিরুদ্ধে শুধু শ্রমিকদের নয় প্রতিটি মানুষকে সজাগ ও প্রতিবাদমুখি করে তুলতে তাদের এই লংমার্চের আয়োজন।শ্যামলবাবু জানান এই মিছিল চিত্তরঞ্জন থেকে শ্রমিক ইউনিয়নগুলি শুরু করলেও জায়গায় জায়গায় তাদের যুব ও ছাত্র সংগঠনও মিছিলে অংশ নেবে।কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব সংগঠনও মিছিলে অংশ নেবে।দীর্ষ পথ অতিক্রম করে মিছিল আগামী ১১ তারিখ যখন কলকাতার দিকে এগিয়ে আসবে তখন তার আয়তন যথার্থ ‘লং’বলেই প্রতিভাত হবে বলে শ্যামল চক্রবর্তীর প্রত্যাশা।’এই মিছিল আসলে নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ধাপ্পাবাজির বিরুদ্ধে দেশের যুব সম্প্রদায়ের চেতনাকে সজাগ করার প্রয়াস।এই মিছিল এ দেশের অখন্ডতা,ধর্মনিরপেক্ষতা ও প্রতিবাদের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা।’ বললেন ডিওয়াইএফের রাজ্য সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলি বাঁচিয়ে রাখতে কংগ্রেস ও বামেরা যে একসঙ্গে লড়তে বদ্ধপরিকর সেই বার্তাই দিতে চেয়েই এই মিছিল বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।

তবে এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের প্রতিরোধের বার্তা কি মানুষকে আদৌ কোন ভরসা দিতে পারবে?জোট বেঁধে লড়ার পরেও তো সদ্য সমাপ্ত উপানির্বাচনে দেখা গেল তাদের ভোট ক্ষয়েই চলেছে।’শুধু ভোট দিয়ে নয় বামপন্থীদের উপস্থিতিকে বুঝতে হয় আদর্শ দিয়ে,নৈতিকতা দিয়ে।যে কোন সচেতন মানুষই মানবেন বামপন্থীরা হারিয়ে গেলে প্রগতিপন্থী ভাবনা দিশেহারা হয়ে যায়।থমতে যায় সভ্যতার পথ চলা।আমরা তাই শুধু ভোটে লাভ-ক্ষতির হিসেব কষছি না,আমরা মানুষের বেঁচে থাকতে পারা বা না পারার হিসেব কষতে চাই।এ রাজ্যে ভোট প্রাপ্তির শতাংশের হারে আমরা যদি শূণ্য হয়েও যাই থখনও আমরা মানুষের বাঁচা মরার লড়াইয়ে থাকবো।এই বা্র্তাটাও দিতে চাই এই লং মার্চের মধ্য দিয়ে।’ডিওয়াইএফের সভানেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য শুনতে বেশ লাগল,অন্তত এ রাজ্যে যে বামেরা ৩৪ বছর রাজত্ব করে গেছেন তাদের চেয়ে অনেকটা আলাদা।এখন দেখার মিনাক্ষীের মত এইসব নতুন মুখের কথায় ও লড়াইতে এ রাজ্যের মনুষ আবার বামপন্থীদের প্রতি আস্থা ফিরে পায় কি না!