রাজ্যপালের বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়া কি জরুরি?

0
57

সাতদিন ডেস্কঃ-যাদবপুর বিশ্ববাদ্যালয়ে রাজ্যপালের উপস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার এক ধুন্দুমার কান্ড ঘটেছে।ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপালের উপস্থিতি মেনে নিতে অস্বীকার করে,তারা রাজ্যপালকে ‘গো ব্যাক’ বলে ফিরে যেতে বাধ্য করাতে বিক্ষোভ দেথাতে শুরু করে।গোটা বিষয়টাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর জুড়ে এক অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।এর আগেও একবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে ছাত্ররা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে বিক্ষোভ দেখাবার সময় সেখানে রাজ্যপাল পৌঁছে যান এবং তখনও রাজ্যপাল ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘাতের উপক্রম হয়।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।কেউ কেউ বলছেন রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য তাই তাঁকে অমান্য করে সাংবিধানের প্রতি ছাত্ররা আনুগত্যহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।রাজ্যপালের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয় বলে ছাত্রদের পক্ষ থেকেও দাবি উঠেছে।গোটা দেশে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে নতুন নাগরিক আইন চালু করতে চাইছে তাতে নাগরিকদের ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়াস রয়েছে বলে বেশকিছু ছাত্র সংগঠনের দাবি।দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই আইনের বিরোধিতা করে বলছেন এ দেশের সংবিধান ধর্ম নিরপেক্ষতাকে আশ্রয় করে চলার যে রীতি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার সেই রীতিকে ভাঙতে চাইছে।তাই সংবিধান বিরুদ্ধ কাজ করছে বলে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করাকে সংবিধান রক্ষার আন্দোলন বলেই মনে করেন এদেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলি।সেই সূত্রেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটা অংশ মনে করে যেহেতু এ রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নাগরিক আইনকে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন তাই তিনিও সংবিধানের মূল সুরকে ভাঙার পক্ষেই আছেন।তাই এরকম একজন ব্যক্তিকে তারা সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে মেনে নিতে অপারক।তাই বিক্ষোভ,তাই গো ব্যাক স্লোগান।এই নিয়েই নানা মুনির নানা মত।
এই প্রসঙ্গে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট অভিমত,রাজ্যপাল পদটি বলা হয় অরাজনৈতিক পদ,কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এই পদে বসে রাজনীতির যে চর্চা হয় তা সর্বজনবিদিত সত্য।কেন্দ্রীয় সরকার এই পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়ে নানা ভাবে রাজ্য সরকারগুলিকে বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দল শাসিত রাজ্যগুলিতে চাপ তৈরির চেষ্টা করে তা নিয়ে সন্দেহের এখন আর কোন অবকাশ নেই।এ রাজ্যের রাজ্যালের যে অতিসক্রিয়তা তার যে বিশেষ এক রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে তা যে কেউই একটু ভাবলেই বুঝতে পারবেন।এই রাজনীতির সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে না জরিয়ে ফেলার একটা পথ হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাজ্যপালকে না রাখা।এমনিতেই পদাধিকার বলে রাজ্যপালের বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়ার পেছনে কোন যুক্তিগ্রাহ্য কারণ নেই।কেন এই পদে কোন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে রাখা হবে না,তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।কেউ বলতে পারেন বিশ্ববিদাালয়ের ছাত্ররাই বা রাজনীতি নিয়ে এতটা শোরগোল বাঁধাবে কেন,তাদের তো পড়াশুনো নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা।এই যুক্তি যারা দেন তারা নিশ্চয়ই রাজনীতির বৃহত্তর তাত্পর্য বুঝতে সমর্থ নয়,তারা এমনকী রাজনীতি ও লোকনীতির সামঞ্জস্য বুঝতেও অক্ষম।রাজ্যপালের আচার্য হওয়ার কোন বিশেষ কারণ যখন নেই তখন দেশের সংবিধানের পবিত্রতার কথা ভেবেই না হয় এই অচার্য় পদ থেকে রাজ্যপালকে মুক্তি দেওয়ার প্রয়াস শুরু হোক।