এনআরসি- র বিরোধিতার নতুন বর্ণমালা পড়া হচ্ছে পার্ক সার্কাস ময়দানে

0
109

সাতদিন ডেস্কঃ–পার্ক সার্কাস ময়দান,কলকাতার খুব পরিচিত জায়গা।এই ময়দান জনসমাবেশে ভরে উঠেছে নানা উপলক্ষ্যকে সামনে রেখে। কখনো বর্ণবাহারি দুর্গা পুজোর আয়োজন,কখনো সার্কাস দেখার তাড়না,কখনো রঙবাহারি মেলা দেখতে পার্ক সার্কাস ময়দানে সামিল হয়েছি আমরা।তবে গত কয়েকদিন ধরে পার্ক সার্কাস ময়দানে মানুষ জড় হচ্ছেন,ঠায় বসে থাকছেন এক অন্য উপলক্ষ্যকে সামনে রেখে।সেই উপলক্ষ্যের নাম এনআরসি বিরোধিতা।দেশের বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার যে পদ্ধতিতে নাগরিক নির্ধারণের রীতি বেঁধে দিতে চাইছে তাতে ধর্ম পরিচয়ের ধাক্কায় আমাদের সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট হবে।এদেশে হিন্দু-মুসলিম মানুষ শুধু পাশাপাশি থাকেন না,কাছাকাছিও থাকেন সেই বার্তা দিতেই পার্ক সার্কাস ময়দানে ঠায় বসে আছেন শ’য়ে শ’য়ে মানুষ।এক সঙ্গে আওয়াজ তুলছেন তারা কাগজ দেখাবেন না,বলছেন তারা স্বাধীনতা চান,চান নাগরিকতার অধিকার।এই আওয়াজ তুলছেন কলেজ ছাত্রী রেশমা,এই আওয়াজ একই সঙ্গে তুলছেন কোনদিন স্কুল-কলেজে পা না রাখা মধ্যবয়সী শাখিনা বিবিও।এনআরসি এক ধাক্কায় এদেশের জণগনকে রাজনীতি সচেতন করে তুলেছে আর সেই রাজনীতি সচেতনাতার সূত্রেই পার্ক সার্কাস ময়দানে এখন নিয়ম করে দেশপ্রেম ও নাগরিকতার নতুন বর্ণমালা খুলে বসেছেন একদল মানুষ।

গত কয়েকদিন ধরে মায়েদের সঙ্গে ময়দানে  বসে থাকছেন ছোটরাও মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে তারাও বলছে ‘চাই আজাদি’হয়তো না বুঝেই বলছে কিন্তু ওদের চোখেও যেন উদ্বেগের ছায়া।সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই উদ্বেগের আবহেই জম্ম নিচ্ছে এক প্রতিবাদের গল্প,এক বিরুদ্ধতার স্বর।সেই স্বরের কোন ধর্মভেদ নেই,নেই বর্ণভেদও।তাই বৃহস্পতিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া স্বাতীলেখা পার্কসার্কাস ময়দানে প্রতিবাদীদের পক্ষে বলতে এসে বললেন,’এখানে না আসলে বুঝতে পারতাম না,শিক্ষা শুধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদেওয়ালে থাকে না শিক্ষা থাকে মানুষের ভাবনায় চেতনায়।পার্ক সার্কাসের কাকিমা দিদিমারা আমাদের শেখালেন আটপৌড় জীবনের গন্ডীতেও অনেক শিক্ষা নেওয়ার মত বিষয় থাকে।এঁদের প্রতিবাদ ও বিরোিতাকে সম্মান জানাতেই আজ আমার এখানে আসা।’স্বাতীলেখার বক্তব্য শুনে কৃতজ্ঞার পরশে চক চক করে ওঠে ময়দানের মধ্যবয়সী ও প্রৌঢ় মুখগুলি।বস্তুত গত দিন দশেক ধরে পার্ক সার্কাস ময়দানে দিল্লির শাহিনবাগের যে প্রতিছ্ববি ফুটে উঠতে দেখা যাচ্ছে তার মুখ্য কারিগর পার্কসার্কাস এলাকার মহিলারাই।ঘরের কাজ সামনে এরাই প্রতিদিন প্রতিবাদ-প্রতিরোধের বর্ণমালা খুলে বসছেন ময়দানে।ময়দান জুড়ে মানুষের মেলা।সমবেত গলায় সবাই গাছইছেন বেঁধে বেঁধে থাকার গান।সারা দিন নানা কাজ সেরে সন্ধ্যের পর প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ ময়দানে।কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা আসছে বক্তব্য রাখছে আর ফিরে যাবার সময় শাখিনা বিবি,পদ্মা খাতুনদের বলে যাচ্ছে ‘কাকি যাচ্ছি”প্রতিউত্তরে তারাও বলছেন ‘সাবধানে যাস,আবার আসিস কেমন!’শাখিনাের সঙ্গে এইসব কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের আলাপ এই প্রতিবাদ সূত্রেই কিন্তু সংলাপ গুলো শুনলে মনে হয় আত্মীয়তার গভীরতা যেন অনেকখানি।এখানেই পার্ক সার্কাস ময়দান এক অনন্যতার নজির তৈরি করছে।রাজনীতির হিসেব নিকেশ ছাড়িয়ে হৃদয়ে হৃদয়ে মিলে যাওয়ার নজির।এখানেই জিতে গেছেন শাখিনারা,হারিয়ে দিয়েছেন সব রাজনীতিকদের।অধিকাংশ নেতারাই ভোটে জিততে চান,শাখিনারা চান মানুষের  হৃদয় জিততে।পুরসভা অস্থায়ী টয়লেট করতে অনুমতি দেয় নি,রাতে ত্রিপল লাগাবার অনুমতিও নেই তবু ময়দান ছাড়ছেন না প্রতিবাদীরা।শাখিনা বিবি বললেন, ‘কোন মেয়ের টয়লেট যাওয়ার দরকার হলে আমাদের অনেকেরই বাড়ি তো কাছে সেখানেই নিয়ে যাচ্ছি’বটেই তো যাদের হৃদয় জয় করতে পথে নামা তাদের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া কী এমন কঠিন কাজ!নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহরা কী বুঝতে পারছেন বিভাজনের দেওয়াল তুলতে গিয়ে সেই দেওয়াল ভেঙে ফেলার একটা পরিসর তাঁরাই তৈরি করে দিয়েছেন।না বুঝলে কান পাতুন অনুধাবনের চেষ্টা করুন শাহিনবাগ বা পার্ক সার্কাসের বার্তা।

,