কেন গানওয়ালা থেকে ‘gun’ওয়লা হওয়ার সাধ জাগছে কবির সুমনের ?

0
263

অনুপম কাঞ্জিলালঃ    -‘ওরা বর্বর,ওরা হিংসার চাষ করে। গোটা দেশকে ওরা ভাসিয়ে দিতে চায় বর্বরতার বন্যায়।ওদের প্রতিরোধ করতে হলে কোন তত্ত্বকথা নয় দরকার ওদের বিরুদ্ধে পাল্টা যুদ্ধ ঘোষণার।আমার ভাই তাই এখন এই বুড়ো বয়সে গান ছেড়ে gun ধরতে সাধ জাগছে।বন্দুকধারি হতে পারলে বেশ হোত,একজন ভারতীয় হিসেবে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে পারতাম ভারত বিরোধী বিজেপীয় বর্বরতাকে-হিংস্রতাকে।’এভাবেই জেএনইউর ক্যাম্পাসে ঢুকে সেখানকার ছাত্র ও অধ্যাপকদের উপর বিজেপির সমর্থক গোষ্ঠীর আক্রমণের ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন নাগরিক কবিয়াল।সাতদিনডটইনের   সঙ্গে কথা বলার সময় বার বার কেঁপে উঠছিল স্বভাব-কবি কবির সুমনের গলা।কোন রাখ ঢাক না করেই তিনি বলে চলেন,’বন্দুক ধরার কথা বলায় যদি আমাকে জেলে পাঠায় তো পাঠাক,আমি পরোয়া করি না।ওরা সহ্যের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।ওদের প্রতিরোধে পাল্টা যুদ্ধ ঘোষণাই একমাত্র পথ।’কবির সুমন মনে করেন যখন তাঁর নাতি নাতনির বয়সী ছেলে মেয়েগুলো কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিজেপি নামক একটা ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রতিহত করতে নিয়ম করে রক্ত ঝড়াচ্ছেন তখন নিরাপদ দুরত্বে বসে শান্তির ললিত বাণি বিতরণ করাটা চরম অসভ্যতা।তাঁর মতে এই মুহুর্তে দুটি পক্ষ আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেছে,একদিকে ভারত তার ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে অন্যদিকে বিজেপি তার বিষাক্ত সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে।কবির সুমন মনে করেন বিজেপির চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ছোবলের ফলে এ দেশে এক সংকট শুরু হয়েছে যেমন সত্য অন্যদিকে এর ফলেই এক নতুন জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হচ্ছে।যার নেতৃত্বে কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয় মানুষ,হিন্দু মুসলমান দলিত নির্বিশেষে অগুন্তি মানুষ।মানুষের এই জাগরণ বিজেপি ও তার সঙ্গী সাথিরা প্রত্যাশা করতে পারেনি বলে মত গানওয়ালার।
তবে তিনি কি আশাবাদী যে মানুষের জাগরণে এদেশে ফ্যাসিবাদ নির্মূল হয়ে এক নতুন জাতীয়তাবাদের ক্রম প্রসার হবে বলে?এ প্রশ্নের এক কথায় উত্তর না দিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলে চলেন ‘বাহাত্তুরে যুবক’,’ওদের হাতে পুলিশ আছে প্রশাসন আছে ওরা ক্ষমতার চরম অপপ্রয়োগ করবে।ওরা কাশ্মীরে মুসলিম মেরেছে,অসমে বাঙালি মেরেছে,এ রাজ্যেও মারবে।ওরা হিন্দুদের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষের বিষ ছড়াবে,ওরা ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতিটি স্তরে আঘাত করবে।এটাই ওদের রাজনীতি।হিটলার যদি আজকের বিশ্বে ত্রাস শুরু করতে পারতো সে তবে আর ভয়ঙ্কর হোত,মনে রাখতে হবে ওরাই আজকের বিশ্বের হিটলার তাই ওরা আর ভয়ঙ্কর-ভয়াবহ।তাই ওরা ওদের বিষ উগড়ে দেবে সর্বশক্তি দিয়ে।তাই লড়াইটা কঠিন।যে ছাত্র সমাজ লডাইতে নেমেছে ওদের রক্ষা করতে হবে।এখানেই আমার খুব অসহায় বোধ হচ্ছে,কারণ আমার রণসাজে সজ্জিত হওয়ার সাধ থাকলেও সাধ্য তো নেই।’কবির সুমনের গান,তাঁর কথাই তো তাঁর অস্ত্র।কেন তবে তার মনে হচ্ছে গান দিয়ে যুদ্ধ জয় হয় না?এ প্রশ্নে তেতে ওঠে কবিয়াল সুমন,জানিয়ে দেন গান যদি অস্ত্র হতে পারতো তবে রবিবার বিকেলে একদল বর্বর ইতর যখন জেএনইউতে ঢুকে ছাত্র ছাত্রীদের উপর চড়াও হোল তখন কেন তাঁর গানের বিষ্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেল না সেই বর্বরের দল,কেন চূড়ান্ত সর্বনাশ হয়ে তাদের উপর বর্ষিত হোল না গানের ফলা?কবির সুমন মনে করেন বাস্তবিকই এখন এদেশের যা পরিস্থিতি তাতে বিজেপি ও ভারত মুখোমুখি লড়াইতে দাঁড়িয়েছে তাই ভারতবাসী বলে নিজেদের যারা মনে করেন তাদের শারীরিকভাবেই লড়াইয়ের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার সময় এসে গেছে।
নতুন এক ভারতের চেহারা দেখতে উদগ্রীব গানওয়ালা,তাঁর মত বুডো হাবড়ার দল এই নতুন ভারত গঠনের পেছনের সারিতে থাকবে,সামনে থাকবে তরণ দল তারাই পথ দেখাবে।কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল,তারপর রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে আদালতের রায়,অসমে এনআরসি সবাই মেনে নিচ্ছিল,তারপর গোটা দেশে এনআরসি সিএএ ওরা ভেবেছিল সবই একতরফা করে ফেলবে।অন্তত একটা বার্তা দেওয়া গেছে একতরফা সবকিছু হবে না।বিরুদ্ধ স্বর এখনও অবলুপ্ত হয়ে যায় নি সেটাই ভরসা দিচ্ছে ‘বাহাত্তুরে বুড়ো’গানওয়ালাকে তাই আবেগ সর্বস্ব গলায় জানাতে ভোলেন না,’যখন দেখি নামাজ ছেড়ে মুসলিমরা জাতীয় সঙ্গীত গাইছে আর জাতীয় পতাকা হাতে ছাত্ররা ফ্যাসিবাদের বিরোধিতায় পথ হাঁটছে তখন মনে হয় এক নতুন ভারত উঠে আসছে,যে ভারত বাবা সাহেব আম্বেদকর দেখেন নি,দেখেন নি গান্ধীজিও অথচ দেখতে চেয়েছিলেন আমি যেন সেই ভারতকে পুরোপুরি দেখে যেতে পারি।আহা আর কয়েকটা বছর বেঁচে থাকতে চাই দেখে যেতে চাই বিজেপি নামক একটা সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্ট দলকে হারিয়ে জেগে উঠছে,বেঁচে উঠছে আমার দেশ ভারতবর্ষ।’এ শহরের নাগরিক কবিয়াল যখন আবেগ বিহ্বলতায় অনর্গল এমন প্রতিক্রিয়া দিয়ে চলেছেন ঠিক তখনই এ রাজ্যের যাদবপুর থেকে আক্রান্ত জেএনইউতে ছাত্ররা তার গানের সুরেই প্রতিবাদের আগুনে গা সেঁকে নিতে গেয়ে চলেছে ‘হাল ছেডো না বন্ধু বরং কন্ঠ ছাড়ো জোড়ে দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে…’কে বলে গান প্রতিবাদের অস্ত্র হতে পারে না! গানওয়ালা শুনছেন তো!!!