ডিএ এর আগে নতুন বেতনক্রম নিয়ে সংশয়ে কর্মীদের একাংশ

0
1959

সাতদিন ডেস্কঃ- নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হতে যাচ্ছে ২০২০ ১ জানুয়ারি থেকে।আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারিরা নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে শুরু করবেন। তবে ঠিক এই সময়টাতেই রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের মধ্যে, বিশেষ করে যারা নতুন বেতন চালু হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ দিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একরকম সংশয় তৈরি হতে শুরু করেছে।সেই সংশয়ের পেছনে যেমন আইনি প্রভাব কাজ করছে,তেমনি রয়েছে নৈতিক প্রভাবও। স্যাটের নির্দেশ ছিল বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্য়কর হওয়ার আগেই রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের যাবতীয় বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে।রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ না মেনেই এবার জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনক্রম চালু করে দিতে চলেছে।স্যাট গত বছর রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার তিন মাস আগেই সরকারি কর্মচারিদের যাবতীয় বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে।সেই নির্দেশ অমান্য করায় রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠন কনফেডারেশন ইতিমধ্যেই স্যাটে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছে।সেই মামলার শুনানি চলছে।আগামী ৫ফেব্রুয়ারি আবার তা নিয়ে শুনানি হবে।তবে ইতিমধ্যেই যে সংশয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে তা হোল,বকেয়া ডিএ আগে পাওয়া নিয়ে যারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করছে তারাই যদি রাজ্য সরকারের নতুন বেতনক্রম মেনে নেন তবে কোন নৈতিকতায় তারা সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার লড়াই করবে?স্যাটও তো সেক্ষেত্রে কর্মীদের বলতে পারে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আপনারাও তো স্যাটের নির্শেশ অমান্যই করেছেন।কী হবে সেক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যাখ্যা?সেই ব্যাখ্যা দিয়ে কনফেডারেশনের প্রতিনিধি ও ডিএ দেওয়ার মামলাকারি মলয় মুখোপাধ্যায় সাতদিন ডটইনকে জানালেন,বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় যে নেই তা নয়,তবে তিনি নিজে এ বিষয় নতুন বেতনক্রমের অপশন ফ্রমে সই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।মূল মামলাকারী হিসেবে এটা তার নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করছেন মলয়বাবু।তবে একই সঙ্গে তিনি এই সিদ্ধান্ত সবার উপর চাপিয়ে দিতে রাজি নয়।তার মতে সরকারের একটা কৌশল এটাও হতে পারে যে বকেয়া ডিএ না দিলে নতুন বেতনক্রম চালু করা যাবে না এই দাবিতে সব কর্মচারি সংগঠন সোচ্চার হলে সরকার নতুন বেতনক্রম চালু করার ক্ষেত্রে এই কর্মী বিক্ষোভের অজুহাতেই পেছিয়ে যেতে পারে।পুরো বিষটাই আইনি জটিলতায় আটকে যেতে পারে।তাই মলয়বাবুরা চাইছেন পুরো বিষয়টা আদালতের উপর ছাড়তে।তাঁর মতে সরকার দুবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে,এবার আদালতই বলুক তারা তাদের বকেয়া ডিএ কী ভাবে পেতে পারে।

একই যুক্তি স্যাটে কর্মচারি সংগঠনের আইনজীবী আমজাদ আলি খানের,তার বক্তব্য সরকার একটা কৌশল করছে নিজেরা আদালত অমান্য করে কর্মীদের আইনি জটিলতার মধ্যে ফেলে তাদের ন্যায্য পাওনা দেওয়াটা সময় সাপেক্ষ করে তুলতে।আইনজীবী হিসেবে তিনি মনে করেন নতুন বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন পাওয়াটা কর্মীদের অধিকার আবার বকেয়া ডিএ পাওয়াটাও তাদের অধিকার।সুতরাং আদালতকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কী ভাবে কর্মীদের অধিকার পাইয়ে দেওয়া যায়।সরকার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে,কর্মীরা শুধু তাদের প্রাপ্যটা দাবি করছে কোন আইন তারা ভাঙছে না।কর্মীদের কেউ কেউ নতুন বেতনক্রমের অপশন ফর্মে সই না করলেও অধিকাংশ কর্মীই কিন্তু সে সাহস দেখাতে পারছেন না।সেটা মেনে নিচ্ছেন সরকারি কর্মী সংগঠনগুলো।এখন প্রশ্ন সাহস না থাকলে অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াই কী বেশী দূর এগুতে পারে?সম্প্রতি বামেেদের ডাকা বনধ হয়েছিল রীতিমতো নোটিশ দিয়ে অথচ সেখানে কোঅর্ডিনেশনের সদস্যরা প্রায় সকলেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন,এই উদাহরণকে সামনে রেখে অনেেকেই বলছেন কর্মীদের লড়াই আসলে তু তু ম্যায় ম্যায় তার বেশী কিছু নয়।তবু কনফেডারেশনের কর্মী মলয় মুখার্জী মনে করেন অনেকে ভয় পেলেও কর্মীদের লড়াইয়ে অনেক সাহসী মানুষও আছে তাদের ভরসাতেই লড়াই চলবে,বকেয়া ডিএ তারা আদায় করতে পারবে বলেই বিশ্বাস কনফেডারেশনের প্রতিনিধি মলয় মুখোপাধ্যায়ের।