দিল্লির রাজপথে পিস্তল উচিয়ে যুবক দরজায় কড়া নাড়াচ্ছে ফ্যাসিবাদের

0
41

সাতদিন ডেস্কঃ বৃহষ্পতিবার দিল্লিতে পুলিসের সামনে জামিয়া মিলিয়া ছাত্রদের দিকে পিস্তল তাক করে হুমকি ও অবশেষে গুলি চালায় এক রামভক্ত গোপাল। বলা হচ্ছে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি অাজাদি শ্লোগানের জবাবে অাজাদি লো বলে গুলি চালায়। এমনিতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিজেপি বা অারএসএসরে মদত ছাড়া কোন ব্যক্তির এত সাহস হতে পারে না। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী  অনরাগ ঠাকুর  যখন শ্লোগান তোলেন দেশ কো গদ্দারো কো  গোলি মারো শালো কো, তার পর কেউ  পিস্তল হাতে পড়ুয়াদের উচিত শিক্ষা দিতে বেরিয়ে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। তবে দেশের রাজধানীতে কেউ পুলিসের সামনে এই কাণ্ড ঘটালে দেশের অাইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কেন্দ্রর সরকার এতে অস্বস্তিতে ।

 নাগরিকত্ব সংশোধীন অাইনের বিরুদ্ধে দেশ ব্যাপী প্রতিরোধে দিশেহারা শাসক দল। দলিত ও মুসলীম সমাজের সঙ্গে রাস্তায় নেমছে ছাত্রদের একটা বড় অংশ। এতেই কপালে ভাঁজ শাসকদের। অার তাই বিজেপি নেতারা একদিকে তারা শাহিনবাগে মহিলাদের  ঐতিহাসিক অবস্থানের প্রতি কখনও কটাক্ষ করছেন কখনও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। কখনও বা কুকথা বলছেন। সাম্প্রদায়িক কথা বার্তা বলে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করছেন। বিজেপি অারএসএস এর তুরুপের তাস দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের মাধ্যমে হিন্দু ভোটকে নিজেদের দিকে টানা। এর জন্য দেশের প্রান্তিক মানুষদের হয়ে যারা কথা বলবেন তাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেশদ্রোহী তকমা দিয়ে একদিকে জেলে বন্দি করা হচ্ছে অন্যদিকে এক হিংস্র জনগোষ্ঠী তৈরি করে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। গোপাল শর্মা এদেরই ফুট সোলজার।

অনেক রাজনৈতিকদলই অঙ্ক কষছেন সিএএ বিরোধী অান্দোলনের তাদের ভোটে কী লাভ হবে। অাদৌ হবে কিনা। তারা মোটেই দেশব্যাপী ফ্যাসিবাদী অাক্রমণকে প্রতিহত করার বিষয় অাগ্রহী নয়।প্রতিদিন যা ঘটছে তাতে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রতিটি নাগরিকের জন্য জরুরি হয়ে পড়ছে।  এক অন্ধকার ভারত দরজায় কড়া নাড়ছে।