ধর্মতলা চত্ত্বর যেন প্রতিবাদের মেলা,বিদ্রোহী তারুণ্য মুখ্যমন্ত্রীকে শেখালেন বিরুদ্ধতার মানে

0
526

সাতদিন ডেস্কঃ-শনিবার  গোটা ধর্মতলা চত্ত্বর যেন দখল করে নিয়েছিল মোদী গো ব্যাক বলা তরুণ সম্প্রদায়। হাতে হাতে প্লাকার্ড আর কালো পতাকায় ওরা জানান দিচ্ছিল বিরুদ্ধতার মানে।কেউ এসেছিল প্রেসিডেন্সি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে,কেউ বা যাদবপুর থেকে।কেউ আবার কলেজ থেকেও চলে এসেছিল লক্ষ্য ছিল একটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়ে দেওয়া তাঁকে বাংলা স্বাগত জানাচ্ছে না।টিপু সুলতান মসজিদ থেকে নিউ মার্কেট এলাকা,পেরিয়ে রাসমনি রোড থিক থিক করছে শুধু প্রতিবাদী মানুষের মাথা। জায়গায় জায়গায় এনআরসি বিরোধী স্লোগান,কোথাও বিজেপি আরএসএস বিরোধী পথ নাটক,কোাথাও লাগাতার ভাষণ কোথাও কোথাও ছাত্রদের প্রতিবাদী গান।ধর্মতলা জুড়ে যেন প্রতিবাদের মেলা। এরই মধ্যে নন্দন চত্বর থেকে শুরু হওয়া পড়ুয়াদের এক মিছিল সন্ধের সময় ধর্মতলা চত্বরে এসে পড়ে। তারা রাজভবনে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পুলিশ বার বার ব্যারিকেড করে ছাত্রদের আটতে রাখতে চেয়েছে নির্দিষ্ট সীামানায় তবু সম্মিলিত প্রতিবাদ ধ্বনি জানিয়ে দিয়েছে প্রয়োজনে তারা ভেঙে ফেলতে পারে যে কোন নিষেধের বেড়াজাল। এক সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থান মঞ্চের কাছে চলে অাসেন পড়ুয়ারা। উত্তেজনার খবর শুনে মঞ্চে ফের অাসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি পড়ুয়াদের শান্ত করতে উদ্যোগী হন। বোঝাতে চেষ্টা করেন তাদের অান্দোলনকে তিনিও সমর্থন করেন। কিন্তু পড়ুয়ারা মুখ্যমন্ত্রীর চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করেন কেন মোদীর সঙ্গে তিনি বৈঠক করলেন কেন  রাজ্যে nprএর কাজ এখনও চলছে ?   বার বার আওয়াজ তুলে ছাত্ররা  জানিয়ে দিয়েছেন এনআরসি ও সিএএর বিরোধিতা করতে হলে মুখ্যমন্ত্রীকে মোদীর সঙ্গে সব সখ্য ত্যাগ করতে হবে।তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রটোকলের যুক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরেও রাজভবনে গিয়ে একান্ত বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। মু্খ্যমন্ত্রীর এই আচরণকে ধিক্কার দিতে ভোলে নি প্রতিবাদী ছাত্র সমাজ.এদিন রানিরাসমনি অভ্যানিউতে মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি বিরোধী অবস্থান বিক্ষোভে রীতিমতো গলা তুলে প্রতিবাদী ছাত্ররা জানিয়ে দেয় প্রতিবাদ আর বিরোধিতা করতে মুল্য দিতে হয়,রাজনীতির সুবিধা আর সুযোগ হিসেব করে প্রতিবাদ হয় না।ছাত্রদের তুমুল বিক্ষোভে হকচকিত মুখ্যমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত তাঁর লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিল নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলতেই বিদ্রোহী ছাত্ররা বলে ওঠে এক লক্ষ হিসেবি মিছিলকারিদের চেয়ে একজন ক্ষুদিরাম একজন ভগত সিং এর প্রতিবাদ অনেক শক্তি ধরে কারণ সেটাই বিরুদ্ধতার ইতিহাস তৈরি করে।মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চেনা ঢঙে এর পর অনেক কথা বলে গেলেও ছাত্রদের প্রতিবাদী শারীরিক ভাষা ও জেদের কাছে তাঁকে নেহাতই ম্রিয়মান দেখিয়েছে। গোটা ধর্মতলা চত্তর এদিন ছিল প্রতিবাদের চড়া সুরে বাঁধা।কয়েক ঘন্টা গোটা শহর অচল করে দিয়ে রাজ্যের বিদ্রোহী তরুণ সম্প্রদায় জানিয়ে দিল এনআরসি বিরোধিতায়,মানুষে মানুষে বিভেদের বিরোধিতায় তারা রাস্তায় থাকবে,পাহাড়াদার হয়ে।রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায় নয় তারা থাকবেন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার লড়াইয়ের শপথ নিয়ে। দুপুর গড়িয়ে  রাত, অার তার পর সারা রাত ,শীতের কাঁপুনিকে উপেক্ষা করে পড়ুয়ারা বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা মোদিকে এই রাজ্যে চাইছেন না।
এদিন প্রতিবাদী মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে যতবার গো ব্যাক বলতে তার কাছাকাছি যেতে চেযেছে ততবার রাজ্য প্রশাসন তাদের বাধা দিয়েছে।বিকেলে প্রধানমন্ত্রী যখন জলপথে বেলুড়মঠে যাচ্ছেন তখন বাগবাজার ঘাটের কাছেও একদল তরুণ তাঁকে কালো পতাকা দেখাবার চেষ্টা করে বলে খবর।অভিযোগ এই কাজ করতে যাওয়ার জন্য শ্যামপুকুর থানার পুলিশ চার তরুণকে ধরে থানায় নিয়ে যায় ও তাদের বেদম প্রহার করে।ঘটনার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও রাজ্য সরকারের পুলিশ এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ রাজ্য মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের একাধিক সদস্যের। ভিঅাইপি রোড কৈখালি মোড়ে মোদি গো ব্যাক কর্মসূচীতে যোগ দিতে অাসা মানুষদের রাজারহাটে অাটকে দেয় পুলিস। অভিযোগ করেছে সিপিঅাই এল রেডস্টার।