Saturday, February 22, 2020
Home রাজ্য নির্ভয়ার ধর্ষণে দোষীদের ফাঁসির সাজা ফের উসকে দিচ্ছে ধনঞ্জয়ের ফাঁসির ঘটনাকে

নির্ভয়ার ধর্ষণে দোষীদের ফাঁসির সাজা ফের উসকে দিচ্ছে ধনঞ্জয়ের ফাঁসির ঘটনাকে

0
96

সাতদিন ডেস্কঃ  নির্ভয়া ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত ৪জনের ফাঁসির দিন নির্দিষ্ট হয়েছে ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে। সমাজের একটা বড় অংশের সমর্থন রয়েছে এই ফাঁসির পক্ষে। ধর্ষকদের ফাঁসি দিলেই কি সমাজে ধর্ষণের ঘটনা কমবে এই বিতর্ক ফের শুরু হয়েছে।শুধু গরীব ধর্ষকদেরই ফাঁসি দিয়ে রাষ্ট্র কী প্রমাণ করতে চায়? বিহারের মুজফরপুরের শ্লেটার হোমের নাবালিকাদের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তো কোন প্রভাবশালীর ফাঁসির দাবি ওঠে না। ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দের ফাঁসি চেয়ে কোন মোমবাতি মিছিল হয়েছে বলে শোনা যায়নি। উচ্চ অাদালতে উনাও ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সেনগার নির্দোষ প্রমাণ হবে না তো? ২০০৪ সালে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়ে এরাজ্যে  ফাঁসি দেওয়া হয় সিকিউরিটি গার্ড ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়কে। ধনঞ্জয় ফাঁসিও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।  ধনঞ্জয়ের ফাঁসির বিষয় গবেষণামূলক একটি বই প্রকাশ করেন কয়েকজন শিক্ষক। ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সেই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সাতদিনডটইনে। ফিরে দেখা সেই প্রতিবেদন।

  হেতাল পারেখকে ধর্ষণ করে খুনের অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল ধনঞ্জয় চ্যাটার্জী নামে এক নিরাপত্তারক্ষীকে। দিনটা ছিল ২০০৪ সালের ১৪ অগস্ট । সেই সময় তাঁর ফাঁসির পক্ষে সরব হয়েছিল মিডিয়া থেকে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রীর জায়া পর্যন্ত। রাস্তায় ফাঁসির পক্ষে পথে নেমেছিলেন একদল মানুষ। গুটি কয়েক মানুষ এই ফাঁসির বিরোধিতাও করেছিলেন। এবার সেই ফাঁসি নিয়ে বিতর্ককে ফের উস্কে দিল  আদালত- মিডিয়া- সমাজ  এবং ধনঞ্জয়ের ফাঁসি বইটি। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের দুই অধ্যাপক ও এক ইঞ্জিনিয়ারের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল এই বই। এই বইয়ের লেখক দেবাশিস সেনগুপ্ত. প্রবাল চৌধুরী ও পরমেশ গোস্বামীদের মতে ধনঞ্জয়কে সাজান প্রমাণের মাধ্যমে খুন করা হয়েছে। হয়তো ব আড়াল করা হয়েছে হেতালরের মা কে। গবেষণা ও ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণ করে লেখকেরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে হেতালকে ‘অনার কিলিংয়ের’ জন্য তার মা নিজেই খুন করে থাকতে পারেন।  যারা এই অপরাধ করে থাকতে পারতেন বলে ঘটনা পরম্পরায় দেখা যাচ্ছে তাঁদের ছাড় দিয়েছে পুলিস। পুলিসি তদন্ত আগাগোড়ায় হয় গলদে ভরা নয়তো সাজান। তাই পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা। তবে লেখকেরা সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তা আমাদের দেশের আইনে আদৌ সম্ভব কি না!

©