সরকারি ভুল শুধরাতেই কি সরস্বতী পুজোয় তিনদিনের ছুটি? ধর্মঘট নাকি কর্মসংস্কৃতি নষ্ট করে , এবার কী?

0
1518

অনুপম কাঞ্জিলাল-এবার সরস্বতী পুজোয় রাজ্য সরকার তিনদিন ছুটি ঘোষণা করল।প্রশ্ন হলো কেন তিন দিন ছুটি?গত কয়েক বছর যাবত রাজ্য সরকার সরস্বতী পুজোয় দুদিনের ছুটি দিয়ে আসছিল,এবার আচমকা তা একদিন বেড়ে গেল কী ভাবে?এর কারণ হলো সরকারি ক্যালেন্ডারে সরকার একটা ভুল করে বসেছিল,সেখানে ৩০ তারিখ সরস্বতী পুজো ধরে ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি সরকারি ছুটি ধার্য করা হয়।তবে পড়ে দেখা যায় এবার পঞ্জিকা মতে সরস্বতী পুজো ২৯ তারিখ।যদিও ৩০ তারিখ সকাল পর্যন্ত পঞ্চমী থাকছে তাই সেদিন সকালেও সরস্বতী পুজো হতে পারে।তবে ২৯ তারিখই পঞ্জিকা মতে সরস্বতী পুজোর নির্দিষ্ট দিন।সরকারি ক্যালেন্ডারে ৩০ ও ৩১ ছুটি বলা ছিল। তাই পঞ্জিকা মতের সঙ্গে সরকারি ছুটির হিসেব মিলছিল না সেই ভুল শুধরে নিতে এবার সরকার সরস্বতী পুজোর ছুটি আচমকাই একদিন বাড়িয়ে দিল।

সরস্বতী পুজোর এই তিন দিনের ছুটি হওয়াতে কার্যত সরকারি কাজ বন্ধ থাকবে টানা পাঁচদিন।বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সরস্বতী পুজোর ছুটির পর শনি ও রবিবারও সরকারি ছুটি।সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের টানা পাঁচদিন ছুটির ব্যবস্থা করে দিল সরকার।নিজেদের ক্যালেন্ডারে সরস্বতী পুজোর দিনক্ষণ নির্ধারনের ত্রুটির জন্য একটা আস্ত কাজের দিনকে নষ্ট করল রাজ্য সরকার।ছুটি নিয়ে রাজ্য সরকারের এই ছেলেখেলা করা নিয়ে কর্মীদের মধ্যেই অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।কেউ কেউ এ প্রশ্নও তুলছেন যে সরকার কর্মসংস্কৃতির দোহাই দিয়ে বনধ করা নিয়ে কর্মীদের চরম হুমকি দেয় তারাই এভাবে সরকারি ছুটি নিয়ে ছেলেখেলা করে কীভাবে? একাধিক সরকারি কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আদপে এক স্বৈরাচারি ও চুড়ান্ত অগণতান্ত্রিক মানসিকতা দ্বারা চালিত,কর্মীদের দাবি দাওয়া ও তাদের প্রাপ্য নিয়ে ন্যায্য লড়াইয়ের প্রতি মমতার কোন সহমর্মিতা কাজ করে না।সরকারি ছুটিকে উনি জমিদারি সুলভ মানসিকতায় বিলি করেন।এবারের এই সরস্বতী পুজোর ছুটি সে কথাই প্রমাণ করছে।সরকারি ছুটি নিয়ে এই ছেলেখেলা কতদিন চলবে সে প্রশ্নের কোন উত্তর সরকারি তরফে না মিললেও এটা পরিষ্কার বনধ ব্যর্থ করার জন্য যে কর্ম সংস্কৃতির বুলি রাজ্য সরকার আওড়ায় তা একেবারে বানানো ও মেকি।