NRC বিরোধিতায় ২০০৩ এর নাগরিকত্ব আইনকে সংশোধন ও NPR বাতিলের দাবি সিপিএমের

0
88

সাতদিন ডেস্কঃ-সোমবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এনআরসি,এনপিআর ও সিএএ বিরোধী প্রস্তাব পাশ করিয়ে মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোাপাধ্যায় সিপিএম ও কংগ্রেস বিধায়কদের প্রতি কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে দাবি করেছেন মোদী-দিদিকে এখনও যারা এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা এবার অন্তত বুঝতে চেষ্টা করুন এনআরসির বিরুদ্ধে লড়াইতে দিদি পিছু হঁটবেন না।এখানেই না থেমে মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম ও কংগ্রেসের বিধায়কদের প্রশ্ন করেন কেন তাদের রাজ্য প্রতিনিধিরা এনপিআর নিয়ে কেন্দ্রের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন?মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন একমাত্র পশ্চিমবঙ্গই  এনপিআর বৈঠকে যোগ না দিয়ে গোটা দেশে কেন্দ্রের এই নতুন আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দৃষ্টা্ন্ত স্থাপন করেছে।তবে বিরোধীরা এর পরেও মমতার সমালোচনা করতে ছাড়েন নি।

বিধানসভার বাইরে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করে সিপিএমের পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিধান সভায় যে প্রস্তাব পাশ করালেন তা খুবই নরম,আমরা চেয়েছিলাম এই প্রস্তাবের সঙ্গে সমস্যার মূল শিকড়টাকে চিহ্নিত করতে।সুজনবাবুর দাবি তারা সংশোধনী এনে জানাতে চেয়েছিলেন,২০০৩ সালে যে নাগরিকত্ব  আইন তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রস্তাব অানুক রাজ্য বিধানসভা ।২০০৩ সালের ঐ আইনই যাবতীয় সমস্যার হেতু বলে জানান সিপিএমের পরিষদীয় নেতা।সিপিএম নেতার অভিযোগ যেহেতু সেই সময় মমতা নিজেই এনডিএর শরিক ছিলেন তাই তিনি সেই আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পেশ করতে রাজি হলেন না।মূল সমস্যাকে ছেড়ে আপাত  বিরোধিতা করার ব্যবস্থা হল। সুজনবাবু বলেন সময়ের দাবিতে আমরা এটা সমর্থন করলাম,কারণ এটা মন্দের ভাল। তবে আমরা মনে করি ২০০৩ এর সেই কুখ্যাত আইনের বিরোধিতা না করে এআরসি,এনপিআর ও সিএএর বিরুদ্ধে লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। সোমবারের প্রস্তাবে এ রাজ্যে এনপিআর বাতিলের কথাও সিপিএম ও কংগ্রেস বলেছিল বলে দাবি করেন সুজন চক্রবর্তী।তার মতে রাজ্য সরকার যখন এনপিআর বিরোধী প্রস্তাবে সায় দিচ্ছে তখন কেন তারা এ রাজ্যে এনপিআর স্থগিত বলছেন,কেন বলছেন না তা বাতিল করা হবে?

মানবাধিকার অান্দোলনের কর্মীরা ও নাগরিক সমাজের অনেকেই অাগে থেকে দাবি করছেন রাজ্যে এনপিঅার বাতিলের। এবার সেই দাবিতে সোচ্চার হল সিপিএম। সোমবার রাজ্য বিধান সভায় রাজ্য সরকারের প্রস্তাবে সায় দিলেও নতুন নাগরিক সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে রাজ্যের শাসক দল ও সিপিএম -কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব যে বহাল থাকবে তা পরিষ্কার। যদিও এখনও পর্যন্ত কোন বিজেপি সরকার রাজ্যে NPR বিরোধি প্রস্তাব বিধানসভায় পাশ করেনি। এনপিঅারের  কাজও এখনও পর্যন্ত স্থগিত করেছে কেরল ও পশ্চিমবঙ্গ। তাসত্ত্বেও সিপিএম এখনও মনে করে মোদীকে চটিয়ে মমতা খুব বেশীদূর এগুবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।রাজ্য কংগ্রেস সিপিএমের এই মতের সঙ্গে একমত হলেও দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্ব যে সবসময় এই একই সুরে বাজবে না তা বার বার পরিষ্কার হয়ে গেছে।এখন দেখার CAA NPR NRC বিরোধী লড়াই ঠিক কী রূপ পায়।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে অাগামী দিনে বিজেপি  ধর্মীয় মেরুকরণের পথে হেঁটেই ক্ষমতা টিকে থাকতে চাইবে। সিএএ এর সমর্থনে যাত্রা তার ব্যতিক্রম নয়। এখন দেখার বিজেপির চড়া সুর মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে কোন দল নাগরিকদের পাশে থাকে, অার কোন দল সরে পড়ে।